যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এবং মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়লে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার উচ্চ পর্যায়ে ধরে রাখতে পারে। এমন আশঙ্কাই স্বর্ণবাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা ১ মিনিটে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ১ শতাংশ কমে ৪ হাজার ১১৫ দশমিক ৭৯ ডলারে নেমে আসে। এতে সাপ্তাহিক হিসাবে স্বর্ণের দাম প্রায় ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমার পথে রয়েছে।
এদিকে আগামী আগস্টে সরবরাহের চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটেও স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১২৪ দশমিক ৯০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে। ইরানের দক্ষিণ উপকূলীয় ও পূর্বাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মূল্যস্ফীতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। এর ফলে ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাও আরও জোরালো হয়েছে।
সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বরে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা বাজার এখন ৬৩ শতাংশ হিসেবে বিবেচনা করছে। এক সপ্তাহ আগে এই সম্ভাবনা ছিল প্রায় ৫৪ শতাংশ।
অর্থনীতিবিদদের ভাষ্য, মূল্যস্ফীতির সময়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়লেও সুদের হার বেশি থাকলে সুদবিহীন সম্পদ হওয়ায় স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমে যায়।
বাজার বিশ্লেষক ওয়াটারার বলেন, তেলের দাম বর্তমান পর্যায়ে থাকলে স্বর্ণের দাম কমে যাওয়ায় ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়তে পারে। তবে তেলের দামে বড় ধরনের ঊর্ধ্বগতি হলে তা আবারও মূল্যস্ফীতি এবং সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কা বাড়াবে, যা স্বর্ণবাজারের জন্য নেতিবাচক হবে।
এর আগে চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত ফেডের জুন মাসের নীতিনির্ধারণী সভার কার্যবিবরণীতেও মূল্যস্ফীতি নিয়ে নীতিনির্ধারকদের উদ্বেগের বিষয়টি উঠে আসে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর মুদ্রানীতির সম্ভাবনা এবং শক্তিশালী ডলারের প্রভাব বিবেচনায় রেখে বৈশ্বিক ব্যাংক এইচএসবিসি ২০২৬ ও ২০২৭ সালের জন্য স্বর্ণের গড় মূল্য পূর্বাভাস কমিয়েছে।
অন্যদিকে, স্পট মার্কেটে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামে কিছুটা ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। রুপার দাম শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬০ দশমিক ১৯ ডলারে, প্ল্যাটিনামের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৬৩২ দশমিক ৯৯ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ২৭০ দশমিক ৫৪ ডলারে উঠেছে। তবে এই বৃদ্ধি সত্ত্বেও সাপ্তাহিক হিসাবে তিনটি ধাতুর দামই নিম্নমুখী রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
সান নিউজ/ জামান