সারাদেশ
এহসান গ্রুপ:

১৭ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: জমাকৃত টাকার ওপর মাসিক মুনাফা দেওয়ার কথা বলে গ্রাহকদের ১৭ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠেছে এহসান গ্রুপের প্রতিষ্ঠান পিরোজপুরের এহসান রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড বিল্ডার্স লিমিটেডের বিরুদ্ধে।

এদিকে পিরোজপুরের এহসান গ্রুপের এমডি রাগীব আহসানের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের পাওনা টাকা নিয়ে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, এহসান গ্রুপ পিরোজপুর ও আশপাশের প্রায় লক্ষাধিক গ্রাহক ও মাঠকর্মীর বিপুল আর্থিক ক্ষতি সাধন করেছে।

রোববার (৫ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ তোলেন ভুক্তভোগী গ্রাহকদের একাংশ।

ভুক্তভোগী গ্রাহকরা জানান, পিরোজপুরের এহসান রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড বিল্ডার্স লিমিটেড তাদের জমাকৃত ১৭ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী গ্রাহকদের পক্ষে মাওলানা হারুনার রশীদ বলেন, এহসান রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড বিল্ডার্সের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুফতী রাগীব আহসান এলাকার মানুষের সঞ্চয়ী হিসাব চালু করেন। জমা করা টাকার ওপর মাসিক মুনাফা দেওয়ার কথা বলে পাস বইসহ বিভিন্ন ডকুমেন্ট দিয়ে টাকা জমা নেন। এলাকার মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে কয়েকমাস মাসিক মুনাফা দেওয়ার পর বন্ধ করে দেন। এরপর নানা কথায় সময় পার করতে থাকে। একপর্যায়ে আমরা টাকা ফেরত চাইলে নানা অজুহাতে টালবাহানা শুরু করে। এভাবে প্রায় তিন বছর চলার পর টাকা-পয়সা না দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেয়।

তিনি জানান, ২০১৯ সালে রাতের আঁধারে শের-ই-বাংলা পাবলিক লাইব্রেরির ৪র্থ তলায় এহসান গ্রুপের প্রধান অফিস তালাবন্ধ করে দেয়। পরে জানা যায়, অফিস বন্ধের আগেই তারা অফিসের সব ডকুমেন্ট সরিয়ে ফেলেন। অফিস সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, এহসান রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড বিল্ডার্স লিমিটেড প্রতারণার উদ্দেশ্যেই আত্মীয়-স্বজনদের দিয়ে পরিচালিত হতো। এই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাগীব আহসানের স্ত্রী সালমা বেগম চেয়ারম্যান, রাগীব আহসানের শ্বশুর মাওলানা শাহ আলম সহ-সভাপতি, রাগীব আহসানের বাবা আব্দুর রব খান উপদেষ্টা, রাগীব আহসানের বোনের স্বামী মো. নাজমুল ইসলাম প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার, রাগীব আহসানের ভাই আবুল বাশার প্রতিষ্ঠানের সহ-পরিচালক, আর এক ভাই মাহমুদুল হাসান প্রতিষ্ঠানের সদস্য ও বাজার মসজিদের ইমাম, আর দুই ভাই শামিম খান ও খাইরুল ইসলাম প্রতিষ্ঠানের সদস্য হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।

মাওলানা হারুনার রশীদ বলেন, এহসান রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড বিল্ডার্স লিমিটেডের মাঠকর্মী আনুমানিক ১ হাজার ২০০ জন এবং সদস্য সংখ্যা এক লাখের বেশি। তারা দুই হাজার কোটি টাকা এবং পিরোজপুর, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট, ঝালকাঠীসহ অন্যান্য জেলার লোকজন ব্যক্তি উদ্যেগে সরাসরি এই প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা জমা রাখেন। গ্রাহকের টাকা নিয়ে প্রতিষ্ঠানের নামে জমি ক্রয় না করে রাগীব আহসান এবং তার আত্মীয়স্বজনের নামে জমি ক্রয় করেন। সেসব জমির ৯০ শতাংশ গোপনে বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ করেন। এহসান গ্রুপের ১৭টি প্রতিষ্ঠানের ১৬টিই উধাও হয়ে গেছে।

হারুনার রশীদ অভিযোগ করে বলেন, এহসান রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড বিল্ডার্স লিমিটেডের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের ১৭ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের বিষয়টি জেলা পুলিশ সুপার হায়াতুল ইসলাম খান জানতেন। পুলিশ সুপার হায়াতুল ইসলাম খান এক সভায় বক্তৃতাকালে এই প্রতিষ্ঠানের ১৭ হাজার কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে দুঃখ প্রকাশ করেন বলেও জানান হারুনার রশীদ।

সান নিউজ/এফএইচপি/ এমকেএইচ

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

সিরাজগঞ্জে বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার ৩ যাত্রী নিহত 

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় একটি...

ঈদুল আজহায় কোটি পশু কোরবানির সম্ভাবনা: প্রাণিসম্পদমন্ত্রী

পবিত্র ঈদুল আজহায় এবার সারা দেশে প্রায় এক কোটি পশু...

হাম ও উপসর্গে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু

হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে দেশে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছ...

কাবা শরিফ ঢেকে রাখা হয় কেন, কিসওয়া কী

সৌদি আরবের স্থানীয় সময় ৮ জিলহজ থেকে পবিত্র হজের আন...

বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ১০ নম্বর জার্সি কার গায়ে থাকবে

ফুটবলে ১০ নম্বর জার্সি একটি গুরুত্ব বহন করে। কিছু...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা