অপরাধ

মুনিয়া হত্যা মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বহুল আলোচিত মোসারাত জাহান মুনিয়ার হত্যার ঘটনায় আনভীরসহ ৮ জনকে আসামি করে আদালতে ধর্ষণ মামলা করা হয়েছে। রাজধানীর গুলশানে রহস্যজনকভাবে মারা যাওয়া মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত জাহান তানিয়া বাদি হয়ে এই মামলা দায়ের করেন।

সোমবার (৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮ এর বিচারক মাফরোজা পারভীনের আদালতে মামলার আবেদন করেন তিনি। সংশ্লিষ্ট আদালতের বিশেষ পিপি রেজাউল করিম জানান, আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে মামলাটির বিষয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

সান নিউজের পাঠকদের মুনিয়ার বোনের আবেদনে উল্লেখ করা অভিযোগের ভাষা হুবহু তুলে ধরা হলো। মামলায় যেসব অভিযোগ করা হয়েছে:

অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন মুনিয়া: বড় বোন নুসরাত মামলায় অভিযোগ করেছেন, মুনিয়ার মৃত্যুর পর যে ময়না তদন্ত করা হয়েছে, সেই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে- ‘ভিকটিম ২/৩ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।’

মামলার আর্জিতে আরও বলা হয়, ‘মুনিয়া প্রতিদিন ডায়েরি লিখতেন। বাসায় তার লেখা ৪টি ডায়েরি পাওয়া গেছে। যাতে আসামি আনভীরের সঙ্গে মেলামেশা ও শারীরিক সম্পর্কের কথা তারিখ দিয়ে লেখা রয়েছে। একটি ডায়েরির কাভারে লেখা ছিল ….. ‘Anvir I love you’.

এজাহারে দাবি করা হয়, ‘‘ভিকটিম ২/৩ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে ভিকটিম ১ নম্বর আসামিকে (আনাভীরকে) বিয়ের জন্য চাপ দেন। এতে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও চরম বিরোধ সৃষ্টি হয়। বিষয়টি অপর আসামিদের মধ্যে প্রকাশ পেলে তারা পারিবারিক সুনাম-সুখ্যাতি রক্ষায় ভিকটিমকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেয়ার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। এক পর্যায়ে ১ নম্বর আসামি ভিকটিমকে বলে, ‘তুমি কুমিল্লা চলে যাও। মা তোমাকে মেরে ফেলবে।’ এ সময় ভিকটিম মুনিয়া ‘লাইভে’ এসে সব ঘটনা ফাঁস করে দেবে বলে ১ নম্বর আসামিকে হুমকি দেয়। পাল্টা জবাবে আসামি ভিকটিমকে বলে, ‘এত সময় আর তুই পাবি না’।’’

ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়েছে মুনিয়াকে: অভিযোগের ১৪তম অংশে বলা হয়, ‘‘অত্র মামলার আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে ঘটনার তারিখ ভিকটিমকে বাসা থেকে পালানোর সুযোগ না দিয়ে বাসায় আটকে রেখে কিলিং মিশনের মাধ্যমে ভিকটিমকে ধর্ষণোত্তর হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে সুকৌশলে ঘটনাকে ‘আত্মহত্যা’ বলে চালিয়ে দেয়ার জন্য ভিকটিমের লাশ ওড়না দিয়ে পেঁচিয়ে ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রাখে।’’

১৬তম অংশে লেখা ‘তদন্ত রিপোর্টে ভিকটিমের সঙ্গে মৃত্যুর পূর্বে Intercourse এর প্রমাণ মিলেছে, অর্থাৎ ভিকটিম মৃত্যুর পূর্বে ধর্ষিত।’

পুলিশের বিরুদ্ধেও অভিযোগ: ১৭তম অংশে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ বিষয়ে বলা হয়, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ভিকটিমের হাতের লেখা ডায়েরি, মোবাইলসহ অন্যান্য মালামাল জব্দ করলেও রুমে পাওয়া রক্তমাখা জামা জব্দ করেনি। পরবর্তী ১৮তম অংশে বলা হয়, বাদী থানায় মামলা করতে গেলে কর্তৃপক্ষ বাদীর অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) (২)/৩০ ধারা এবং ৩০২/৩৪ ধারা উপাদান থাকা সত্ত্বেও উক্ত ধারায় মামলা রেকর্ড করতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে।

মুনিয়া ঢাকা থেকে পালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন: মুনিয়া ঢাকা থেকে পালাতে চেয়েছিলেন দাবি করে অভিযোগের চতুর্থ অংশে লেখা হয়, ‘ভিকটিম ঘটনা আঁচ করতে পেরে আসামিদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ঢাকা ছেড়ে যশোর পালিয়ে যেতে চায় এবং এজন্য শেষ ঘটনার তারিখ ভোর ৫টায় এবং সকাল ৭টায় ৫/৮ নম্বর আসামি বাড়িওয়ালার নিকট গাড়ি চায়। ৫/৮ নম্বর আসামি গাড়ি না দিয়ে উল্টো বিষয়টি অপর আসামিদের নিকট ফাঁস করে দেয়। তখনই সকল আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ভিকটিমকে বাসায় আটকে রেখে হত্যার ষড়যন্ত্র পাকাপোক্ত করে এবং কিলিং মিশন দিয়ে ভিকটিমকে ধর্ষণোত্তর হত্যা করে আসামিরা তাদের Common intention পূরণ করে।

বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করেছিল মুনিয়া: ২৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে মুনিয়া তার বড় বোন ও মামলার বাদী নুসরাতকে ফোন দিয়েছিল। মুনিয়া ফোনে নুসরাতকে বলে, আপু আমার বিপদ, আনভীর আমাকে ধোঁকা দিয়েছে। সে আমাকে বিয়ে করবে না। ভোগ করেছে মাত্র। তুমি তাড়াতাড়ি আসো, আমার বড় দুর্ঘটনা হয়ে যেতে পারে। সে আরও বলে, আসার সময় ইফতারের জন্য কলা নিয়ে এসো।

বাড়িওয়ালা শারমিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ: অভিযোগের ষষ্ঠ অংশের বিবরণে বলা হয়, ‘ভিকটিমের হত্যার তারিখ ২৬/৪/২০২১ইং দুপুর ১২টা ৪৯ মিনিটে ৫ নম্বর আসামি শারমিন বাদীকে ফোন করে বলে ‘তোমার বোনের কিছু হলে আমরা জানি না, তখন পুলিশ আসবে; মিডিয়া আসবে ইত্যাদি।’ অথচ পোস্টমর্টেম রিপোর্ট মতে, ভিকটিমের মৃত্যু হয় দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে। এ ঘটনা প্রমাণ করে বাড়িওয়ালা (৫ নম্বর আসামি) মৃত্যু সম্পর্কে পূর্ব থেকে অবগত ছিল এবং এ ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত।

বাদী ঘটনার তারিখ বিকাল ৪টা ১৫ মিনিটে কুমিল্লা থেকে ভিকটিমের দরজা বন্ধ দেখে অনেক পীড়াপিড়ির পরও ভেতর থেকে কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে ৫/৮ নম্বর আসামি বাড়িওয়ালার কাছে থাকা বাসার সংরক্ষিত চাবি চাইলে তারা ঘটনাকে আত্মহত্যা হিসাবে চালিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে চাবি না দিয়ে তালা ভেঙে বাসায় ঢোকার পরামর্শ দেয়।

মুনিয়ার পরনের জামাকাপড় ছেঁড়া ছিলো: অভিযোগের নবম অংশে বলা হয়, পুলিশ ভিকটিমের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে। এতে ভিকটিমের যৌনাঙ্গে জখম ও রক্ত পরিলক্ষিত হয়। ভিকটিমের পরিধেয় বস্ত্র, অন্তর্বাস, পাজামা, কাটা ছেঁড়া ছিলো। যাতে প্রতীয়মান হয়, হত্যার পূর্বে ভিকটিমের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়েছিলো এবং ভিকটিম ধর্ষিতা হয়েছিলো।

উল্লেখ্য, গত ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় গুলশানের ১২০ নম্বর সড়কের ১৯ নম্বর বাসার একটি ফ্ল্যাট থেকে মুনিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত জাহান তানিয়া বাদী হয়ে বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহানের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেন।

সান নিউজ/এমএইচ

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

বিএনপি’র রবীন্দ্রনাথ 

এবার রবীন্দ্র-জয়ন্তীতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক...

নাট্যজন আতাউর রহমান আর নেই

দশ দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর সোমবার (১১ মে) দিবাগত রাতে মারা গেছেন নাট্যব্যক...

মুখস্থ বিদ্যা ও সার্টিফিকেটনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা থেকে বের হতে হবে

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কর্মস...

লেবাননে ড্রোন হামলায় নিহত দুই প্রবাসীর বাড়িতে শোকের মাতম

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের ড্রোন হামলায় নিহ...

ঈদুল আজহা পর্যন্ত দোকান-বিপণিবিতান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দোকান, বিপণিবিতান খো...

অনুমোদন পেল পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ ও অর্থনীতি রক্ষা...

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসছে টানা ছুটি

‎ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশ উপলক্ষে দেশের...

ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল ল্যাবরেটরির উদ্যোগে সেমিনার অনুষ্ঠিত

ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল ল্যাবরেটরির উদ্যোগে হামে...

একনেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকার ‘পদ্মা ব্যারেজ’ প্রকল্প অনুমোদন

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্র...

নারায়ণগঞ্জে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যান্টিনে গ্যাস লিকেজে বিস্ফোরণ,  দগ্ধ ১২

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যা...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা