অমর্ত্য সেন। ছবি : সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক

হিংসা থেকে মুক্তি আমাদের সকলের অধিকার : অমর্ত্য সেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
এক নজরে যাদবপুর ও এসআরএফটিআই হামলা বিতর্ক :
  • অমর্ত্য সেনের উদ্বেগ: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ও এসআরএফটিআইয়ে হামলার ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বলেছেন, "হিংসা থেকে মুক্তি আমাদের সকলের অধিকার।" পাশাপাশি তিনি যাদবপুরের ঘটনায় সাম্প্রদায়িক অভিসন্ধির তীব্র নিন্দা জানান।

  • সংবাদ সম্মেলন ও বার্তা: যাদবপুরের স্বায়ত্তশাসন রক্ষার দাবিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অমর্ত্য সেনের লিখিত বার্তাটি পাঠ করেন প্রাক্তনী শিবাজী দে। ই-মেইলে পাঠানো ওই বার্তায় তিনি ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেন।

  • বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্পর্ক: প্রায় ৭০ বছর আগে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান হিসেবে শিক্ষকতা শুরু করেছিলেন অমর্ত্য সেন, ফলে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর গভীর আবেগ জড়িত।

  • হামলার পটভূমি: গত ১৯-২০ আগস্ট যাদবপুর ক্যাম্পাসে এবং গত ২৭ সেপ্টেম্বর সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড ইনস্টিটিউটে (SRFTI) বহিরাগতদের তাণ্ডব ও হামলার ঘটনার পরই মূলত এই ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

  • প্রধান দাবি ও প্রতিবাদ: সংবাদ সম্মেলনে জেএনইউ ও জামিয়ার মতো ক্যাম্পাসে দখলদারির রাজনীতি বন্ধ করা, আচার্যের জোরালো হস্তক্ষেপ এবং বিতর্কিত ‘আইএসআই বিল ২০২৬’-এর মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বায়ত্তশাসন খর্ব করার চেষ্টার তীব্র সমালোচনা করা হয়।

ভারতের প্রথম সারির উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে লাগাতার রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক আগ্রাসনের ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্বখ্যাত নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন।

সম্প্রতি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় এবং সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে (এসআরএফটিআই) যেভাবে বহিরাগতদের মদদে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে, তার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, যেকোনো ধরনের হিংসার অন্ধকার থেকে মুক্তি পাওয়া প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার।

বিশেষ করে যাদবপুর চত্বরে সাম্প্রতিক হামলার নেপথ্যে লুকিয়ে থাকা কুৎসিত সাম্প্রদায়িক অভিসন্ধির বিরুদ্ধেও দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ধিক্কার জানিয়েছেন এই প্রবীণ পন্ডিত।

গত বৃহস্পতিবার যাদবপুর ক্যাম্পাসের পঠনপাঠনের পবিত্র স্বাধীনতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসন পুনরুদ্ধারের দাবিতে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে অমর্ত্য সেনের সেই জোরালো লিখিত বার্তাটি জনসমক্ষে পাঠ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও প্রবীণ শিক্ষকদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে অমর্ত্য সেনের বার্তাটি পড়ে শোনান প্রতিষ্ঠানটিরই এক প্রাক্তনী শিবাজী দে।

জানা গেছে, ‘গ্লোবাল যাদবপুর ইউনিভার্সিটি অ্যালামনি ফাউন্ডেশন’-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা শুভেন্দু ভদ্রের কাছে পাঠানো একটি ব্যক্তিগত ই-মেইল বার্তায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি নিজের পূর্ণ নৈতিক সংহতি জানিয়েছেন নোবেলজয়ী এই অর্থনীতিবিদ। সেই বার্তায় তিনি হতাশা ও বিস্ময় প্রকাশ করে লিখেছেন, যাদবপুর প্রাঙ্গণে যেভাবে একের পর এক ভয়ানক হামলা চালানো হয়েছে, তাতে তিনি গভীরভাবে স্তম্ভিত।

সাধারণ মানুষ ও তরুণ প্রজন্মকে যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক ও দলীয় হিংসার হাত থেকে রক্ষা করার ঐতিহাসিক দায়িত্ব আজ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি তীব্র ও জরুরি হয়ে দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের উচ্চশিক্ষার চত্বরগুলোতে আজ শিক্ষার্থীদের বেঁচে থাকা এবং নিরাপদে পড়ার জন্য সর্বাত্মক সমর্থন ও সুরক্ষার প্রয়োজন রয়েছে।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে নিজের সুদীর্ঘ ও আবেগময় সম্পর্কের স্মৃতিচারণ করে অমর্ত্য সেন উল্লেখ করেন যে, ঠিক আজ থেকে প্রায় ৭০ বছর আগে এই স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের অর্থনীতি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান হিসেবে তিনি তাঁর বর্ণাঢ্য শিক্ষকতা জীবন শুরু করেছিলেন।

ফলে এই ক্যাম্পাসের প্রতিটি ইটের সঙ্গে তাঁর এক গভীর আত্মিক টান রয়েছে। তবে ব্যক্তিগত স্মৃতির গণ্ডি পেরিয়ে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, জাতি, ধর্ম বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে গিয়ে নিরাপত্তা এবং ভয়হীন পরিবেশে বসবাস করার অধিকার দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। আর সেই কারণেই যাদবপুরে ঘটে যাওয়া বর্বরোচিত ঘটনার নেপথ্যে থাকা সাম্প্রদায়িক উস্কানিকে তিনি তীব্র ভাষায় ধিক্কার জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ১৯ আগস্ট গভীর রাত থেকে শুরু করে ২০ আগস্ট বিকালের মধ্যে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসের ভেতরে ও বাইরে বহিরাগত কিছু উগ্র রাজনৈতিক উপাদানেরা একের পর এক তাণ্ডব চালায় বলে গুরুতর অভিযোগ ওঠে।

এর রেশ কাটতে না কাটতেই গত ২৭ সেপ্টেম্বর কলকাতার স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটেও (SRFTI) একটি বিশেষ রাজনৈতিক সংগঠনের মদদে হামলার ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। একের পর এক এমন সহিংসতায় দেশের শিক্ষাঙ্গনগুলোতে শিক্ষার পরিবেশ, শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন ও গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে যাদবপুর ও এসআরএফটিআই ছাড়াও জেএনইউ (JNU) এবং জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার মতো দেশের নামী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিশেষ একটি মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত সংগঠনের আগ্রাসী দখলদারির রাজনীতি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কুক্ষিগত করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে জোরালো আলোচনা হয়।

এই নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি থেকে ক্যাম্পাসগুলোকে বাঁচাতে আচার্যের তরফ থেকে অবিলম্বে কঠোর ও ফলপ্রসূ হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন উপস্থিত প্রাক্তনী ও শিক্ষকমণ্ডলী।

পাশাপাশি, সাম্প্রতিক ‘আইএসআই বিল ২০২৬’-এর মতো বিতর্কিত আইনের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসনকে সম্পূর্ণভাবে খর্ব করার ষড়যন্ত্র চলছে বলেও তীব্র সমালোচনা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়া যাদবপুরের প্রাক্তনী ও বিশিষ্ট সাবেক শিক্ষক তরুণকান্তি নস্কর অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে জানান যে, বর্তমানে ক্যাম্পাসে যে ভীতিকর ও দমবন্ধ করা পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে, তাতে স্বাভাবিক জ্ঞানচর্চা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

সরকার শিক্ষা ও গবেষণার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খাতে প্রয়োজনীয় অর্থ বা বাজেট বরাদ্দ না বাড়িয়ে উল্টো প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার হীন খেলায় মেতে উঠেছে। এই সংকটময় অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য খুব শীঘ্রই দেশের খ্যাতিমান শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষাবিদদের নিয়ে একটি বড় মাপের জাতীয় সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনা চলছে বলে তিনি ঘোষণা করেন।

সান নিউজ / রাজীব

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

প্রান্তিক নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেওয়া হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীদের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এবং নারীস্ব...

জামায়াত ক্ষমতায় যেতে ভারতের সঙ্গে লিয়াজোঁ শুরু করেছে : রাশেদ খান

ক্ষমতা দখলের অভিপ্রায়ে ভারত সরকারের সাথে জামায়াতে ইসলামী যোগাযোগ বা গোপন সম...

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাশের হার ৫২.১২ শতাংশ

২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা