মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প । ছবি : পলিটিকো
আন্তর্জাতিক

প্যারিস শিগগিরই মুসলিম শহরে পরিণত হবে : ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান শিবির যখন তীব্র রাজনৈতিক চাপে রয়েছে, ঠিক সেই সুযোগেই ফ্রান্সের সাম্প্রতিক নাগরিক অস্থিরতাকে নিজের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার শুরু করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গতকাল সোমবার ক্যানসাস অঙ্গরাজ্যের একটি জনসভায় ফরাসি পরিস্থিতির অত্যন্ত কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন হোয়াইট হাউসের এই প্রধান। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, একদল অভিবাসী, উগ্রপন্থী এবং কমিউনিস্ট শক্তি যৌথভাবে ফ্রান্সজুড়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে। নিজের দেশের সীমানায় এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হতে দেবেন না বলেও হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।

ট্রুথ সোশ্যালে কড়া বার্তা ও পুরোনো কথোপকথনের অবতারণা : এদিন দিনের শুরুতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ৮০ বছর বয়সি মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, অভিবাসীদের কারণে ফ্রান্সের সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হয়েছে এবং দেশটির অবিলম্বে সীমান্ত সিল করা উচিত।

এছাড়া সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁর সঙ্গে তাঁর পুরোনো একটি আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প জানান, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনিয়ন্ত্রিত মানুষজনকে দেশের ভেতরে ঢুকিয়ে ফরাসি প্রশাসন অনেক আগেই বড় ভুল করেছে বলে তিনি সতর্ক করেছিলেন।

উল্লেখ্য, জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার কারণে গত সপ্তাহের শেষে ফ্রান্সের বিভিন্ন অঞ্চলে যে সাধারণ বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, তা পরবর্তীতে বেশ কিছু স্থানে লুটপাট ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতে রূপ নেয়। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আয়ত্তে আনতে সোমবার ফরাসি কর্তৃপক্ষ বেশ কিছু এলাকায় আংশিক কারফিউ জারি করতে বাধ্য হয়।

মুদ্রাস্ফীতি ও জীবনযাত্রার সংকট থেকে এই আন্দোলনের সূত্রপাত হলেও, পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যকার সেই সংঘর্ষের দৃশ্যগুলোকে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব অভিবাসনবিরোধী রাজনৈতিক এজেন্ডা প্রমাণের মোক্ষম অস্ত্র হিসেবে কাজে লাগাচ্ছেন। উল্লেখ্য, এই কঠোর অভিবাসনবিরোধী নীতিকে পুঁজি করেই তিনি অতীতে নির্বাচনে জয়লাভ করে দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতা দখল করেছিলেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, অভিবাসীদের কারণে

ফ্রান্সের সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হয়েছে এবং দেশটির অবিলম্বে সীমান্ত সিল করা উচিত।”

অভ্যন্তরীণ ফায়দা হাসিলে ইউরোপকে ব্যবহারের কৌশল : জার্মান মার্শাল ফান্ডের জ্যেষ্ঠ গবেষক জে.সি. লিন্টজেনিখের মতে, মার্কিন রাজনীতিকরা ফরাসি এই সংকটের মুহূর্তটিকে নিজেদের নির্বাচনি বৈতরণী পার হওয়ার হাতিয়ার হিসেবে পুরোপুরি কাজে লাগাচ্ছেন। আগামী ৩ নভেম্বরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে জনমত জরিপগুলোতে ডেমোক্রেটিক পার্টি উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে।

এই ভোটের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে। হাতে মাত্র দুই সপ্তাহ সময় থাকায় ভোটারদের মন জয় করতে রিপাবলিকান ও ‘মাগা’ (মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন) আন্দোলনের পক্ষে সব ধরনের কৌশল আঁকড়ে ধরেছেন ট্রাম্প।

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির অধ্যাপক জাস্টিন ভাইস মনে করেন, ‘মাগা’ আন্দোলনের জন্মলগ্ন থেকেই ইউরোপীয় ভূখণ্ডের বিভিন্ন ঘটনাকে মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক লড়াইয়ের বর্ধিত মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে আসছে। ফলে ফরাসি জনপদে এই ধরণের আকস্মিক অস্থিরতা তৈরি হওয়া মানেই উগ্র-ডানপন্থী রাজনৈতিক যন্ত্রের চাকা আরও দ্রুত সচল হয়ে ওঠা।

ফরাসি সহিংসতার বিভিন্ন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই মার্কিন উপরাষ্ট্রপতি জে.ডি. ভ্যান্স এক্স হ্যান্ডলে মন্তব্য করেন যে, পশ্চিমা উদারপন্থী রাজনীতিকরাই তৃতীয় বিশ্বের লোকজনকে ফ্রান্সে আমন্ত্রণ জানিয়ে এনেছেন এবং মূলধারার সমাজব্যবস্থার সঙ্গে তাদের মানিয়ে নেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ এড়িয়ে গেছেন।

এছাড়া গ্লেন বেক, বেনি জনসন কিংবা নিক সর্টরদের মতো প্রভাবশালী মার্কিন ডানপন্থী ব্যক্তিত্বরাও একই সুরে সুর মিলিয়ে মুসলিম বিশ্বের দেশগুলো থেকে আসা অভিবাসীদেরই ইউরোপের বর্তমান আত্মপরিচয় সংকটের জন্য সরাসরি দায়ী করেছেন।

ইউরোপিয়ান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস-এর প্যারিস কার্যালয়ের প্রধান এবং জ্যেষ্ঠ নীতি গবেষক সিলিয়া বেলিনের মতে, হোয়াইট হাউসের এই ধরনের মন্তব্য মূলত তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিরই কদর্য বহিঃপ্রকাশ। ইউরোপের উগ্র-জাতীয়তাবাদী শক্তিগুলোকে প্রকাশ্যে সমর্থন জোগাতে এবং নিজেদের রাজনৈতিক ফায়দা লুটতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও তাঁর সহযোগীরা অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে এই বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন।

সান নিউজ / রাজীব

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবার যাবজ্জীবন, আদালতের রায় ১১ বছর পর

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় ১৩ বছর বয়সী নিজের মেয়েক...

লোকালয়ে বাঘের পায়ের ছাপ, আতংকে এলাকায় মাইকিং

শরণখোলার লোকালয়ে সোমবার সকালে বাঘের পায়ের ছাপ দেখে...

খাগড়াছড়িতে অস্ত্র, মটরসাইকেল, টাকাসহ ৪ ডাকাত গ্রেপ্তার

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙায় দেশীয় অস্ত্রসহ ৪ ডাকাতকে আটক...

তিনশ' বছরের ঐতিহ্য বহন করছে পাঁচগাও ‘লাল দুর্গা’

সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের আনন্দ, উল্লাস আর ভক্তির বর্ণ...

দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদের ভিডিও নিয়ে মিথ্যা প্রচার

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যক...

পার্ক দে প্রিন্সেসে পিএসজি-বার্সেলোনা মহারণের চূড়ান্ত প্রস্তুতি

ফরাসি রাজধানীর রাজপথে যখন নাগরিক বিক্ষোভ, তীব্র সহিংসতা এবং ভাঙচুরের দাবানল ব...

কানাডার সঙ্গেই থাকার পক্ষে রায় দিল অধিকাংশ মানুষ

কানাডার রাজনীতি ও জাতীয় ঐক্যের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় তৈরি করল আলবার্টা প্রদে...

ডিবির দুই কর্মকর্তাকে ক্লোজ করা হলো যেসব অভিযোগে

সাভারে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) মাদক বিরোধী বিশেষ অ...

দিলীপ আগরওয়ালার রিমান্ড চায় সিআইডি

চোরাচালানের মাধ্যমে প্রায় ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ টাকার অব...

বিক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে ইন্দোনেশিয়া

ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রক্ষমতায় সাবেক সেনাপ্রধান প্রাবোও সুবিয়ান্তোর দুই বছর প...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা