প্রচণ্ড গতির বাতাস, অতি ভারী বৃষ্টি এবং বিশাল ঢেউ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে আঘাত হেনেছে সুপার টাইফুন ‘বাভি’। ঝড়ের প্রভাবে পুরো এলাকাজুড়ে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ।
ঘণ্টায় ২৯০ কিলোমিটার বেগের ঝড়
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা (এনডব্লিউএস) জানিয়েছে, টাইফুনটির স্থায়ী বাতাসের গতি ঘণ্টায় প্রায় ২৯০ কিলোমিটার। পাশাপাশি দমকা হাওয়ার সর্বোচ্চ গতি ৩৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এ কারণে উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, সমুদ্রে প্রায় ১১ মিটার উচ্চতার ঢেউ সৃষ্টি হতে পারে, যা নৌযান চলাচল এবং উপকূলীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।
রোটায় সরাসরি আঘাত, ক্ষয়ক্ষতির খবর
স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের দক্ষিণাঞ্চলের জনবসতিপূর্ণ রোটা দ্বীপে সরাসরি আঘাত হেনেছে টাইফুনটি। ঝড়ের তীব্রতায় বিভিন্ন এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক খবর পাওয়া গেছে।
রোটা প্রশাসন বাসিন্দাদের ঘরের বাইরে না বের হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। তাদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটছেন মানুষ
টাইফুনের আগেই গুয়াম ও আশপাশের দ্বীপগুলোর বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে শুরু করেছেন। পর্যটননির্ভর গুয়ামে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য একাধিক স্কুলে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে, যেখানে হাজারের বেশি মানুষের থাকার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রবল বাতাসের পাশাপাশি জলাবদ্ধতা ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।
বিমানবন্দরে রেকর্ড দমকা বাতাস
সাইপান দ্বীপের বিমানবন্দরে ঘণ্টায় ১৬১ কিলোমিটারের বেশি গতির দমকা বাতাস রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, ঝড়টি আরও কিছু সময় একই শক্তি ধরে রাখতে পারে।
জলবায়ু পরিবর্তনে বাড়ছে শক্তিশালী টাইফুনের ঝুঁকি
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই ঘূর্ণিঝড়প্রবণ হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আরও শক্তিশালী টাইফুনের সংখ্যা বেড়েছে।
এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলে আঘাত হানা আরেকটি সুপার টাইফুনে ব্যাপক প্রাণহানি ও কয়েকশ কোটি ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। সেই ক্ষতি পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠার আগেই নতুন করে ‘বাভি’র আঘাতে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
কর্তৃপক্ষের সতর্কতা
আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ সবাইকে নিরাপদ স্থানে অবস্থান, অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চলা এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোও সম্ভাব্য জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে।