আমেরিকার সঙ্গে সম্মানজনক ও সমতার ভিত্তিতে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য ওয়াশিংটনের প্রতি কড়া বার্তা দিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস-এ প্রকাশিত এক মতামত কলামে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, কূটনীতির পথ ছেড়ে তেহরানের ওপর নতুন করে কোনো সামরিক চাপ প্রয়োগ করা হলে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও বড় ধরনের কৌশলগত বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হবে।
আব্বাস আরাকচি তার নিবন্ধে উল্লেখ করেছেন যে, ওয়াশিংটনকে স্থায়ীভাবে শত্রুতা ও আগ্রাসী মনোভাব বাদ দিয়ে সত্যিকার সদিচ্ছার প্রমাণ দিতে হবে। প্রাচীন ও সমৃদ্ধ সভ্যতার দেশ ইরান কোনো পরাশক্তির সামনে কখনো মাথা নত করবে না উল্লেখ করে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, নিজেদের ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তেহরান সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে।
শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খোলা রাখার কথা বলা হলেও যেকোনো আক্রমণ প্রতিহত করার মতো সামরিক প্রস্তুতিও যে তাদের রয়েছে, সে বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী মনোভাব প্রকাশ করেছেন দেশটির এই শীর্ষ কূটনীতিক।
গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে চলতি বছরের বিভিন্ন সময়ে (জুন ২০২৫, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এবং চলতি বছরের জুন মাস) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে যে হামলাগুলো চালিয়েছে, তার তীব্র সমালোচনা করেছেন আরাকচি। বিশেষ করে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে সম্পূর্ণ ভুল মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে আগ্রাসন চালিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ তোলেন।
যুদ্ধবিরতি বা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের ঠিক আগমুহূর্তেও হামলার ঘটনা ঘটার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি প্রশ্ন রাখেন যে, এমন পরিস্থিতিতে তেহরান কীভাবে ওয়াশিংটনের নীতি বা প্রেসিডেন্টকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করবে? মার্কিন প্রশাসনের শান্তি আলোচনার সদিচ্ছার ওপর যে তাদের গভীর অনাস্থা রয়েছে, তাও তিনি খোলামেলাভাবে তুলে ধরেছেন।
এতসব তিক্ততা ও উদ্বেগের মধ্যেও আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়নি তেহরান। কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে শেষবারের মতো আরেকটি সুযোগ দিতে ইচ্ছুক ইরান। সম্প্রতি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে মধ্যস্থতাকারীদের মারফত ওয়াশিংটনের কাছে সাত দিনের একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা বা পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন আরাকচি।
এই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হলো চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটানো এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নৌপথ পুনরায় সচল করা।
প্রস্তাবিত এই কর্মপরিকল্পনার ষষ্ঠ দিনে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যার ধারাবাহিকতায় সপ্তম দিনে চূড়ান্ত চুক্তির ওপর নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে। এই পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে গোটা অঞ্চলের দৈনন্দিন গতিশীলতা ও স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে বলে আশাবাদী তেহরান।
তবে অঞ্চলটিতে নতুন করে যেকোনো সামরিক সংঘাত ঘটলে তা কেবল আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকেই নয়, বরং গোটা বিশ্বের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে চরম হুমকির মুখে ফেলে দেবে বলে কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
সান নিউজ / রাজীব