শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমী উপলক্ষে রংপুরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে সৈয়দপুরে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে ঢাকা থেকে একটি সামরিক বিমানে তিনি সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফারহাদ হোসেন আজাদ, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান সামু, বিভাগীয় কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম, ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মোটর শোভাযাত্রা নিয়ে রংপুরের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। সৈয়দপুর থেকে রংপুরে যাওয়ার পথে তারাগঞ্জ ও পাগলাপীরে দুটি পথসভায় বক্তব্য দেন তিনি।
দিনব্যাপী সফরে রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং পূজারিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের কর্মসূচি রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সফর শেষে রাতে তার ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী জানান, সকাল ৯টায় প্রধানমন্ত্রী তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হন। সেখান থেকে সড়কপথে রংপুরের রাধা গোবিন্দ মন্দিরের ধর্মসভা পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যান তিনি সকাল ১০টায়। পুণ্যার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
প্রেস সচিব আরও বলেন, এদিন প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী ও চট্টগ্রামের পূজামণ্ডপও পরিদর্শন করবেন। তিন মহানগরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে রাতে ঢাকায় ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী।
রংপুরের কর্মসূচি শেষে দুপুরের আগে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে রাজশাহীর হযরত শাহ মখদুম বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করবেন তারেক রহমান। কর্মসূচি অনুযায়ী, দুপুর সোয়া ১টায় রাজশাহীর ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন তিনি। এরপর দুপুর সোয়া ২টায় রাজশাহী সার্কিট হাউসে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে কিছুক্ষণ যাত্রাবিরতি ও বিশ্রাম শেষে বিকেল ৩টায় নগরীর হাজী মুহাম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসভায় যোগ দেবেন তিনি।
রাজশাহীর কর্মসূচি শেষে বিকেল সোয়া ৪টায় শাহ মখদুম বিমানবন্দর থেকে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। বিকেল সাড়ে ৫টায় চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে নগরীর রহমতগঞ্জের জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যাবেন তিনি। সেখানে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের কর্মসূচি রয়েছে।
চট্টগ্রামের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে যাত্রাবিরতি করবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে রাত পৌনে ৮টায় শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি। নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, রাত সোয়া ৯টায় তেজগাঁও বিমানবন্দরে তার অবতরণের কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বলেন, সরকারের নীতি হলো, ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার। হিন্দু সম্প্রদায়ের দুর্গাপূজা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সরকার সারাদেশে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। এ বছর পূজার বরাদ্দ ও ছুটি বাড়ানো হয়েছে এবং পূজামণ্ডপগুলোতে সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, বিএনপির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধা, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সহসভাপতি ও সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী, বিএনপির সহকারী সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুন্ড, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
সাননিউজ/বান্না