স্বাস্থ্য

ভ্যাকসিন নিয়ে প্রতারণা করছে সরকার : জাফরুল্লাহ

তারেক সালমান, নিজস্ব প্রতিবেদক : সারা বিশ্বে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী করোনা মহামারী মোকাবেলায় সরকার যেমন ব্যর্ততার পরিচয় দিয়েছে ঠিক তেমনি ভারত থেকে করোনার ভ্যাকসিন আমদানিতেও সরকার জনগণের সঙ্গে রীতিমত প্রতারণা ও অসত্য প্রচারণা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন গণস্বাস্থ্যর প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। জনগণের কথা না ভেবে সরকার ও সরকার সমর্থিত কিছু লোক করোনা ভ্যাকসিন নিয়ে ব্যবসা ও ফড়িয়া দালালের ভূমিকা নিয়েছে বলেও অভিযোগ স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর এই মুক্তিযোদ্ধার।

সান নিউজের sunnews24x7.com সঙ্গে সমকালীন ইস্যু করোনা ভ্যাকসিন নিয়ে মঙ্গলবার (৫ জানুয়ারি) বিকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে নগর গণস্বাস্থ্য নিজ কার্যালয়ে দেয়া একান্ত সাক্ষাতকারে তিনি এসব অভিযোগ প্রকাশ করেন। সাক্ষাতকারটি গ্রহণ করেছেন তারেক সালমান।

ভারতীয়দের দেশপ্রেমের প্রশংসা করে গণস্বাস্থ্যর প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ভারত ও বাংলাদেশিদের মধ্যে দেশ প্রেমের পার্থক্য আছে। তিনি বলেন, ভারতীরা অনেক বেশি দেশপ্রেমী। তাদের কাছে তাদের নাগরিকের ও দেশের স্বার্থটা বড় আগে। একটা কথা বলি, ইন্ডিয়ানরা যদি কোনও ইন্টারন্যাশনাল বডিতে যায় তাহলে তারা ইন্ডিয়ানই থাকে। আর আমাদের দেশের লোকজন যদি কোনও ইন্টারন্যাশনাল বডিতে যায় তখন সে ইন্টারন্যাশনাল হয়ে যায়। বাংলাদেশের কথা তার স্বরণ থাকে না। এমনকি বাংলাদেশের কোটাতে চাকরি পেলেও। এটাই হচ্ছে তাদের (ভারত) সাথে আমাদের (বাংলাদেশ) বেসিক পার্থক্য।

এ প্রসঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, করোনা ভ্যাকসিন দিয়ে ভারত আগে তার জনগণের স্বাস্থ্য ও জীবন নিশ্চিত করবে। এরপর যদি বাড়তি থাকে তাহলে তারা তা রফতানি করবে। তার আগে নয়।

ডা.জাফরুল্লাহ বলেন, যেহেতু ইন্ডিয়ানরা দীর্ঘদিন আমেরিকাতে আছে। সে কারণে তারা অনেক এন লাইট। ওখানকার (আমেরিকা) তথ্য তারা ইন্ডিয়াকে দিয়ে দেয়। ফলে ইন্ডিয়ার এতে গ্রোথ হয়েছে। আমাদের দেশের বাঙালিরা তা করে না। ভ্যাকসিনের ব্যাপারটায় যা হয়েছে, তারা তা উৎপাদন করেছে। তাদেরটা এপ্রোবাল হয়েছে। বাইরে এক্সপোর্ট করতে হলে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমতি লাগবে। এখানের প্রথম প্রায়োরিটি তাদের জনগণ। ফলে তাদের দেশের জনগণের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রফতানি করা শুরু করবে। এখনও তারা ভারতে দেয়াই শুরু করেনি। অথচ আমাদের সরকার মিথ্যাচার শুরু করেছে যে তারা নাকি জানুয়ারির মধ্যে ভারত থেকে ভ্যাকসিন পাবে। এটা অসম্ভব। প্রশ্নই আসে না। তাদের (ভারত) ন্যায় নীতি আছে। আমার সরকার কেন সমঝোতা চুক্তি করছে তাও আমি জানি না।

ভারত থেকে করোনা ভ্যাকসিন আনতে আমাদের সরকার ভারত সরকারের সঙ্গে কোনও চুক্তি করেনি দাবি করে ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, এখন আমাদের যে চুক্তিটা আছে, তা সিরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের চুক্তি। বেক্সিমকো সরকারের পয়সায় মুনাফা করে নিল। এটা জনগণের সঙ্গে একটা চালাকি। একজন ব্যবসায়ী ইনভেস্ট করে ওখান থেকে প্রফিট নেয়। এখানে তা না বেক্সিমকো পুরো টাকাটাই সরকার থেকে নিয়ে নিচ্ছে। নিজেরা একটি টাকাও ইনভেস্ট করছে না। লাভতো তারা যে কোনোভাবেই করতে পারতো। কিন্তু এখানে টাকা না খাটিয়ে প্রফিট করতেছে বেক্সিমকো। এখানেই আমার আপত্তি। আর যত কথাই বলুক, আমার ধারণা মার্চ এপ্রিলের আগে আমরা ভ্যাকসিন পাবো না।

দ্রুত সময়ের মধ্যে ভারত থেকে করোনা ভ্যাকসিন পাওয়ার আশাবাদী স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য প্রসঙ্গে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, তিনি চোকার। যখন যা ইচ্ছা বলেই যাচ্ছেন। কত দ্রুততার সঙ্গে বাংলাদেশ অনুমোদন করেছে। বেক্সিমকোকে সরকার আমদানির অনুমতিটা দিয়েছে। কিন্তু ভারত থেকেও তো রফতানির অনুমতিটা পেতে হবে। এই সেরাম বলছে, আমার এখানে দেয়ার পর অন্যখানে দিতে পারবো। এটা যেটা বলছে, চুক্তি আছে টাকা দেয়ার এক মাসের মধ্যে দেবে। তাহলে তো ফেব্রুয়ারি পৌঁছাবে। ভারতে যেহেতু করোনার অবস্থা খারাপ সুতরাং তারা (ভারত সরকার) রফতানিতে এমবারগো দেবেই।

বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করে ভারত থেকে ভ্যাকসিন আমদানি না করে বাংলাদেশেই গবেষনার মাধ্যমে তা উৎপাদন করা যেত জানিয়ে এই মানবতাবাদী বলেন, এছাড়া বেসরকারি খাতে না দিয়ে সরকারে নিজেরা সরাসরি আমদানি করতে পারতো। যেখান থেকে আনবে ওটাও বেসসরকারি। ওদের ওই প্রতিষ্ঠানে আমি অতীতে গিয়েছি। ওরা আগে ঘোড়ার ব্রিডিং করতো। সেহেতু আমাদের চুক্তিটা ভারতের সাথে,সরকার টু সরকার হতে পারতো।

‘জীবন রক্ষাকারী ভ্যাকসিন নিয়ে বেক্সিমকো মধ্যস্বত্বভোগী বা ফড়িয়া দালালের ভূমিকা পালন করছে’: ক্ষোভ প্রকাশ করে জাফরুল্লাহ বলেন, যদি সরকার সরাসরি কাজটা করতো তাহলে তিন ডলার যে বেক্সিমকো নিচ্ছে এটা জনগণ আরও কম দামে ভ্যাকসিনটা পেত। এটা নিয়ে সরকারের ব্যর্থতা আছে। আরেকটা হলো তারা সত্য কথা বলছে না। চায়না যখন ট্রায়াল করতে চেয়েছিল তখন আধা ঘন্টার মধ্যে তাদের (চীন) অনুমতি দেয়া উচিত ছিল। চায়নাকে যদি আমরা অনুমতি দিতাম তাহলে কিন্তু আমাদের ১০ ভাগ এখন ট্রায়াল হত। আমি বারবার বলেছি, তাদের (চীন) টাকা বেশি আছে। দেরি করা ঠিক হচ্ছে না। তারা তো আর বসে থাকবে না। বাংলাদেশ না করেছে, তখন চায়না ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়ায় গেছে। চার পাঁচটা দেশে গেছে। এখন তারা (চীন) বলতেছে ট্রায়াল করতে হলে তাদের খরচ দিতে হবে। আগে তো খরচ চায়নি। এখানেই সরকারের দুরদৃষ্টির অভাব।

