টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় রডবোঝাই ট্রাক উল্টে নিহত ১৫ জন ছিলেন পেশায় হকার। স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করতে ফেনী ও চট্টগ্রাম থেকে রডবোঝাই ট্রাকে করে উত্তরবঙ্গের পথে রওনা দিয়েছিলেন তারা।
কিন্তু সেই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রাই শেষ পর্যন্ত কেড়ে নেয় তাদের প্রাণ। আন্দন্দের ঈদযাত্রা পরিণত হয় বিষাদে।
এলেঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন কর্মকর্তা আতাউর রহমান জানান, সোমবার ভোর ৪টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের সরাতৈল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে নিহতদের লাশ এবং আহত দশ জনকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের নাম-পরিচয় জানাতে পারেনি পুলিশ বা ফায়ার সার্ভিস।
দুর্ঘটনায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া রাব্বানি নামের এক যাত্রী জানান, ওই ট্রাকে থাকা যাত্রীদের অধিকাংশের বাড়ি নওগাঁর মান্দা উপজেলা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়। তারা চট্টগ্রাম ও ফেনী এলাকায় হকারের কাজ করতেন।
যমুনা সেতু পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার ফুয়াদ রুহানি বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটি উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিল। গাড়িটি সরিয়ে উদ্ধার অভিযান শেষ করা হয়েছে। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
ট্রাকের আরেক যাত্রী বলেন, হঠাৎ করেই ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। মুহূর্তের মধ্যে চারপাশে চিৎকার ও হাহাকার শুরু হয়। আমার এক শালা মারা গেছে, আমি নিজে ছিলাম গাড়িতে। আমরা ছিলাম ভিতরে, ওপরে পলিথিন ছিল। কীভাবে ঘটনা, কেউ বুঝতে পারে নাই। আমি বাইরে পড়ছি। আমি নিজে পড়ি নাই, আল্লাহ ফেলে দিছে আমাকে বাইরে। দেখছি সব চাপা পড়ে আছে।
তিনি জানান, তারা ফেনী থেকে প্রায় ১৮ জন একসঙ্গে ট্রাকে ওঠেন। ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে আরও কয়েকজন ওঠেন। হতাহতরা সবাই মূলত পেশায় হকার; কসমেটিকসসহ বিভিন্ন পণ্য ফেরি করে বিক্রি করতেন।
আরেক যাত্রী জানান, তার বাড়ি নওগাঁর মান্দা থানায়। ওই এলাকার আরো কয়েকজন ছিলেন ট্রাকে।
তিনি বলেন, গাড়ি ব্রেকফেল করেছে কিংবা কোনো একটা সমস্যার কারণেই দুর্ঘটনা হইছে। আমরা ছিলাম ১৮ জন। একই থানার লোকজন মারা গেছে। যখন দুর্ঘটনা ঘটেছে ঘুমাচ্ছিলাম।
ট্রাকের একাধিক যাত্রীর ভাষ্য, ট্রাকের চালক ঘুমিয়ে পড়েছিলেন এবং সে কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে তাদের ধারণা। দুর্ঘটনার পরপরই চালক ও তার সহকারী পালিয়ে যান। শুরুতে আশেপাশের লোকজন গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা পর এলেঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা গিয়ে নিহতদের লাশ উদ্ধার করেন।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোপালপুর সার্কেল) ফৌজিয়া হাবিব খান বলেন, নিহতদের পরিচয় শনাক্তে কাজ চলছে। পাশাপাশি মালবাহী খোলা ট্রাকে যাত্রী পরিবহন বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সাননিউজ/আরএ