নারীদের দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, মূত্রনালির সংক্রমণসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা। পাশাপাশি অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনও কিডনির স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। উদ্বেগের বিষয় হলো, রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় তেমন কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না। ফলে অনেকেই বুঝতে পারেন না যে তাঁদের কিডনির কার্যকারিতা কমে যাচ্ছে। তাই সম্ভাব্য কিছু লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবিটিস দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করালে এসব সমস্যা অজানা থেকে যেতে পারে। এতে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু করতে দেরি হয়, যা ধীরে ধীরে কিডনির কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।
এ ছাড়া নারীদের মধ্যে মূত্রনালির সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। লুপাস নেফ্রাইটিসের মতো অটোইমিউন রোগও কিডনির ক্ষতি করতে পারে। গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ, বারবার সংক্রমণ এবং পানিশূন্যতার মতো সমস্যাও কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
কিডনি রোগের ৫টি লক্ষণ, যেগুলো অবহেলা করবেন না
১. সকালে চোখ ও মুখ ফুলে যাওয়া
সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর চোখের চারপাশ কিংবা মুখ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে থাকলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। কিডনি ঠিকমতো কাজ না করলে শরীরে অতিরিক্ত তরল জমতে পারে। আবার প্রস্রাবের সঙ্গে অতিরিক্ত প্রোটিন বেরিয়ে গেলেও শরীরে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। নিয়মিত এমন সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
২. পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া
পায়ের পাতা, গোড়ালি কিংবা পা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া কিডনির সমস্যার সম্ভাব্য লক্ষণ হতে পারে। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে শরীর থেকে অতিরিক্ত লবণ ও পানি বের হতে অসুবিধা হয়। ফলে শরীরে তরল জমে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। তবে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, শিরার সমস্যা ও হৃদ্রোগের কারণেও এমন হতে পারে।
৩. পেশিতে ব্যথা বা খিঁচুনি
শরীরে পানি ও বিভিন্ন খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে কিডনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত হলে সোডিয়াম, পটাশিয়াম ও অন্যান্য খনিজের ভারসাম্যে পরিবর্তন আসতে পারে। এর ফলে পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা কিংবা খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। এমন সমস্যা বারবার হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
৪. শ্বাসকষ্ট কিংবা বুকে চাপ অনুভব করা
কিডনির গুরুতর সমস্যার কারণে শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে ফুসফুসে প্রভাব ফেলতে পারে। এতে শ্বাস নিতে কষ্ট হতে পারে। আবার কিডনি রোগের সঙ্গে হৃদ্যন্ত্রের সমস্যাও সম্পর্কিত হতে পারে। শ্বাসকষ্টের সঙ্গে বুকে ব্যথা বা চাপ অনুভূত হলে দেরি না করে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।
৫. প্রস্রাবের ধরনে পরিবর্তন
প্রস্রাবের পরিমাণ, রং কিংবা ধরনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। যেমন—
তবে এসব পরিবর্তনের পেছনে অন্য কারণও থাকতে পারে। বিশেষ করে প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে কিংবা প্রস্রাবের পরিমাণ হঠাৎ অনেক কমে গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
কিডনি সুস্থ রাখতে করণীয়
কিডনির রোগের ঝুঁকি কমাতে দৈনন্দিন জীবনে কিছু অভ্যাস গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
চোখ-মুখ বা পা নিয়মিত ফুলে যাওয়া, প্রস্রাবের ধরনে পরিবর্তন কিংবা অস্বাভাবিক ক্লান্তির মতো সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক রক্তে ক্রিয়েটিনিন ও ইজিএফআর পরীক্ষা এবং প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা প্রোটিন পরীক্ষার পরামর্শ দিতে পারেন।
তবে মনে রাখতে হবে, এসব লক্ষণ দেখা দিলেই কিডনি রোগ হয়েছে—এমন নয়। অন্য অনেক শারীরিক সমস্যার কারণেও একই উপসর্গ দেখা দিতে পারে। আবার দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো লক্ষণ নাও থাকতে পারে।
তাই শুধু উপসর্গের ওপর নির্ভর না করে ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের নিয়মিত পরীক্ষা করানো এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই কিডনির স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ।
সান নিউজ/ রাব্বি