-
যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশ: সৌদি আরবে নিযুক্ত জরুরি নয় এমন মার্কিন সরকারি কর্মকর্তা এবং তাঁদের পরিবারকে অবিলম্বে দেশটি ছেড়ে যাওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
-
মূল কারণ: ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ক্রমবর্ধমান এবং প্রাণঘাতী ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা।
-
বিমান চলাচলে বিপর্যয়: রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দর আংশিক চালু থাকলেও জেদ্দা ও দাম্মামে ফ্লাইট চলাচল বিলম্বিত হচ্ছে এবং অনেক ফ্লাইট বাতিল করা হচ্ছে। মার্কিন কর্মীদের বিমান ব্যবহারের জন্য এখন থেকে বিশেষ অনুমতি নিতে হবে।
-
কঠোর নিষেধাজ্ঞা: সৌদি আরবে আকাশপথে চলার সময় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দৃশ্য বা হামলার স্থানের ছবি তোলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ বলে জানানো হয়েছে।
-
সাম্প্রতিক সংঘর্ষ: সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট সম্প্রতি রিয়াদ ও দেশের পশ্চিমাঞ্চল লক্ষ্য করে হুতিদের ছোড়া একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন সফলভাবে মাঝ আকাশে ধ্বংস করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে হঠাৎ করেই উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের লাগাতার ও ভয়ংকর সব ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে সৌদি আরব ছাড়ার কড়া নির্দেশ জারি করেছে ওয়াশিংটন।
এই নির্দেশ প্রযোজ্য হবে দেশটিতে অবস্থানরত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অন্য সব মার্কিন সরকারি কর্মী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের ওপর। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এমন এক জটিল মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে, যা বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে সম্প্রতি জারি করা এক জরুরি ও কঠোর সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, সৌদি আরবের কৌশলগত বেসামরিক বিমানবন্দরগুলো এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হুতিরা যেভাবে একের পর এক প্রাণঘাতী হামলা চালাচ্ছে, তাতে যেকোনো সময় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে।
এসব হামলায় ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষের হতাহতের ঘটনা ঘটেছে এবং বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে গোটা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা। যেকোনো মুহূর্তে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে এবং এই সংঘাত পুরো অঞ্চলে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ার পূর্ণ আশঙ্কা রয়েছে।
বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে মার্কিন প্রশাসন কঠোর নিরাপত্তা প্রটোকল চালু করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সাম্প্রতিক দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর থেকে সৌদি আরবের আকাশপথ বা বিমানবন্দর ব্যবহার করার আগে দেশটির যেকোনো মার্কিন সরকারি কর্মীকে অবশ্যই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিশেষ অনুমতি নিতে হবে।
এদিকে, হুতি বিদ্রোহীদের একের পর এক মরণঘাতী হামলার মুখে সৌদি আরবের প্রধান বিমানবন্দরগুলোর কার্যক্রমে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি আংশিক সচল রাখা সম্ভব হয়েছে।
তবে জেদ্দা এবং দাম্মামের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট চলাচল চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের বহু পরে বিমান ছেড়ে যাচ্ছে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে অনেক আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরবে অবস্থানরত সাধারণ মার্কিন নাগরিকদেরও সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে দূতাবাস। বিশেষ করে আকাশপথে চলাচলের সময় প্রত্যেককে বাড়তি সাবলীল ও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, হুতিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র আকাশে প্রতিহত করার রোমাঞ্চকর বা ভীতিপ্রদ দৃশ্য কিংবা হামলার কোনো ক্ষতিগ্রস্ত স্থানের ছবি বা ভিডিও ধারণ করা থেকে কঠোরভাবে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
সৌদি আরবের কঠোর স্থানীয় আইন অনুযায়ী এ ধরনের ছবি তোলা বা প্রচার করা সম্পূর্ণ বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ, যার পরিণতি হতে পারে অত্যন্ত মারাত্মক।
উল্লেখ্য, সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ও হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যকার এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত থামার কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। গত বৃহস্পতিবারই সামরিক জোট এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সৌদির রাজধানী রিয়াদকে লক্ষ্য করে তীব্র গতিতে ছুটে আসা দুটি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে মাঝ আকাশে প্রতিহত ও ধ্বংস করে দিয়েছে তাদের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা।
এর রেশ কাটতে না কাটতেই গতকাল শুক্রবার সামরিক জোট আরও জানিয়েছে, সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলকে প্রধান টার্গেট করে হুতিদের ছোড়া একটি অত্যন্ত ধ্বংসাত্মক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং একই সঙ্গে রিয়াদ অঞ্চলের দিকে ধেয়ে আসা একটি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন সফলভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি এই হামলায় পুরো আরব উপদ্বীপে এখন চরম যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে।
সান নিউজ / রাজীব