রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলায় পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে বন্যা পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতি হচ্ছে। বিশেষ করে দুর্গম ফারুয়া ইউনিয়নে পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি সংকটাপন্ন হয়ে উঠেছে। উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপ এবং রাইংখ্যং নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পুরো অঞ্চলজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ফারুয়া বাজার পুরোপুরি পানির নিচে চলে গেছে। বাজারের শতাধিক দোকানে কোমরসমান পানি জমে থাকায় সব ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। শুধু বাজারই নয়, আশপাশের বসতবাড়ি ও সড়কও তলিয়ে গেছে। এতে হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
বন্যার পানিতে ঘরবাড়ি ডুবে যাওয়ায় অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন ফারুয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে। তবে আশ্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা কম হওয়ায় সেখানে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি মানুষ অবস্থান করছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
এদিকে নদীর প্রবল স্রোতের কারণে দুর্গত এলাকায় ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানো যাচ্ছে না। উপজেলা প্রশাসন একাধিকবার নৌকা নিয়ে সেখানে যাওয়ার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়েছে। স্রোতের তীব্রতা এত বেশি যে নৌযান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত সীমান্ত সড়কও ভারী বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ধসে পড়ায় সেই পথেও যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে পুরো এলাকা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরাসরি ত্রাণ পৌঁছানো সম্ভব না হলেও স্থানীয়ভাবে খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহ করে দুর্গতদের সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আবহাওয়ার উন্নতির অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বন্যাকবলিতদের জন্য চারটি আশ্রয়কেন্দ্র চালু রয়েছে। তবে দুর্গম এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
সার্বিকভাবে, পাহাড়ি ঢলের এই বন্যা পরিস্থিতি রাঙামাটির মানুষের জন্য বড় ধরনের দুর্ভোগ ডেকে এনেছে এবং দ্রুত সমাধানের জন্য জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।