ছবি: সংগৃহীত
মতামত

শেখ কামাল: বহুমাত্রিক প্রতিভার স্পন্দন

মানিক লাল ঘোষ: বহুমাত্রিক প্রতিভা ও অফুরন্ত প্রাণশক্তির অধিকারী মানুষটি একই সঙ্গে ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী, ভদ্র, নির্লোভ, নিরহংকারী ও সদালাপী।

আরও পড়ুন: চিকিৎসা খাতের দূর্বৃত্ত

সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যেতেন অতি সাধারণ হয়ে। যেকোনো মানুষের প্রয়োজনে বাড়িয়ে দিতেন সহযোগিতার হাত। মাত্র ২৬ বছরের জীবন ছিল তার।

এই অল্প বয়সে দেশ ও সমাজ ভাবনায় বাঙালির সংস্কৃতি ও ক্রীড়াঙ্গনে এক বিরল প্রতিভাবান সংগঠক ও উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে অসামান্য উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন।

আরও পড়ুন: ধেয়ে আসছে ‘অনলাইন জুয়া’

ক্ষমতার কেন্দ্র অবস্থান, কিন্তু চলাচলে সাধারণ, আচরণে বিনয়ী। ভদ্রতা যার পারিবারিক শিক্ষা। জাতির পিতার সন্তান হওয়া সত্ত্বেও যার মধ্যে ছিল না কোনো অহমিকাবোধ।

অবাধ বিচরণ ছিল প্রতিভার দশ দিগন্তে। পড়াশোনার পাশাপাশি সংগীত চর্চা, অভিনয়, বিতর্ক, উপস্থিত বক্তৃতা, খেলাধুলাসহ কোন ক্ষেত্রে পারদর্শী ছিলেন না তিনি?

এমন প্রশ্ন বারবার ঘুরপাক খায় সেই যুবকের কর্মময় জীবনের ওপর আলোচনা এবং জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক লেখনীতে। আলোচনায় উঠে আসে তারুণ্যের অহংকার সেই যুবকের বিরুদ্ধে কুচক্রী মহলের নানা ষড়যন্ত্র ও মিথ্যা অপপ্রচারের কল্পকাহিনি। বহুমুখী সেই যুবকের নাম শেখ কামাল।

আরও পড়ুন: শিশুদের জন্য প্রয়োজন বাড়তি সতর্কতা

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুননেছা মুজিবের জ্যেষ্ঠ পুত্র ১৯৪৯ সালের ৫ আগস্ট গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন শেখ কামাল। ৫ ভাই-বোনের মধ্যে তার অবস্থান দ্বিতীয়।

ঢাকা শাহীন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক, ঢাকা কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।

ছাত্রলীগের একনিষ্ঠ কর্মী এবং সংগঠক হিসেবে ছাত্রদের কাছে প্রিয়পাত্র ছিলেন তিনি। ৬ দফা ও ১১ দফা আন্দোলন এবং ৬৯ এর গণ-অভ্যুত্থানে শেখ কামালের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাত্রসমাজকে উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করতো। বাংলার ছাত্রসমাজ সেইদিন শেখ কামালের মাঝে খুঁজে পেত বঙ্গবন্ধুর প্রতিচ্ছবি।

আরও পড়ুন: শিক্ষকের কাজ জ্ঞান ছড়ানো, ঘৃণা নয়

মহান মুক্তিযুদ্ধে অন্যতম সংগঠক হিসেবে ছাত্রসমাজকে সুসংগঠিত করে দেশমাতার মুক্তিযুদ্ধে হাতিয়ার তুলে নিয়েছিলেন তিনি। দায়িত্বে ছিলেন মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি জেনারেল ওসমানীর এডিসি হিসেবে।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে স্বাধীন বাংলার ফুটবল দলকে সুসংগঠিত করেন শেখ কামাল। তিনি স্বপ্ন দেখতেন দেশ স্বাধীন হলে পাল্টে যাবে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের চিত্র এবং ক্রীড়াক্ষেত্রে অনন্য উচ্চতায় বহির্বিশ্বে আসীন হবে বাংলাদেশ।

স্বাধীনতা অর্জনের পর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া দেশ পুনর্গঠনে তার অসামান্য মেধাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেন শেখ কামাল। স্বাধীন বাংলাদেশের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে এক জনপ্রিয় যুবকের নাম শেখ কামাল।

আরও পড়ুন: কৃষকের ভাবনায় জাতীয় বাজেট

অধ্যয়নের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে তার পদচারণ ছিল মুখর। তিনি ছায়ানট থেকে নেন সেতার শেখার তালিম। বন্ধুদের সহযোগিতায় গড়ে তোলেন নাট্যদল (ঢাকা থিয়েটার) এবং আধুনিক সংগীত সংগঠন স্পন্দন শিল্পীগোষ্ঠী।

দেশের জনপ্রিয় ক্রীড়া সংগঠন ‘আবাহনী ক্রীড়াচক্র’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ক্রীড়াঙ্গনে স্মরণীয় হয়ে আছেন শেখ কামাল। ১৯৭২ সালে আবাহনী সমাজকল্যাণ সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। এই সংস্থার নামে সুসংগঠিত করেন ফুটবল দল ‘ইকবাল স্পোর্টিং’ আর ক্রিকেট ও হকির দল ‘ইস্পাহানী স্পোর্টিং’। এইসব দলের সমন্বয়ে নব উদ্যমে যাত্রা শুরু হয় আবাহনী ক্রীড়াচক্রের।

আরও পড়ুন: নারী উদ্যোক্তা : বাজেট কতটা ইতিবাচক?

শেখ কামালের সহধর্মিণী সুলতানা খুকু ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রী। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যার পরিচিতি ছিল প্রতিভাবান অ্যাথলেট হিসেবে। শেখ কামালের স্বপ্ন ছিল ফুটবল, ক্রিকেট, হকি খেলার মাধ্যমে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার। স্বপ্ন বাস্তবায়নের আপ্রাণ চেষ্টা ছিল তার।

ফুটবলের উন্নতির জন্য ১৯৭৩ সালে আবাহনীতে নিয়ে এসেছিলেন বিল হার্টকে। শুধু ক্রীড়াঙ্গন নয়, শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির মাধ্যমে বাংলাদেশকে বহির্বিশ্বে সমৃদ্ধ করার স্বপ্ন দেখতেন তিনি।

আরও পড়ুন: বিনিয়োগ বান্ধব বাজেট চাই

শেখ কামালের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় স্বাধীনতাবিরোধী ও কুচক্রীমহল। নানামুখী ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের মাধ্যমে শেখ কামালের জনপ্রিয়তার লাগাম টেনে ধরা ও তার উদ্যমতাকে দমিয়ে রাখার ষড়যন্ত্র করে ঐ কুচক্রীমহল।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট মা ও বাবাসহ পরিবারের ১৮ জন সদস্যদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকদের নির্মম বুলেটে মৃত্যুর শিকার হন তিনি। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারের হত্যাকাণ্ডের এই নারকীয় ঘটনায় প্রথম শহীদ শেখ কামাল।

আরও পড়ুন: অনিয়ন্ত্রিত রাগ ক্ষতি করছে

বজলুল হুদা তার স্টেনগান দিয়ে বঙ্গবন্ধুর বড় ছেলেকে হত্যা করে। আদালতের দেওয়া বঙ্গবন্ধুর বাড়ির অন্যতম পাহারাদার হাবিলদার কুদ্দুস সিকদারের সাক্ষ্য থেকে জানা যায়, বাড়িতে প্রথমেই প্রবেশ করে ঘাতক চক্রের সদস্য মেজর বজলুল হুদা এবং ক্যাপ্টেন নূর চৌধুরী।

তার সঙ্গে আরও কয়েকজন বাড়িতে ঢুকেই শেখ কামালকে দেখতে পায়। সাথে সাথেই বজলুল হুদা স্টেন গান দিয়ে তাকে গুলি করে।

শেখ কামাল বারান্দা থেকে ছিটকে গিয়ে অভ্যর্থনা কক্ষে পড়ে যান। সেখানে গিয়ে তাকে আবারও গুলি করে হত্যা করে ঘাতক চক্র। সেই সাথে নিভে যায় ক্রীড়াঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র। কীর্তিমানের মৃত্যু নেই।

আরও পড়ুন: বঙ্গবন্ধু ও শান্তি

যারা ষড়যন্ত্রের জাল বুনেছিলেন শেখ কামালের বিরুদ্ধে, রটিয়েছিলেন নানামুখী কুৎসা, তারা আজ ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত।

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের আজকের সাফল্য শেখ কামালের স্বপ্নের প্রতিফলন। ক্রীড়াক্ষেত্রে বহির্বিশ্বে এই দেশকে তুলে ধরার যে স্বপ্ন দেখতেন শেখ কামাল।

সেই স্বপ্নের সফল বাস্তবায়নে কাজ করছেন তার বড় বোন বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্বপ্নের মৃত্যু নেই। স্বপ্নচারী শেখ কামাল বেঁচে থাকুক তরুণ সমাজের অহংকার হয়ে।

লেখক:
মানিক লাল ঘোষ
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য।

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

দেশে গড়ে প্রতিদিন ১০ খুন, বাড়ছে ছিনতাই-ডাকাতি

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সং...

সুন্দরবনের ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর ২৭ সদস্যের আত্মসমর্পণ  

অস্ত্র ও গুলি জমা দিয়ে কোস্টগার্ডের কাছে আত্নসমর্পণ করেছে সুন্দরবনের বনদস্যু...

ধরা পড়ে মাদক বহনকারীরা, সংসদে যায় কারবারিরা

মাদক মামলায় বারবার কেবল বাহক বা বহনকারীরা গ্রেপ্তার হলেও মূল কারবারিরা বিচারে...

মেধাবী উদ্যোক্তারা পাবেন ৫ কোটি টাকা: প্রধানমন্ত্রী

দেশের সম্ভাবনাময় স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দি...

জুনে সড়কে ঝরল ৪৬৩ প্রাণ, শীর্ষে চট্টগ্রাম

দেশে সড়ক দুর্ঘটনা উদ্বেগজনক হারে অব্যাহত রয়েছে। গত জুন মাসে দেশের বিভিন্ন স্থ...

আজ প্রাকৃতিকভাবে কিবলা নির্ণয়ের বিরল সুযোগ

বছরে মাত্র দুবার ঘটে এমন এক বিরল জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনার সাক্ষী হচ্ছে পবিত্র...

রামপালে ৮০ জন প্রতিবেশীর ৮০ দুঃস্থকে সহায়তা  

রামপালে 'জয় অব গিভিং' এই প্রতিপাদ্যে ৮০ জন প্রতিবেশী ৮০ জন দুঃস্থ প্র...

কাশি কমাতে লবঙ্গ ব্যবহার করতে চান? জানুন ব্যবহার পদ্ধতি

সর্দি, অ্যালার্জি কিংবা শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের কারণে হওয়া কাশি অনেক সময় দৈনন...

এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য সুখবর 

প্রতিকূল আবহাওয়া বা অনিবার্য কারণে চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার কোনো বিষয়ে...

বাংলাদেশের সমর্থকদের আনন্দ দিতে চাই: আর্জেন্টিনা কোচ

বাংলাদেশের আর্জেন্টিনা-সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন আর্জেন্টিনা জাত...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা