দীর্ঘ কয়েক দশক পর রাজনৈতিক অস্থিরতায় চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পূর্ব ইউরোপের রাষ্ট্র আলবেনিয়া। রাজধানী তিরানা থেকে শুরু করে দুরেস, শকোডার, লেঝা, ভ্লোরা, জিরোকাস্টার ও কোরচেসহ দেশটির প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে এই তীব্র আন্দোলন।
মূলত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাড়তি খরচ এবং জীবনযাত্রার লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণের দাবিতে তরুণ প্রজন্মের হাত ধরে এই প্রতিবাদের সূচনা হয়েছিল। তবে সময়ের পরিক্রমায় তা বর্তমান প্রশাসনের বিরুদ্ধে একটি সর্বাত্মক রূপ ধারণ করেছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জলকামান, কাঁদানে গ্যাস এবং লাঠিচার্জের মতো কঠোর কৌশল প্রয়োগ করে। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ রূপ নেয় যে, সরকারি কয়েকটি দপ্তরের পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভবনেও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষুব্ধ জনতা দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ায় বহু মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন।
ফ্ল্যামিঙ্গো পাখির আবাসস্থল রক্ষা ও দুর্নীতির অভিযোগে উত্তাল রাজনৈতিক অঙ্গন : সার্বিক সংকটের মূলে রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের পরিবারের এক জামাতার সঙ্গে সম্পৃক্ত অ্যাড্রিয়াটিক উপকূলের একটি বিশাল পর্যটন প্রকল্প।
পরিবেশবাদীদের আশঙ্কা, এই মেগা প্রজেক্ট বাস্তবায়িত হলে উপকূলীয় অঞ্চলের একটি দ্বীপের জলচর ফ্ল্যামিঙ্গো পাখির প্রাকৃতিক বসতি ধ্বংস হয়ে যাবে। দীর্ঘ প্রায় সাড়ে চার মাস ধরে রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে গোলাপি রঙের ফ্ল্যামিঙ্গো পাখির প্রতীক হাতে নিয়ে শান্তিপ্রিয় নাগরিকরা নিয়মিত জমায়েত করে আসছিলেন।
পরিবেশগত উদ্বেগের পাশাপাশি আলবেনিয়ার শীর্ষস্থানীয় মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ আগুনে ঘি ঢেলেছে। ইতিমধ্যে সরকারের এক উপপ্রযুক্তিমন্ত্রী দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন এবং আরেকজনকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা ব্যয় সংকোচনের দাবি এখন পুরোপুরিভাবে প্রধানমন্ত্রী এডি রামার দীর্ঘমেয়াদি শাসনের অবসান ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের একক দাবিতে পরিণত হয়েছে।
বিরোধীদের উসকানি এবং বিদেশি শক্তির ইন্ধন থাকার বিস্ফোরক অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর : চলমান রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার সম্পূর্ণ দায় বিরোধী রাজনৈতিক দলের কাঁধে চাপিয়ে দিয়েছেন সরকারপ্রধান এডি রামা। নিজের পদত্যাগের সম্ভাবনা সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে তিনি উল্টো দাবি করেছেন যে, বিরোধীদলীয় সিনিয়র নেতারা দেশকে ইচ্ছাকৃতভাবে অস্থিতিশীল করে তোলার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন।
একই সঙ্গে ইইউ সদস্যপদ অর্জনের প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং অভ্যন্তরীণ শান্তি বিনষ্ট করতে কোনো কোনো বিদেশি শক্তি কলকাঠি নাড়ছে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি।
এদিকে, দেশের এমন গোলযোগপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে আলবেনিয়ায় বিদেশিদের ভ্রমণ নিয়ে নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষ।
ইউরোপের অন্যতম উদীয়মান এই পর্যটন গন্তব্যে ভ্রমণের পূর্বে স্থানীয় রাজনৈতিক আপডেটগুলোর ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখতে এবং যেকোনো ধরনের বড় জনসমাগম এড়িয়ে চলতে পর্যটকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সান নিউজ / রাজীব