জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর স্মৃতি ও সাহিত্যকর্মকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও ব্যাপকভাবে তুলে ধরতে ‘নজরুল বর্ষ’ পালনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে রোববার (২১ জুন) এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, চলতি বছরের ২৫ মে থেকে আগামী বছরের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে উদযাপন করা হবে। ঘোষণাটি ২৫ মে ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর আনুষ্ঠানিক গেজেট
জাতীয় পর্যায়ে কবি নজরুলের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গত ২৩ থেকে ২৫ মে পর্যন্ত ত্রিশাল-এ তিন দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘নজরুল বর্ষ’ পালনের ঘোষণা দেন।
পরবর্তীতে সেই ঘোষণার আলোকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করে।
বছরজুড়ে থাকবে নানা কর্মসূচি
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে জাতীয় পর্যায়ে বিস্তৃত কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
- জাতীয় উদযাপন কমিটি গঠন
- ‘নজরুল বর্ষ’-এর বিশেষ লোগো প্রণয়ন
- স্মারক পোস্টার ও প্রচারসামগ্রী প্রকাশ
- বার্ষিক ক্যালেন্ডার প্রকাশ
- স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্তকরণ
- দেশব্যাপী সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন
নতুন প্রজন্মের কাছে নজরুলকে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্রোহ, মানবতা, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার কবি নজরুলের সাহিত্য, সংগীত ও দর্শনকে আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে বছরব্যাপী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা
সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক ব্যক্তিত্বরা মনে করছেন, ‘নজরুল বর্ষ’ পালনের সরকারি উদ্যোগ জাতীয় কবির সৃষ্টিকর্মকে নতুনভাবে মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি করবে। পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নজরুলচর্চা আরও বিস্তৃত হবে এবং দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে।