আন্তর্জাতিক

কাজের কারণে বিশ্বে মরছে ২০ লাখ মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বব্যাপী কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নানা কারণে বছরে মারা যাচ্ছেন প্রায় ২০ লাখ (২ মিলিয়ন) মানুষ। দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে অসুস্থ হয়ে পড়া, কর্মক্ষেত্রে বায়ুদূষণের শিকার হওয়া ইত্যাদি এসব কারণের অন্যতম। জাতিসংঘের দুই সংস্থা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এর এক গবেষণায় এমন আশঙ্কাজনক চিত্র ফুটে উঠেছে।

শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। রয়টার্সের খবর।

গবেষণার ফলে দেখা গেছে, ২০১৬ সালে কাজের সঙ্গে যুক্ত অসুস্থতা ও আহত হওয়ার ঘটনায় মারা গেছেন প্রায় ১৯ লাখ মানুষ। এই প্রতিবেদন একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস বলেছেন, চাকরি করে আক্ষরিক অর্থেই এত মানুষ মারা যাচ্ছেন—তা দেখাটা পীড়াদায়ক।

পেশা বা কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এমন ঝুঁকিপূর্ণ ১৯টি বিষয়কে গবেষণায় বিবেচনা করা হয়েছে। এ বিষয়গুলোর মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করা বা বেশি কর্মঘণ্টা ছাড়াও কর্মক্ষেত্রে বায়ু দূষণ, শ্বাসকষ্ট ও ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদানের উপস্থিতি এবং শোরগোল উল্লেখযোগ্য।

গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, বিশ্বে কর্মজীবীদের এমন মৃত্যুর ঘটনা অসামঞ্জস্যহীনভাবে বেশি ঘটছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে। নারীদের তুলনায় বেশি মারা যাচ্ছেন পুরুষেরা। ৫৪ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে এমন মৃত্যুর হার বেশি।

এর আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি গবেষণায় বলা হয়েছিলো, দীর্ঘ কর্মঘণ্টার কারণে স্ট্রোক (মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ) ও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বছরে আনুমানিক ৭ লাখ ৪৫ হাজার পেশাজীবী মারা যান। ওই গবেষণাকে ভিত্তি ধরে বৃহত্তর পরিসরে ও আইএলওর সঙ্গে যৌথভাবে নতুন গবেষণাটি করা হয়েছে।

নতুন এ গবেষণায় পেশাজীবীদের মৃত্যুর অন্যতম বড় কারণ হিসেবে কর্মক্ষেত্রের পরিবেশকে দায়ী করা হয়েছে। নানা ধরনের গ্যাস, ধোঁয়া, শিল্পকারখানা থেকে নিঃসৃত ক্ষুদ্র কণার উপস্থিতিজনিত কারণে সৃষ্ট বায়ুদূষণ কর্মক্ষেত্রে প্রাণঘাতী পরিবেশ তৈরি করে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৬ সালে কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কারণে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সাড়ে ৪ লাখ মানুষের মৃত্যুর পেছনে দায়ী ছিল কর্মক্ষেত্রের বায়ুদূষণ। কাজের সময় আহত হয়ে পরে মারা যান ৩ লাখ ৬০ হাজার জন।

প্রতিবেদনে একটি ইতিবাচক দিকও উঠে এসেছে। যেমন কর্মক্ষেত্রে বায়ুদূষণজনিত কারণে মৃত্যুর হার ২০০০ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ১৪ শতাংশ কমে গেছে। যার অর্থ হলো, এই সময়ে কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটে থাকতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কর্মসংশ্লিষ্ট অসুস্থতায় মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

সান নিউজ/এফএআর

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

শীর্ষ ইরানি নেতাদের হত্যা অগ্রহণযোগ্য: চীন

ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানির নিহত হওয...

দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির

দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা...

ঈদে আসছে নতুন সিনেপ্লেক্স

সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে সিনেমা দেখার অভ্যাসও। এক সময় দর্শকদের প্রধান ভরসা ছিল স...

ঈদুল ফিতরে নেতৃবৃন্দের সিডিউল

দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাতে অংশ নিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী...

ঈদ আনন্দ উপভোগের কেন্দ্রসমুহ

পবিত্র ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটিতে কর্মব্যস্ত ঢাকা নগরী অনেকটাই যানজটমুক্ত হয়ে প...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা