ব্রাজিলের রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের এক নাটকীয় ও উত্তাল অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে শ্বাসরুদ্ধকর নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর অতি গোপনীয়তায় ব্রাজিল ত্যাগ করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর পুত্র তথা ডানপন্থী সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো।
বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা এই প্রভাবশালী নেতা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, ক্ষমতার লড়াইয়ে তিনি হার মানছেন না। ২০৩০ সালের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন পর্যন্ত না থেকে, পরিস্থিতির প্রয়োজনে তার অনেক আগেই তিনি ব্রাজিলের মসনদ দখলের লড়াইয়ে ফের মাঠে নামবেন বলে হুংকার ছেড়েছেন। তিনি বলেন, বর্তমান লুলা সরকার বিরোধীদের কন্ঠরোধ করতে যা যা করার দরকার ঠিক তাই করছে।
নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে ব্যর্থ হওয়ার পরপরই ফ্লাভিও বলসোনারোর জীবনে নেমে আসে আইনি খড়্গ। অর্থপাচারের এক জটিল ও স্পর্শকাতর মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট সরাসরি নির্দেশ দিয়েছিল অবিলম্বে তার পাসপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য। কিন্তু আদালতের বেঁধে দেওয়া সেই ডেডলাইন বা সময়সীমা পুরোপুরি উপেক্ষা করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাত থেকে বাঁচতে তড়িঘড়ি দেশ ছাড়েন তিনি।
ফ্লাভিওর এমন পলায়নপর ও সন্দেহজনক প্রস্থানকে হাতেনাতে লুফে নিয়েছে বর্তমান লুলা প্রশাসন। দেশের বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা অত্যন্ত শ্লেষাত্মক সুরে কটাক্ষ করে বলেছেন যে, বলসোনারো পরিবারের কাছে স্বাধীন সার্বভৌম ব্রাজিল কখনোই তাদের প্রথম অগ্রাধিকার ছিল না; বরং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই তাদের চিরকালের আসল আশ্রয়স্থল ও আরামের ঠিকানা।
আমেরিকার মাটিতে পা রেখেই ফ্লাভিও বলসোনারো শান্ত হয়ে বসে নেই। দূর প্রবাসে বসেই তিনি ব্রাজিলিয়ান বিচারব্যবস্থা এবং বর্তমান শাসক দলের বিরুদ্ধে একরোখা আক্রমণ শাণিয়েছেন।
তার জোরালো অভিযোগ, সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আজ্ঞাবহ বিচারব্যবস্থাকে ব্যবহার করে বর্তমান সরকার বিরোধী মত ও কন্ঠস্বর চিরতরে স্তব্ধ করে দিতে চাইছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাঠানো তার এই রাজনৈতিক বার্তার মূল লক্ষ্য হলো দেশের মাটিতে থাকা হতাশ সমর্থকদের মানসিকভাবে চাঙ্গা করা এবং পুনর্গঠিত করা। ফ্লাভিও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আইনি দমনপীড়ন চালিয়ে তাকে বা তার পরিবারকে দমিয়ে রাখা যাবে না।
সুদূর আমেরিকা থেকে ব্রাসিলিয়ার ক্ষমতার করিডোর কাঁপিয়ে দেওয়ার ছক কষছেন এই ডানপন্থী নেতা। তার এই আকস্মিক দেশত্যাগ এবং হুংকারের ফলে দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটির রাজনীতির পারদ এখন চরম সীমানায় গিয়ে ঠেকেছে।
সান নিউজ / রাজীব