ফিচার

যে মহামারিতে ১০ লাখ মানুষ ঘুমিয়েই মারা গিয়েছিল

ফিচার ডেস্ক : অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে করোনা মহামারি । বিশ্বব্যাপী এ পর্যন্ত করোনায় মৃতের সংখ্যা প্রায় ৩২ লাখ। ইতিহাসে এমন অনেক মহামারির উল্লেখ আছে।

যুগে যুগে বিশ্ব বিভিন্ন মহামারিতে আক্রান্ত হয়েছে। মারণযজ্ঞ চলেছে, লাখ লাখ মানুষ অজানা রোগে চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুবরণ করেছে।

ইতিহাসের পাতা ওল্টালে এ রকম প্রাণঘাতী অনেক মহামারির উদাহরণ পাওয়া যাবে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়েও অজানা এক ভাইরাসের কবলে পড়েছিল বিশ্ব। ১০ লাখেরও বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল ঘুম মহামারিতে। অজানা এক ভাইরাস কাবু করেছিল পুরো ইউরোপকে।

তখন সবে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে। তার মধ্যেই নতুন এই ভাইরাসের আতঙ্ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছিল ইউরোপজুড়ে। গবেষণা বলছে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশ নিয়ে মারা যাওয়া মানুষের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি মারা যায় এই মহামারিতে। ১৯১৬ সালে এই মহামারির সাক্ষী হয়েছিল বিশ্ব।

১৯১৪ সালের ২৮ জুলাই ইউরোপে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয় এবং ১১ নভেম্বর ১৯১৮ পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ার পর ভাইরাসটি নিউ ইয়র্কেও প্রবেশ করে। আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছি। তবে অজানা এ রোগের উপসর্গ তেমন ভযঙ্কর ছিল না।

ঘুমের মধ্যেই প্রাণ যেত আক্রান্তদের। ইতিহাসে ঘুম রোগ নামেও পরিচিত এই মহামরি। আক্রান্তরা ঘুমে আচ্ছন্ন থাকত সবসময়। কোনো কাজ করতে পার না তারা। কোনোভাবেই তাদেরকে জাগিয়ে রাখানো যেত না। দিনের পর দিন ঘুমাতে ঘুমাতে মৃত্যু হতো আক্রান্তদের।

ইতিহাসের তথ্য অনুসারে, এ রোগে আক্রান্ত পুরোপুরি সচেতন আবার অচেতনও থাকত না। তারা চেয়ারে সারাদিন অবিচ্ছিন্ন এবং নির্বাক হয়ে বসে থাকত। পুরোপুরি শক্তিহীন ছিল তারা। ক্ষুধাবোধও করত না তারা। সবচেয়ে কষ্টকর বিষয় হলো, এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর রোগীরা তাদের কোনো অসুবিধার কথাই বলতে পারেনি। তারা কোনো অনুভূতি প্রকাশের মতো অবস্থাতেও ছিল না।

এ রোগের নাম দেওয়া হয় এনসেফালাইটিস ল্যাথারজিকা। স্লিপিং সিকনেস নামেও পরিচিত এ রোগটি। এই রোগটি মস্তিষ্কে আক্রমণ করায় আক্রান্তরা মূর্তির মতো বাকরুদ্ধ এবং গতিহীন হয়ে যায়। ১৯১৫-১৯২৬ সাল মস্তিষ্কপ্রদাহ এ রোগটি সারাবিশ্বে লাখো মানুষকে সংক্রমিত করে।

এ রোগে যারা বেঁচেছিলেন, তারাও আগের মতো জীবন আর ফিরে পাননি। অনেকটা প্রতিবন্ধীর মতো বাকি জীবন কাটান তারা।

এই রোগের লক্ষণ ছিল জ্বর, গলা ব্যথা, মাথাব্যথা, অলসতা, ডাবল ভিশন, মানসিক প্রতিক্রিয়াহীন এবং অতিরিক্ত ঘুম। গুরুতর ক্ষেত্রে রোগীরা কোমায় চলে যেতেন। ঘুমের মধ্যেই রোগীরা চোখ অস্বাভাবিকভাবে নড়তে থাকত। এ চাড়াও তারা স্মৃতিভ্রষ্ট হয়ে যেত। শরীরের পেশিতে ব্যথা, কাঁপুনি, ঘাড় সোজা রাখতে না পারাসহ আক্রান্তরা জড়বস্তুতে পরিণত হত।

১৯১৬ সালে ভের্ডনের যুদ্ধ ফেরত এক সৈনিকের শরীরে প্রথম এই রোগটি খুঁজে পাওয়া গিয়েছিলো। সেনাবাহিনীর সদস্য হওয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবেই তারা সবল ছিলেন। তবে হঠাৎ করেই তাদের মধ্যে অদ্ভুত পরিবর্তন দেখা দেয়। তারা অলস হয়ে পড়েন।

স্থিরভাবে একদিকে তাকিয়ে থাকলেও মনোযোগ ছিল না তাদের। কিছুদিনের মধ্যেই শোনা যায় যে তার মতোই আরো অনেক সৈনিক এই রোগে ভুগছেন। পুরো সেনাবাহিনীর সদস্যরা নিষ্প্রাণ হয়ে যান। সবাই ঘুমের ঘোরে দিন কাটাতে থাকেন। কেউ চেয়ারে, কেউ বিছানায়, মাটিতে- যেখানে সেখানে পড়ে ছিল সেনাবাহিনীদের শরীরগুলো।

ভিয়েনার এক স্নায়ুবিদ পরীক্ষা করে দেখেন, স্লিপিং সিকনেসের কারণে মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস অংশটি ক্রমশ শুকিয়ে যাচ্ছে বলেই ঘুমের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। ভাইরাল এবং ব্যাকটেরিয়া এ রোগের জন্য দায়ী। ধারণা করা হয়, ১৯১৮ সালের স্প্যানিশ ফ্লুর সঙ্গেও এই রোগের ঘনিষ্ঠতা আছে।

জার্মান নিউরোলজিস্ট ফেলিক্স স্টার, যিনি ১৯২০ সালে কয়েকশ এনসেফালাইটিস লেদারজিকার রোগীদের পরীক্ষা করেছিলেন। তিনি তার এপিডেমিস ইন্সেফালাইটিস বইয়ে উল্লেখ করেন, তাদের শরীরে এনসেফালাইটিস লেথারজিকা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিকশিত হয়েছিল। এর প্রাথমিক লক্ষণ ছিল নিদ্রাহীনতা, এরপর মস্তিষ্ক বিভ্রাট এবং পরবর্তী লক্ষণটি ছিল পার্কিনসন-জাতীয় সিনড্রোম।

২০১০ সালে, এনসেফালাইটিস লেদারজিকার সম্পর্কিত ঐতিহাসিক এবং সমসাময়িক দৃষ্টিভঙ্গি পর্যালোচনাকালে বলা হয়, ‘আমাদের অবশ্যই স্বীকার করতে হবে, এনসেফালাইটিস লেদারজিকার রোগটি এখনও প্যাথলজিকাল ধাঁধা হিসেবে অমীমাংসিতই রয়ে গেছে।’

সূত্র: নিউরোলোজি লাইভ/ একাডেমিক

সাননিউজ/এএসএম

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

আহলাদীপুর হাইওয়ে পুলিশ: মহাসড়কের প্রহরী

‎প্রায় দেড় যুগ ধরে রাজবাড়ীর ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের খানখানাপুর, গোয়ালন্দ মোড়,...

জনসংখ্যা নয়, মানবসম্পদ: বাংলাদেশের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ

সংখ্যার হিসেবে বিশ্বের অষ্টম বৃহৎ জনসংখ্যার দেশ বাংলাদেশ। একসময় জনসংখ্যাকে উন...

বৃষ্টিপাতের তীব্রতা কিছুটা কমলেও আবারও ভারি বর্ষণের শঙ্কা

টানা কয়েক দিনের ভারি বর্ষণের পর আজ (সোমবার) থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপ...

ইসলামী ব্যাংকের শরী’আহ সুপারভাইজরি কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর শরী’আহ সুপারভাইজরি কমিটির এক সভা ১৩ জু...

টানা বর্ষণে কাপ্তাই লেকে পানি বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ উৎপাদন সর্বোচ্চ

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে রাঙামাট...

ঝালকাঠিতে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

ঝালকাঠি শহরের কাঁসারিপট্টি এলাকায় অন্তর দে নামের ২৪ বছর বয়সী এক যুবকের ঝুলন্...

মাদারীপুর সরকারী কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় করার ঘোষণা

মাদারীপুর সরকারি কলেজের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) ১ম বর্ষের নবীনবর...

২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নত...

মেধাবী উদ্যোক্তারা পাবেন ৫ কোটি টাকা: প্রধানমন্ত্রী

দেশের সম্ভাবনাময় স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দি...

আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ, ‘লক্ষণ ভালো নয়’: জামায়াত আমির

দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াত...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা