ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মোস্তফিজুর রহমান বলেছেন, শিল্পাঞ্চল তথা গার্মেন্টস সেক্টরে শ্রমিক আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলাকারীরা কেউ সাধারণ শ্রমিক নয়। তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন। ভিন্ন উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে লক্ষ্যে নাশকতাকারীদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে। সোমবার বিকেলে সাভারের বিভিন্ন কারখানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
ডিআইজি মুস্তাফিজুর রহমান এসময় আরও বলেন, মজুরী বোর্ড গঠনের পরও যারা স্থিতিশীলতায় বিঘ্ন ঘটাচ্ছে এবং অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করছে নিশ্চয়ই তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন, তারা সাধারন শ্রমিক হতে পারেনা। পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা হলো, যারা এই ধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করছেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে। এই ধরনের কর্মকান্ডের সাথে কারা জড়িত এবং তাদের ইন্ধনদাতা কারা, যাবতীয় তথ্য কিন্তু পুলিশ সংগ্রহ করছে। কোন মতেই তাদের অসৎ উদ্দেশ্য সফল করতে দেয়া হবেনা। এক্ষেত্রে যা যা করা দরকার, আইনের মধ্যে থেকে সবকিছুই করা হবে। গার্মেন্টস সেক্টরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী যে দলেরই হোক না কেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেন, শ্রমিক ভাই বোনেরা আপনারা কোন কুচক্রী মহলের ফাঁদে পা দিবেন না। আপনারা কাজে ফিরে আসুন, নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব পুলিশের। কেউ যদি আপনাদেরকে বিভ্রান্ত বা চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করে আমাদেরকে জানান, আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করবো। এইকভাই গার্মেন্টস মালিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে এবং দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে আপনারা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখুন আমরা আপনাদের নিরাপত্তা দিবো। তিনি বলেন, ঢাকা জেলা পুলিশ, শিল্প পুলিশ, এপিবিএনসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা মাঠে কাজ করছে। আমাদের গোয়েন্দাদের কাছে যেসব ফুটেজ আছে এবং মিডিয়ায় যেসব ফুটেজ এসেছে তার বাইরে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে দুস্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। কাউকেই ছাড় দেয়া হবেনা।
অন্যদিকে শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি পরিদর্শনে গিয়ে ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডাঃ দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু বলেছেন, পতিত সরকারের দোসরা সাভার ও আশুলিয়ায় গার্মেন্ট সেক্টরকে অস্থিতিশীল করে আন্দোলন করার চেষ্টা করছে। আপনারা দেখতে পাচ্ছেন গার্মেন্টস সেক্টরকে নিয়ে নতুন করে একটি আন্দোলন গড়ে উঠেছে। আমাদের কাছে তথ্য আছে এখানে বাহিরে থেকে লোকজন এসে এই আন্দোলনে ইন্ধন দিচ্ছে। পতিত সরকারের লোকজন আশপাশের দেশের পরামর্শে এই আন্দোলনটা শুরুর চেষ্টা করছে। এদের মধ্যে বেশীরভাগই বহিরাগত। আমরা জানতে পেরেছি কিছু মহিলারাও হিজাব পড়ে, মুখে মাস্ক পড়ে একটা গার্মেন্টসে গিয়ে বলছে এই গার্মেন্টস চলবেনা। পরে ওই গার্মেন্টস এর শ্রমিকরা বাইরে বের হয়ে আসে। এভাবে বিভিন্ন কারখানায় বাইরে থেকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও গাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে, ভাংচুর করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আমি বিশ্বাস করিনা একজন শ্রমিক কোন দাবি দাওয়া নিয়ে তারা নিজের কর্মস্থলে ভাংচুর করবে, আগুন লাগিয়ে দিবে। এটা কখনই হতে পারেনা, এটা বহিরাগতদের কাজ। এটা পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হচ্ছে। এদেরকে চিহ্নিত করতে হবে। পুলিশ ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে এবং এই এলাকার সংসদ সদস্য হিসেবে আমি মনে করছি, ডিসেম্বরে পতিত সরকারের দোসররা একটি কর্মসূচী দিয়েছে তাদের আপা নাকি দেশে আসবে। তার এই এই গার্মেন্টস সেক্টরকে একটু উত্তপ্ত করা এবং গার্মেন্টগুলোকে বন্ধ করে সরকারকে একটা চাপের মধ্যে ফেলতে পারে এটাই তাদের মূল লক্ষ্য। কাজেই শ্রমিকদের দাবি থাকতেই পারে। সেজন্য রাস্তা অবরোধ, গাড়ি ভাংচুর, আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়ার মতো নৈরাজ্য চলতে দেয়া যাবেনা। এটা আমরা রাজনৈতিকভাবেই মোকাবেলা করবো।
সাননিউজ/বান্না