-
ভ্যেনু ও আয়োজন: মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে সোমবার (২ নভেম্বর) জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে পর্দা নামল রবি বোলার হান্ট ২০২৬-এর।
-
শ্রদ্ধাঞ্জলি: শুরুর পর্বে প্রয়াত কোচ মোসাদ্দেক হোসেন ছোটনের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
-
সেরা ২১ বিজয়ী: দেশব্যাপী বাছাইপর্বের কঠিন লড়াই পেরিয়ে চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেওয়া ৪২ জন বোলারের মধ্য থেকে ২১ জন সেরা পেসারকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হয় আরও দুজনকে।
-
নজরকাড়া পারফরম্যান্স: বাছাইপর্বে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৩৮ কিলোমিটার গতিতে বল করে তাক লাগিয়ে দেন তরুণ পেসার মাহির আবসার আবিদ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দলের কোচ ফিল সিমন্স ও মেন্টর মুশতাক আহমেদ।
-
বিসিবির ঘোষণা: বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল জানান, বিজয়ীরা সরাসরি হাই পারফরম্যান্স ইউনিটের অধীনে উন্নত প্রশিক্ষণ, চিকিৎসা ও ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবেন। এছাড়া ক্রিকেটারদের উন্নয়নে নতুন মেগা প্রকল্প আসছে বলেও জানান তিনি।
দেশের ক্রিকেট আঙিনায় দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এক নতুন রূপকথার জন্ম দিয়ে মিরপুরের ঐতিহাসিক শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে পর্দা নামল ‘রবি বোলার হান্ট ২০২৬’-এর গ্র্যান্ড ফিনালে। আজ সোমবার অনুষ্ঠিত এই বর্ণিল সমাপনী আসরের মূল আকর্ষণ ছিল দেশজুড়ে চলা তীব্র লড়াই পেরিয়ে চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেওয়া ৪২ জন দুর্দান্ত পেসারের মধ্যে থেকে সেরাদের সেরা ২১ জন তরুণ প্রতিভাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেওয়া।
অনুষ্ঠানে তাদের হাতে গৌরবোজ্জ্বল ট্রফি ও সম্মাননা তুলে দেওয়ার পাশাপাশি বিশেষ নৈপুণ্যের জন্য আরও দুজনকে বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। পুরো মিরপুর স্টেডিয়াম চত্বরজুড়ে তরুণ পেসারদের এমন মিলনমেলা এক অন্যরকম উন্মাদনার সৃষ্টি করেছিল।
যেভাবে ফাইনালে পৌঁছাল দেশের উদীয়মান তারকারা :
ক্রিকেট মহাযজ্ঞের এমন বর্ণাঢ্য আয়োজনের শুরুতেই এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রয়াত কিংবদন্তি কোচ মোসাদ্দেক হোসেন ছোটনের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুরো স্টেডিয়ামের সবাই এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। এরপর শুরু হয় মাঠের আসল লড়াই। দেশজুড়ে বিস্তৃত দীর্ঘ বাছাইপর্বের কঠিন বৈতরণী পার হয়ে মোট ৪২ জন তুখোড় বোলার এই গ্র্যান্ড ফিনালের মঞ্চে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণে লড়েছিলেন। তাদের এই অগ্নিপরীক্ষায় নিখুঁত বোলিং অ্যাকশন এবং গতির ঝড় তোলার বিষয়টি কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়।
বিশেষ করে, বাছাইপর্বের বিভিন্ন ধাপে ঘণ্টায় অবিশ্বাস্য ১৩৮ কিলোমিটার বেগে বল করে ক্রিকেটপ্রেমী ও নির্বাচকদের চোখ ধাঁধিয়ে দেন তরুণ উদীয়মান পেসার মাহির আবসার আবিদ। বিশ্বমানের কোচিং প্যানেল থেকে শুরু করে জাতীয় দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স এবং কিংবদন্তি স্পিন মেন্টর মুশতাক আহমেদের সরাসরি তত্ত্বাবধান ও তীক্ষ্ণ দৃষ্টি এই পুরো প্রতিভা অন্বেষণ কার্যক্রমকে নিয়ে গিয়েছিল অনন্য এক উচ্চতায়।
আগামীর তারকাদের জন্য বিসিবির বড় ঘোষণা :
বিজয়ীদের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়ার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল এক যুগান্তকারী ঘোষণা দিয়ে তরুণদের মনোবল বাড়িয়ে দেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, আজ যারা ট্রফি হাতে তুলেছে, তাদের আগামীর পথচলার শতভাগ দায়িত্ব এখন বোর্ডের কাঁধে। নির্বাচিত এই ২১ তরুণ প্রতিভাকে সরাসরি বিসিবির এক্সক্লুসিভ ‘হাই পারফরম্যান্স ইউনিটের’ অধীনে রেখে নিখুঁত ও আধুনিক প্রশিক্ষণ, উন্নত চিকিৎসা সেবা এবং যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে, যাতে তারা নিজেদের সর্বোচ্চটা মেলে ধরতে পারে।
একই সঙ্গে, যারা চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা করে নিতে পারেনি, তাদের উদ্দেশে তামিম আশার বাণী শুনিয়ে বলেন, আজকের এই একটিমাত্র ফলের ওপর কারো ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যায় না; স্বপ্ন টিকিয়ে রেখে সামনে আরও বহু পথ পাড়ি দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া দেশের পাইপলাইন আরও শক্তিশালী করতে বোর্ড নতুন একটি মেগা প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে এবং খুব দ্রুতই সেটির শুভসূচনা করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বিসিবি বস তামিম ইকবাল ।
রবি আজিয়াটার অঙ্গীকার ও স্পন্সরদের প্রতি বিশেষ আহ্বান :
তারুণ্যের শক্তির ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে রবি আজিয়াটা পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াদ সাতারা তার বক্তব্যে বলেন, দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে লুকিয়ে থাকা রত্ন খুঁজে বের করে তাদের জন্য একটি অর্থবহ ক্যারিয়ারের সুযোগ তৈরি করে দিতে রবি সবসময় বদ্ধপরিকর।
এমন ব্যতিক্রমী প্ল্যাটফর্ম সম্ভাবনাময় ক্রিকেটারদের নিজেদের আসল প্রতিভা বিশ্বমঞ্চে ফুটিয়ে তোলার এবং স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার সিঁড়ি হিসেবে কাজ করবে। সমাপনী মঞ্চে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালও দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা রত্নদের দ্রুততম সময়ে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ও পর্যাপ্ত ম্যাচ খেলার সুযোগ করে দিতে করপোরেট দুনিয়া ও স্পন্সরদের আরও জোরালোভাবে এগিয়ে আসার উদাত্ত আহ্বান জানান।
সান নিউজ / রাজীব