সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বহুল আলোচিত ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ মোট সাতজনকে আটক করেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এসআরবি-৩। আজ শুক্রবার বিকেলে কারওয়ান বাজারে সংস্থার মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান সংস্থাটির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন। আটককৃতদের একটি বড় অংশ বিভিন্ন সরকারি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই সংঘবদ্ধ চক্রের জালে জড়িয়ে পড়া সাতজনের মধ্যে পাঁচজনই বিভিন্ন সরকারি সংস্থায় চাকরি করছেন। এদের মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের একজন ডাটা এন্ট্রি অপারেটর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কম্পিউটার অপারেটর ও অফিস সহায়ক এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক পদমর্যাদার কর্মীরাও রয়েছেন।
অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্র, স্ট্যাম্প, ব্যাংকের চেক, মূল শিক্ষাগত সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত বেশ কিছু মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে যে, প্রতিটি চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে প্রশ্নপত্র সরবরাহের বিনিময়ে এই চক্রটি আট থেকে দশ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল।
তবে প্রশ্নপত্রটি ঠিক কোন উৎস থেকে বা কার হাত ধরে প্রথম বাইরে এসেছে, সে বিষয়ে অভিযুক্তরা সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেনি। বর্তমানে মূল হোতাদের চিহ্নিত করতে গোয়েন্দা নজরদারি ও জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে।
এই অপরাধ চক্রের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক ব্যক্তিরা হলেন—পরিবেশ অধিদপ্তরের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মো. রুবেল ইসলাম, চাকরিপ্রার্থী মো. মফিজুল ইসলাম ও মো. হাসিনুর রহমান সুজন। এছাড়া এনবিআরের কম্পিউটার অপারেটর এস এম ইমদাদুল ইসলাম ও জাহাঙ্গীর, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক আসাদুল ইসলাম এবং এনবিআরের আরেক অফিস সহায়ক নূর মোহাম্মদও এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ১০ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের অধীনে ২৪২টি শূন্য পদে লোকবল নেওয়ার লক্ষ্যে প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা নির্ধারিত ছিল।
এই বিশাল প্রতিযোগিতায় প্রায় তিন লক্ষাধিক চাকরিপ্রার্থী অংশ নেওয়ার কথা ছিল। তবে পরীক্ষা শুরু হওয়ার ঠিক মিনিট সাতেক আগে, অর্থাৎ সকাল দশটা বেজে তিন মিনিটে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ আকস্মিকভাকে পরীক্ষাটি বাতিল ঘোষণা করে।
ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মতিঝিল থানায় একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করে এবং এসআরবি ছায়া তদন্ত শুরু করে। এরই ফলশ্রুতিতে গত ১৪, ১৫ ও ১৬ অক্টোবর রাজধানী ঢাকা ও সাভারের বিভিন্ন এলাকায় সুনির্দিষ্ট ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে চক্রের এই সাত সদস্যকে একে একে পাকড়াও করা হয়।
সান নিউজ / রাজীব