তিনি বলেন, আমি প্রথম দিনই বলেছি, গ্লোবকে সমর্থন দেয়ার জন্য। ইনসেপ্টার কথাও বলেছি। এমনটি বেক্সিমকোও করতে পারতো। পৃথিবীর ১০ জন বড় বড় বিজ্ঞানী নিয়ে আসতে পারলেই হত। খরচ কত হত। বড়জোর হাফ মিলিয়ন ডলার বা আরও কিছু বেশি। এতে আমাদের দেশের বিজ্ঞানিরাও লাভবান হত। তারা শিখতে পারত। আমাদের সক্ষমতা তৈরি হত। এখন যেটা হয়েছে, শুধু ভ্যাকসিন আসলেই হবে না। এটা পরীক্ষা করতে এন্টিবডিও লাগবে। আমাদের দেশে এর সংকট আছে। আমাদেরটা (গণস্বাস্থ্য) এখনও অনুমোদন দেয়া হয়নি। এটা ইমপোর্ট করবে সরকার। কারণ ইমপোর্ট করলে তারা টাকা কামাতে পারবে। এখানে তারা জনগণের স্বার্থ দেখছে না। এখানে ব্যবসায়িক স্বার্থ দেখা হচ্ছে। এই কারণে বলছি সরকারে সিদ্ধান্ত গুলো খুবই ভুল সিদ্ধান্ত।

করোনা থেকে বাঁচেত সামাজিক দুরত্ব, মাস্ক ব্যবহার, ওষুধ, টিকার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে গণস্বাস্থ্যর ট্রাস্টি আরও বলেন, টিকার জন্য আমরা তো কিছু করছি না। সরকার যে কোনও ওষুধ কোম্পানিকে কিছু ভতুর্কি দিতে পারে। দিলে আমরাও (গণস্বাস্থ্য) করতে পারি। নিজেদের দেশের সক্ষমতার জন্য। গবেষনাটা ব্যয় বহুল। কিন্তু টিকাটা সস্তা। আমার টেকনোলজিটা নিয়ে আমরা টিকাটা বানাতে পারি। অক্সফোর্ট ইউনিভারসিটি হচ্ছে মেইন পার্টনার। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এটা করা যেতে পারে। তারা সব সময় জনগণের কল্যাণে কাজ করে। জনগণের স্বার্থে কম্পলসারি লাইসেন্সের মাধ্যমে টেকনলজিটা নিয়ে আসতে পারতো সরকার। আমাদের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যায়ে কিছু না কিছু গবেষনা হচ্ছে। তারাও এটা করতে পারতো।

করোনা মহামারী থেকে উত্তরের উপায় কি জানতে চাইলে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, মনে রাখতে হবে এটা একটা ইনপেকটেট ডিজিজ। যেমন- যক্ষা একজনের কাছ থেকে আরেকজনের কাছে ছড়ায়, করোনাও তাই। এর থেকে বাঁচতে চাইলে মাস্কের ব্যবহার হাত ধোয়া, সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখা, ওধুষ সেবন করা ও টিকা গ্রহণ করা এসব তো আছেই। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে আমরা কি করছি।

সান নিউজ/টিএস/এসএম

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

ভোলায় রিমালে ক্ষতিগ্রস্তদের খাদ্য বিতরণ

ভোলা প্রতিনিধি : ভোলায় ঘূর্ণিঝড় রিমালে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ব...

বিয়ে করলেন চমক

বিনোদন ডেস্ক : ছোট পর্দার অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমক। কোনো...

বিজিবির অভিযানে ভারতীয় মদ জব্দ

আবু রাসেল সুমন, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি : সীমান্তে সুরক্ষায় নিয়...

জায়েদের সাথে অভিনয় করতে চায় টয়া

বিনোদন ডেস্ক: বর্তমানে ছোটপর্দার...

ইসলামী ব্যাংকের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক : ইসলামী ব্যাংক ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ একা...

কাঁচা চামড়া আমদানির আগ্রহ মিশরের

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের থেকে কাঁচ...

রাষ্ট্রপতি ও নতুন সেনা প্রধানের সাক্ষাৎ 

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাষ্ট্রপতি মো....

আমের ক্যারেটে ফেনসিডিল

জেলা প্রতিনিধি: সাভারের আশুলিয়ায়...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা