ভুলবশত ৯.৯ মাত্রার ভূমিকম্পের সতর্কতা জারির কয়েক মিনিটের মধ্যেই তা প্রত্যাহার করেছে জাপানের আবহাওয়া সংস্থা। এ ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ তৈরি হওয়া এবং পরিবহনব্যবস্থায় সাময়িক বিঘ্ন ঘটায় দুঃখ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
শুক্রবার প্রথমে জাপানের আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) জানায়, দেশটির কাছাকাছি কুরিল দ্বীপপুঞ্জ এলাকায় ৯.৯ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়েছে। জাপানে এই দ্বীপপুঞ্জ ‘চিশিমা দ্বীপপুঞ্জ’ নামে পরিচিত। সতর্কতা জারির পর লাখ লাখ মানুষের মোবাইল ফোনে জরুরি বার্তা পৌঁছে যায়।
তবে কয়েক মিনিট পর সংস্থাটি জানায়, প্রকৃতপক্ষে রাশিয়ার কামচাটকা উপদ্বীপের কাছে ৬.৯ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়েছে। স্থানীয় সময় দুপুরের কিছুক্ষণ পর এ কম্পন অনুভূত হয়। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার গভীরে।
জাপানের আবহাওয়া সংস্থার কর্মকর্তা শিনিয়া সুকাদা সাংবাদিকদের বলেন, ‘জনসাধারণের মধ্যে যে ব্যাপক অসুবিধা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, তার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।’
ভুল সতর্কবার্তার কারণে বড় ধরনের আতঙ্ক ছড়িয়ে না পড়লেও সাময়িকভাবে গণপরিবহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।
জেএমএ জানিয়েছে, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল নির্ধারণের হিসাব করতে গিয়ে ত্রুটি হওয়ায় এ ভুলের সৃষ্টি হয়।
সংস্থাটির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল প্রকৃত অবস্থানের তুলনায় জাপান থেকে প্রায় ৬৮০ কিলোমিটার দূরে বলে ভুলভাবে নির্ধারণ করা হয়েছিল। এই ভুল হিসাবের ভিত্তিতেই ভূমিকম্পের মাত্রা ৯.৯ বলে জানানো হয়।
২০১১ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামির স্মৃতি এখনো জাপানবাসীর মনে গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে। ওই বছর সমুদ্রের তলদেশে ৯.০ মাত্রার ভূমিকম্পের পর শক্তিশালী সুনামি আঘাত হানে। এতে প্রায় ১৮ হাজার ৫০০ মানুষ নিহত হন অথবা নিখোঁজ হন। সেই দুর্যোগে ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ৯.৯ মাত্রার ভূমিকম্প হলে তা ২০১১ সালের ভূমিকম্পের তুলনায় প্রায় ২২ গুণ বেশি শক্তিশালী হতো।
সান নিউজ/ রাব্বি