ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়

রোহিঙ্গা সংকটে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে এ সংকটের স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে বিশ্ব সম্প্রদায় তথা আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টা আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: কানাডার নাগরিকদের ভিসা দেয়া স্থগিত

বৃহস্পতিবার (২১ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৮ তম অধিবেশনের ফাঁকে বাংলাদেশ, কানাডা, গাম্বিয়া, মালয়েশিয়া, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘ সদর দফতরে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ‘তারা কি আমাদের ভুলে গেছে?’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের এক ইভেন্ট আয়োজন করে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ইভেন্টটি সঞ্চালনা করেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী সংকট মোকাবেলায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ও সাধারণ পরিষদের প্রস্তাব বাস্তবায়নের পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে সম্মিলিত প্রচেষ্টা আরও বহু গুণ বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: পর্যবেক্ষণ সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া উচিত

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে ৪ টি প্রস্তাব তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, মিয়ানমার থেকে উদ্ভূত এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা আরও বহুগুণ বাড়াতে হবে। সব বিকল্পের মধ্যে স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনই সবচেয়ে কার্যকর।

প্রধানমন্ত্রী তার প্রথম ও দ্বিতীয় প্রস্তাবে বলেন, আমি বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, তারা যেন বিষয়টি সমাধান করে। এ দুর্দশাগ্রস্ত ও অসহায় মানুষের জীবনধারণের জন্য আমাদের মানবিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি বিষয়টিকে যেন তাদের এজেন্ডার শীর্ষে রাখে।

আরও পড়ুন: চীন সফরে গেলেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট

তৃতীয় প্রস্তাবে শেখ হাসিনা বলেন, এ জাতিগত সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ক্রমাগত নিয়মে পরিণত করা এবং ঘৃণ্য নৃশংসতাকারী অপরাধীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য চলমান প্রচলিত আইনি ও বহুপাক্ষিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করুন।

তিনি বলেন, গত ৬ বছর ধরে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের মর্মান্তিক বিতাড়নের ঘটনা দেখে আসা বিশ্বকে রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের স্থায়ী দুর্ভোগের কথা আবারও স্মরণ করিয়ে দিতে সমবেত হয়েছি আমরা।

রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়াসহ তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি নির্মম হত্যাকাণ্ডের কারণে কয়েক মাসের মধ্যে প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এরপর থেকে আমাদের মাটিতে তাদের আশ্রয় এবং তাদের মৌলিক ও মানবিক সেবা দিয়ে আসছি।

আমি আমাদের সব অংশীজন ও বন্ধুদের তাদের সংহতির পাশাপাশি মানবিক সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানাই।

আরও পড়ুন: সিসিইউতে খালেদা জিয়া

ইস্যুটি এখন স্থবিরতার পর্যায়ে পৌঁছেছে উল্লেখ প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ৬ বছরে একজন রোহিঙ্গাও মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারেনি। বাংলাদেশে তাদের দীর্ঘ উপস্থিতি তাদের কেবল আরও হতাশার দিকেই ঠেলে দিচ্ছে না, এটি কক্সবাজারের পরিস্থিতিকেও অনিশ্চিত করে তুলছে।

আশ্রয়দাতা সম্প্রদায় আজ তাদের উদারতার শিকারে পরিণত হয়েছে। এ সময় রোহিঙ্গাদের চাহিদার প্রতি বিশ্বব্যাপী মনোযোগ দ্রুত হ্রাস পাওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এটি মানবিক সহায়তা পরিকল্পনায় ক্রমবর্ধমান অর্থায়নের অভাব স্পষ্ট।

সমগ্র বিশ্ব অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া সংঘাত ও জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা যে রেকর্ড পরিমাণ উচ্চতায় পৌঁছেছে, সে বিষয়ে আমরা অবগত। বিশ্ব রোহিঙ্গাদের ভুলে যেতে পারে না।

আরও পড়ুন: দেশে ফিরবেন ওবায়দুল কাদের

কেননা, ২০১৭ সালে তাদের দেশত্যাগ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না। তারা কয়েক দশক ধরে মিয়ানমারে নিপীড়ন ও বিতারণের শিকার হয়েছে।রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিকারে এগিয়ে আসতে সবারই দায়িত্ব রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের ভরণপোষণের জন্য মানবিক সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ। তবে এটিই সবকিছু নয়। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে, তারা মিয়ানমারে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যেতে পারবে এবং মর্যাদার সাথে নিশ্চিত জীবনযাপন করতে পারবে। এর জন্য আমাদের সমস্যাটির মূলে গিয়ে সমাধান করতে হবে, যা মিয়ানমারেই রয়েছে।

সরকারপ্রধান বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে সুরক্ষা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দরকার, যেন বাড়িঘর থেকে তাদের পালাতে না হয়। এখানে উপস্থিত অনেক দেশ আছে, যারা কয়েক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। আমার বিশ্বাস, মালয়েশিয়া ও সৌদি আরব বাংলাদেশের সাথে একমত হবে।

এক মিলিয়নেরও বেশি বাস্তচ্যুত রোহিঙ্গাকে দীর্ঘ সময়ের জন্য আশ্রয় দেওয়া কখনোই বাংলাদেশের জন্য একটি বিকল্প ছিল না বলে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ একটি ছোট দেশ, যেখানে জনসংখ্যার উচ্চ ঘনত্ব রয়েছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে একটি।

আরও পড়ুন: শেষ হচ্ছে কলকাতাবাসীর অপেক্ষা

এরই মধ্যেই জলবায়ু প্ররোচিত অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের ক্রমবর্ধমান সংখ্যার দ্বারা অতিরিক্ত চাপে পড়েছে। এর পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের দীর্ঘ উপস্থিতি আমাদের জনগণের জন্য গুরুতর সামাজিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত প্রভাব ফেলছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থী শিবির হিসেবে পরিচিত এ আশ্রয় শিবিরের কারণে ৬৮০০ একর সংরক্ষিত বন ধ্বংসের ফলে কক্সবাজারের জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সরকারপ্রধান বলে, ২০১৭ সালের নভেম্বরে আমরা মিয়ানমারের সাথে যে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সই করেছি, তার দ্রুত বাস্তবায়নের দিকে তাদের মনোযোগ দিতে হবে। মিয়ানমারের সাথে ছোট ব্যাচে যাচাইকৃত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরু করার জন্য আমরা কাজ করছি।

আরও পড়ুন: পানিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট রোধে হটলাইন চালু

প্রক্রিয়াটি যেন স্বচ্ছ ও স্বেচ্ছামূলক হয়, তা নিশ্চিত করার জন্য রোহিঙ্গা এবং মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষের মধ্যে একাধিকবার আলোচনার করা হয়েছে। আশা করি, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনকারীদের রাখাইনে পুনরায় একত্রিত হতে সহায়তা করতে এগিয়ে আসবে।

সেক্ষেত্রে রাখাইনে মানবিক ও উন্নয়ন সংস্থার উপস্থিতি একটি গুরুত্বপূর্ণ আস্থা তৈরির ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে।

তিনি আরও বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলো, বিশেষ করে- আসিয়ান সদস্যরা মিয়ানমারের সাথে তাদের ঘনিষ্ঠ ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক নিয়ে নেতৃত্বের ভূমিকা নিতে পারে। এএইচএ কেন্দ্রের ব্যাপক প্রয়োজন মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রত্যাবর্তনকারী রোহিঙ্গাদের সম্পৃক্ত করে ছোট সম্প্রদায় ভিত্তিক প্রকল্প গ্রহণ করা যেতে পারে।

আরও পড়ুন: ঢাকার বায়ুর মানে উন্নতি

এর মধ্যে রোহিঙ্গা সংকটের মূল কারণগুলোকে কার্যকরভাবে মোকাবিলায় অব্যাহত আন্তর্জাতিক মনোযোগ প্রয়োজন। মিয়ানমারের বিষয়ে নিরাপত্তা পরিষদ ও সাধারণ পরিষদের প্রস্তাবের বাস্তবায়ন এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি প্রক্রিয়ার ওপর দৃষ্টি বজায় রাখা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। যতক্ষণ না নৃশংসতার জন্য দায়ী অপরাধীদের জবাবদিহি করা হয়, ততক্ষণ আরও নিপীড়নের ঝুঁকি থেকেই যাবে।

আরও পড়ুন: আজও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা

রোহিঙ্গা নির্যাতিত ও জীবিতরা সত্যিকার অর্থে তাদের অতীত আর ফিরে পাবে না। বিচার না পেলে তারা গঠনমূলকভাবে মিয়ানমারে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়েও ফিরে যেতে পারবে না। আমার দেশ জবাবদিহি প্রক্রিয়ার জন্য সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি বলেন, আমরা আইসিজে, আইআইএমএম ও আইসিসি’র সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি। অন্য সব সদস্য রাষ্ট্রকে আমি এ বিষয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থার সাথে সহযোগিতা করার জন্য আহ্বান জানাই।

সান নিউজ/এনজে

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

অভিযোগ করেও প্রতিকার পাননি মেয়র প্রার্থী

মো. নাজির হোসেন, মুন্সীগঞ্জ: স্থা...

কি এমন দুঃখ ছিল সাংবাদিক অভিশ্রুতির?

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : সম্প্রতি গত ‍বৃহস্পতিবার (২৯ মার্চ)...

মনপুরায় চেয়ারম্যান পদে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই 

ভোলা সংবাদদাতা: আগামী ৯ মার্চ অনু...

বিচ্ছেদে কাজে ফোকাস ছিল

বিনোদন ডেস্ক: অভিনেত্রী জয়া আহসান...

বিজিবিও হবে বিশ্বমানের স্মার্ট বাহিনী

নিজস্ব প্রতিবেদক : আমরা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে বিশ্বমানের আ...

সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক : নেপালের কাঠমান্ডুতে সাফ অনূর্ধ্ব-১৬ নারী চ্...

রমজানে ব্যাংক লেনদেন ৫ ঘণ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক : আসন্ন রমজান মাস উপলক্ষে ব্যাংকে লেনদেনের...

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে নোটিশ টানানো শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক: হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, রাজধানীর যেসব...

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ চ্যালেঞ্জ

নিজস্ব প্রতিবেদক : দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ আমাদের কাছে বড় চ্যা...

পাকিস্তানে ভারী তুষারপাতে নিহত ৩৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পাকিস্তানের দুই প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়া...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা