দেশে নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং মাদকের বিস্তারের অন্যতম কারণ হিসেবে আদর্শ শিক্ষক ও মানসম্মত শিক্ষার ঘাটতিকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি মনে করেন, দক্ষ ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক তৈরির মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটানো না গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক পথে এগিয়ে নেওয়া কঠিন হবে।
শনিবার (১১ জুলাই) রাজধানীর মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে আয়োজিত বার্ষিক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, শিক্ষকদের পর্যাপ্ত ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের অভাবে শিক্ষার মান কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারছে না। পাশাপাশি অনেক শিক্ষকের মধ্যে পেশার প্রতি আন্তরিকতা ও দায়বদ্ধতা আগের তুলনায় কমে যাওয়ায় শিক্ষাব্যবস্থা নেতিবাচক প্রভাবের মুখে পড়ছে।
তিনি বলেন, একজন শিক্ষক যত বেশি জ্ঞানসমৃদ্ধ, দক্ষ ও অভিজ্ঞ হবেন, তত বেশি শিক্ষার্থীরা আলোকিত ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। তাই শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
স্কুল ফিডিং কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে রিজভী অভিযোগ করেন, কিছু অসাধু ঠিকাদার নিম্নমানের খাদ্য সরবরাহ করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলছেন। তিনি এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের মানবতার বিরুদ্ধে কাজ করছে বলেও মন্তব্য করেন।
শিক্ষা খাতে সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগ বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে প্রশাসনিক দুর্বলতা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার মতে, দায়িত্বহীনতা ও সমন্বয়ের অভাবে অনেক ভালো উদ্যোগ কাঙ্ক্ষিত ফল দিচ্ছে না।
রিজভী আরও বলেন, যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সফল হচ্ছে, তাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি ও পুরস্কার দেওয়ার ব্যবস্থা করা উচিত। একই সঙ্গে ঘুষ বা অনিয়মের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের সংস্কৃতি বন্ধ করে যোগ্য ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম আরও আধুনিক ও সমৃদ্ধ করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাসও দেন রুহুল কবির রিজভী।
অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকও বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, অতীতে রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও এক ধরনের কর্তৃত্ববাদী সংস্কৃতি বিরাজ করেছিল। তবে বর্তমান বাস্তবতায় শিক্ষকদের রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে পেশাগত দায়িত্বকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
তিনি শিক্ষকদের উদ্দেশে বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মূল শক্তি হলো একজন আদর্শ শিক্ষক। তাই রাজনৈতিক পরিচয়ের পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা ও নৈতিক বিকাশে নিজেদের নিবেদিত রাখার আহ্বান জানান তিনি।