প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের একদফা দাবিতে এবার আরও জোরালো ও দীর্ঘমেয়াদি লড়াইয়ের রূপরেখা চূড়ান্ত করতে চলেছে বিরোধী দলগুলোর মঞ্চ ‘ইন্ডিয়া’। উৎসবের মৌসুমে মাঠের কর্মসূচি কিছুটা শ্লথ হলেও বিরোধীরা যে তাদের অবস্থান থেকে একচুলও নড়ছে না, তা পরিষ্কার হয়ে গেছে। আগামী দিনে সরকারের ওপর চাপ দ্বিগুণ করতে বিশেষ কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে সমমনা দলগুলো।
ভার্চুয়াল বৈঠকে বসছেন জোটের শীর্ষ নেতারা : ছুটি ও উৎসবের আমেজ কাটতে না কাটতেই আন্দোলনের পরবর্তী অধ্যায় কেমন হবে, তা নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসার কথা রয়েছে বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতাদের।
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের উদ্যোগে আয়োজিত এই ভার্চুয়াল বৈঠকে আগামী নভেম্বরের আন্দোলন কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হতে পারে। নির্বাচন পরিচালনা পর্ষদের নিরপেক্ষতা নিয়ে যেসব প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা, তা এদিনের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।
পহেলা নভেম্বর দিল্লির রাজপথে বড় জমায়েত : নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ কর্মকর্তার পদত্যাগের দাবিকে সামনে রেখে আগামী পহেলা নভেম্বর রাজধানী দিল্লিতে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছে বিরোধী শিবির।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, দিল্লির ঐতিহ্যবাহী রামলীলা ময়দান থেকে শুরু করে নির্বাচন কমিশনের মূল কার্যালয় পর্যন্ত মার্চ করার কথা রয়েছে। আজকের বৈঠকে এই কর্মসূচি সফল করার পাশাপাশি দেশজুড়ে আন্দোলনের পরিধি কীভাবে বিস্তার লাভ করবে, সে বিষয়েও সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
অনড় অবস্থানে কংগ্রেস ও বাম নেতৃত্ব : লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এর আগেই স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, কাঙ্ক্ষিত দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথের লড়াই থামবে না। কংগ্রেস নেতৃত্ব এই আন্দোলনে তাদের অনমনীয় মনোভাব বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর।
অন্যদিকে, সিপিআই(এম)-এর সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবিও জানিয়েছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে একাধিক বিকল্প কৌশল নিয়ে ভেতরে ভেতরে আলোচনা চলছে। দিল্লিতে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সফল মিছিলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আন্দোলনকে দীর্ঘমেয়াদে টিকিয়ে রাখতে এবং সরকারের ওপর বহুমুখী চাপ বজায় রাখতে সমমনা দলগুলো একসঙ্গেই পথ চলতে চায়।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে কেন্দ্র ও বিরোধীদের এই সংঘাত আগামী দিনে ভারতীয় রাজনীতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সংসদের অন্দরের পাশাপাশি রাজপথের আন্দোলন—উভয় মাধ্যমকেই সমানভাবে কাজে লাগিয়ে বিরোধী জোট তাদের চাপ অব্যাহত রাখার কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে।
সান নিউজ / রাজীব