ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে নারায়ণগঞ্জে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে পিকআপে করে লাঠিসোঁটা হাতে একদল যুবকের উপস্থিতি নিয়ে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে তাদের পিকআপ ট্রাকে করে আন্দোলনস্থলে নেওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) ফতুল্লার কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন।
একপর্যায়ে তারা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড অবরোধ করলে প্রায় চার ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। এ সময় সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। এতে দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন চালকেরা।
আন্দোলনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়, পিকআপ ট্রাকে করে লাঠিসোঁটা হাতে একদল যুবককে আন্দোলনস্থলের দিকে নেওয়া হচ্ছে। ভিডিও ধারণকারী এক যুবকের গলায় ইউরোটেক্স নিটওয়্যার নামের একটি পোশাক কারখানার পরিচয়পত্র ঝুলতে দেখা যায়। কারখানাটি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার কুতুবপুর এলাকায় অবস্থিত।
ভিডিওতে পিকআপে থাকা অন্য ব্যক্তিরা ওই কারখানার শ্রমিক কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাদের আন্দোলনস্থলে পাঠানোর উদ্দেশ্য নিয়েও তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের শ্রমিক না হওয়ার সন্দেহের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
শ্রমিক আন্দোলনের শুরু থেকেই এতে বহিরাগতদের ইন্ধন থাকার অভিযোগ করে আসছিলেন আইনশৃংখলা বাহিনী বিএনপির নেতাকর্মীরা। তাদের অভিযোগ, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করছে।
তাদের দাবি, পতিত স্বৈরাচারের সুবিধাভোগীরা বর্তমান পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করতে পারে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি হয়ত সোমবারের। মঙ্গলবার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। পুলিশের টহল দল মাঠে কাজ করছে।
সাননিউজ/বান্না