মুসলিম বিশ্বে বহুল প্রচলিত ‘মোহাম্মদ’ নাম নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার সময় তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের কারও নাম মনে না থাকলে তাকে ‘মোহাম্মদ’ বলে ডাকলেই চলে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ডালটনে এক নির্বাচনী সমাবেশে এ মন্তব্য করেন ট্রাম্প। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনে ডালটন মিউনিসিপ্যাল বিমানবন্দরে সমাবেশটির আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের কারও নাম জানা না থাকলে তাকে ‘মোহাম্মদ’ বলে সম্বোধন করা যেতে পারে। তার দাবি, এভাবে ডাকলে ৬৫ শতাংশ ক্ষেত্রে নামটি মিলে যায়।
ভাষণে ইরানের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানই একমাত্র দেশ, যেখানে কেউ প্রেসিডেন্ট হতে চান না। এ সময় কয়েকজন কাল্পনিক ব্যক্তির দিকে তাকিয়ে রসিকতার সুরে তিনি জানতে চান, তাদের কেউ দেশটির প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিতে আগ্রহী কি না। তবে ২০২৪ সাল থেকে মাসুদ পেজেশকিয়ান ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ট্রাম্পের এ মন্তব্যের পর সমাবেশে উপস্থিত দর্শকদের কাছ থেকে তুলনামূলকভাবে সীমিত প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অন্যদিকে, মানবাধিকার সংস্থা ও যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন মুসলিম ও অভিবাসীদের নিয়ে ট্রাম্পের বারবার করা অবমাননাকর মন্তব্যের সমালোচনা করেছে।
কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনসের (সিএআইআর) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী অবস্থান এবং দ্বিতীয় মেয়াদের বিভিন্ন নীতির প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামবিদ্বেষ ও মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে সংস্থাটি মনে করে।
সান নিউজ/ রাব্বি