ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেছেন, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরাপদ ও মানবিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কাজ করবে। এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ও বিভিন্ন বিভাগে প্রবেশগম্য পাঠকক্ষ, উন্নত পাঠপ্রযুক্তি ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের ফুটপাত ও চলাচলের পথ প্রতিবন্ধীবান্ধব করা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বিশ্ব সাদা ছড়ি নিরাপত্তা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আজ শনিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাদা ছড়ি বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ১৬০ জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মধ্যে সাদা ছড়ি ও আর্থিক সহায়তা বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রী মোঃ শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এমপি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের কমপ্লেইন্ট অ্যান্ড ভিজিল্যান্স কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মোঃ আব্দুল মতিন এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. মোঃ আতিকুল ইসলাম।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, সাদা ছড়ি কোনো দুর্বলতার প্রতীক নয়; এটি স্বাধীনতা, আত্মনির্ভরশীলতা ও নিজের পথ নিজে খুঁজে নেওয়ার সাহসের প্রতীক। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মেধা, অধ্যবসায় ও অন্তর্দৃষ্টি কোনো অংশেই কম নয়। তাঁদের সক্ষমতা ও অর্জনকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া এবং শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা সমাজের দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার আদর্শ ধারণ করে আসছে। কোনো শিক্ষার্থী যেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতার কারণে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সচেতন। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের চলাচল, শ্রেণিকক্ষে অংশগ্রহণ ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ ব্যবহারের সুযোগ বাড়াতে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হবে। তাঁদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁদেরই বিশ্ববিদ্যালয়। তাঁরা যেন কখনো নিজেদের একা মনে না করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানি সম্পদমন্ত্রী বলেন, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিরাপদ চলাচল, স্বাধীনতা, আত্মমর্যাদা ও আত্মনির্ভরশীলতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব। তাঁদের শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক অংশগ্রহণের সুযোগ সম্প্রসারণে সবাইকে আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা তাঁদের মেধা ও চিন্তাশক্তির মাধ্যমে নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিচ্ছেন। তাঁদের এগিয়ে চলার পথে প্রয়োজনীয় সুযোগ সৃষ্টি করা এবং দৈনন্দিন জীবনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিদের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, সাদা ছড়ি শুধু চলাচলের সহায়ক উপকরণ নয়; এটি দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বাধীনতা, আত্মবিশ্বাস ও নিরাপদ পথচলার প্রতীক। তাঁদের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শনের পাশাপাশি বাস্তব জীবনে সমান সুযোগ ও অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের প্রিন্সিপাল প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান। তাঁর উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন আহাদ ফাউন্ডেশন, কাইতলা, নবীনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন সৈয়দ আবু আহাদ।
সাননিউজ/বান্না