মাদারীপুরের শিবচরে সড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধ ভাবে বালু ও মাটি ব্যবসায়ীদের অবৈধ ডাম্প ট্রাক। যার কারণে ভোগান্তিতে পথচারী ও এলাকাবাসী।
সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন আঞ্চলিক ও গ্রামীণ সড়কে শত শত ডাম্প ট্রাক অবাধে চলাচল করছে। উৎরাইল,থানা রোড, শিবরায়েরকান্দি, কলাতলা,শেকপুর,মাদবরেরচর, বহেরাতলা,চরশ্যামাইল,বাইপাস সড়ক,যাদুয়ারচর,ডিসি রোড, ফলে সড়কের অবস্থা দ্রুত অবনতি ঘটছে এবং জনদুর্ভোগ বাড়ছে।”
শিবচর উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার অধিকাংশ সড়কে বালুবাহী অবৈধ ডাম্প ট্রাকের বেপরোয়া চলাচলে ভোগান্তিতে পড়েছে শিক্ষার্থী, পথচারী ও সাধারণ মানুষ। ভারী যানবাহনের অতিরিক্ত চাপের কারণে উপজেলার বিভিন্ন সড়ক দিন দিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন আঞ্চলিক ও গ্রামীণ সড়কে শত শত ডাম্প ট্রাক অবাধে চলাচল করছে। ফলে সড়কের অবস্থা দ্রুত অবনতি ঘটছে এবং জনদুর্ভোগ বাড়ছে।”
জানা গেছে, শিবচর উপজেলায় প্রায় চার শতাধিক অবৈধ ডাম্প ট্রাক চলাচল করছে। এসব যানবাহনের অধিকাংশই অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন চালকদের দ্বারা পরিচালিত। অনেক ট্রাকের ফিটনেস সার্টিফিকেট, ট্যাক্স টোকেন ও নাম্বার প্লেট নেই। খোলা ট্রাকে অতিরিক্ত বালু বহন করে বেপরোয়া গতিতে চলাচলের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। একইসাথে ধুলাবালি ও শব্দদূষণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী।”
বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের সময় ডাম্প ট্রাকের দীর্ঘ সারির কারণে প্রায়ই যানজটের সৃষ্টি হয়। দ্রুতগতিতে চলাচলকারী ট্রাক পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় ধুলাবালিতে রাস্তা ঢেকে যায়, ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। অনেক শিক্ষার্থীকে ধুলাবালির মধ্যে যাতায়াত করতে হচ্ছে, যা স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি করছে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিবচর উপজেলার বিভিন্ন বালুমহাল ও চরাঞ্চল থেকে প্রতিদিন শত শত ডাম্প ট্রাকে বালু উত্তোলন ও পরিবহনের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হয়। অধিকাংশ ট্রাক অতিরিক্ত বালু বহন করায় সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।”
এলাকাবাসীর দাবি, এসব অবৈধ ট্রাকের অধিকাংশ মালিক রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালনা করা হলেও তা স্থায়ী কোনো ফল দিচ্ছে না। কয়েক ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর পুনরায় ট্রাকগুলো সড়কে নেমে পড়ে।”
স্থানীয়রা জানায়, গ্রামীণ সড়কগুলো মূলত হালকা যানবাহন চলাচলের জন্য নির্মিত হলেও ভারী ডাম্প ট্রাকের কারণে অনেক স্থানে ফাটল ও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এসব সড়ক আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।”
অন্যদিকে সচেতন মহল মনে করে, অবৈধ ডাম্প ট্রাকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং অতিরিক্ত ভার বহন নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। অন্যথায় সড়কের ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি জনদুর্ভোগ আরো বৃদ্ধি পাবে।”
স্থানীয় জনগণ অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধ এবং দিনের বেলায় বালুবাহী ডাম্প ট্রাক চলাচল নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত ও সড়ক রক্ষায় অবৈধ ডাম্পট্রাক নিয়ন্ত্রণ এখন সময়ের দাবি।”
এ বিষয়ে শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম ইবনে মিজান বলেন, ‘একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা করা হয়েছে। এসব যানবাহনের চলাচলে বিভিন্ন বিধিনিষেধ রয়েছে। দিনের বেলায় বালুবাহী ডাম্প ট্রাক চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল। খুব শিগগিরই তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
সান নিউজ/ জামান