বগুড়ার গাবতলী উপজেলার সুখানপুকুরে অবস্থিত সৈয়দ আহম্মদ কলেজ কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষায় নির্ধারিত সময়ের পরিবর্তে ২২ মিনিট বিলম্বে প্রশ্নপত্র বিতরণের ঘটনায় প্রশাসনিকভাবে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঘটনার জেরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহানাজ পারভীনকে স্ট্যান্ড রিলিজ করে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
একই সঙ্গে পুরো ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি)-এর নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
পরীক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা কেন্দ্র সচিব ও সৈয়দ আহম্মদ কলেজের অধ্যক্ষ মো. সাইদুজ্জামান জানান, উপজেলা ট্রেজারিতে সংরক্ষিত প্রশ্নপত্রের ট্রাঙ্ক থেকে ভুলক্রমে অন্য বিষয়ের প্রশ্নপত্র কেন্দ্রে নিয়ে আসায় এ জটিলতার সৃষ্টি হয়। পরে সঠিক প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হয় এবং সময়ের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে অতিরিক্ত সময় বরাদ্দ দেওয়া হয়।
তিনি আরও দাবি করেন, একই ধরনের ভুল জেলার আরও কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঘটেছে।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সকালে এইচএসসির ভূগোল প্রথমপত্র পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে সঠিক প্রশ্নপত্র কেন্দ্রে পৌঁছায়নি। পরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর নির্দেশে পরীক্ষা শুরুর ২২ মিনিট পর শিক্ষার্থীদের হাতে প্রশ্নপত্র তুলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় পরীক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর গাবতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বিষয়টি বিস্তারিত উল্লেখ করে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত প্রতিবেদন জমা দেন।
বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান জানান, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র সচিবসহ দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হবে। পাশাপাশি বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ইতোমধ্যে এসিল্যান্ড শাহানাজ পারভীনকে প্রত্যাহার করে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, এ ঘটনায় কেন্দ্র সচিবের পাশাপাশি গাবতলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তারও দায়িত্বে গাফিলতির বিষয়টি বিবেচনায় এসেছে। তাদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পৃথকভাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান শামীম আরা চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা এবং পরীক্ষা পরিচালনায় সমন্বয়ের ঘাটতির বিষয়টি উঠে এসেছে। জেলা প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ইউএনওর প্রতিবেদন শিক্ষা বোর্ডে পৌঁছেছে। আগামী রোববার শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে পৃথক একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, জাতীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ব্যবস্থাপনায় এমন ত্রুটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করে। তাই তদন্তের মাধ্যমে দায় নির্ধারণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।