সাভারে জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) পদযাত্রা কর্মসূচি শেষে সমাবেশ চলাকালে বিস্ফোরণের ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে। মঙ্গলবার দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাখাওয়াত ইমতিয়াজ। এর আগে সোমবার দিবাগত রাতে এনসিপির ঢাকা জেলা উত্তরের সদস্য সচিব মোঃ সালামত উল্লাহ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে বিস্ফোরণের পেছনে কোনো নিষিদ্ধ গোষ্ঠীর সংঘবদ্ধ সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের দুই নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর থানা এলাকার পূর্ব ভাকুম গ্রামের মোঃ নুরুল ইসলাম (৫২) ও সাভার পৌর এলাকার আনন্দপুর মহল্লার মোঃ সজীব (৩২)। তারা দুজনই সাভারের আনন্দপুর মহল্লায় বসবাস করতেন।
ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক সাইদুল ইসলাম বলেন, সোমবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে সাভারের আনন্দপুর থেকে দুজনকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে নুরুল ইসলাম সিংগাইর থানার একটি ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সজীব সাভার যুবলীগের কর্মী। তাঁদের সাভার মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মামলার সংক্ষিপ্ত এজাহারে উল্লেখ করা হয়, এনসিপির পূর্বঘোষিত জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচির একটি সমাবেশ সাভার মডেল থানার তারাপুর ঈদগাহ মাঠে আয়োজন করা হয়।
সন্ধ্যার পর সমাবেশের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে দলের আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মোঃ নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা সমাবেশস্থলে পৌঁছান। কেন্দ্রীয় নেতারা মঞ্চে ওঠার ৫ থেকে ১০ মিনিট আগে বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে সমাবেশস্থল অন্ধকার হয়ে পড়ে। পরে জেনারেটরের মাধ্যমে আলোর ব্যবস্থা হলেও তা ছিল অপর্যাপ্ত। আয়োজকেরা বিদ্যুৎ কার্যালয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। আনুমানিক রাত ৯টা ৪২ মিনিটে নেতাদের বক্তব্য চলাকালে মঞ্চ থেকে ১০ থেকে ১৫ ফুট সামনে হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে চারদিক সাদা ধোঁয়ায় ছেয়ে যায়। বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত লোকজন দিগ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করেন। এতে অনেকে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হন।
এজাহারে আরও বলা হয়, পরে সমাবেশ সংক্ষিপ্ত করে মামলা করার জন্য নেতা-কর্মীরা সাভার মডেল থানার দিকে যান। অজ্ঞাতনামা আসামিরা এনসিপির নেতাদের ও সাধারণ শ্রুতাদের হত্যার উদ্দেশ্যে এ বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে এজাহারে।
এনসিপির ঢাকা জেলা উত্তরের আহ্বায়ক নাবিলা তাসনিদ বলেন, ‘পুলিশের কাছে আমাদের প্রত্যাশা থাকবে, নিরপেক্ষ তদন্তের মধ্য দিয়ে প্রকৃত অপরাধীদের যেন আইনের আওতায় আনা হয়। নিরপেক্ষ তদন্তে যদি কেউ দোষী সাব্যস্ত হয়, সে যেই দলেরই হোক না কেন আমরা চাই তাঁর শাস্তি হোক। কিন্তু যদি কেউ নিরপরাধ হয়, তাহলে সে যদি আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) হোক, বিএনপি হোক, একজন নিরপরাধ লোক শাস্তি পাক এটা আমরা কখনোই চাই না।
ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) শামীমা পারভীন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ওই দুজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে গোয়েন্দা পুলিশ আটক করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁদের গতকাল রাতের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।