নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও পদমর্যাদা পুনর্বিন্যাসের বিষয়টি বছরের পর বছর ধরে প্রশাসনিক জটিলতায় আটকে আছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে একাধিকবার প্রস্তাব পাঠানো হলেও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না মেলায় বিষয়টির কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। এর ফলে ইসির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বিশেষ করে ২০০৫ সালে নির্বাচন কমিশনে যোগ দেওয়া কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশ দীর্ঘ সময় ধরে একই পদে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের অভিযোগ, চাকরির বয়স দুই দশকের বেশি হলেও পদোন্নতির সুযোগ না থাকায় ক্যারিয়ার উন্নয়ন, সামাজিক মর্যাদা এবং পেশাগত উদ্দীপনা—সব ক্ষেত্রেই তারা পিছিয়ে পড়ছেন।
২০০৫ সালে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অধীনে উপজেলা নির্বাচন অফিসার হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন মো. ছামিউল আলম। ঝিনাইদহের শৈলকুপায় প্রথম কর্মস্থল থেকে শুরু হওয়া চাকরিজীবনে দুই দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। ২০২৬ সালেও তিনি চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার হিসেবেই দায়িত্ব পালন করছেন।
একই পদে ২১ বছর কাটিয়ে দেওয়ার অভিজ্ঞতা তার কাছে কেবল প্রশাসনিক স্থবিরতা নয়, বরং ব্যক্তিগত ও পারিবারিক হতাশারও কারণ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একই সময়ে চাকরিতে যোগ দেওয়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের অনেকে পদোন্নতি পেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পৌঁছেছেন। বিপরীতে নির্বাচন কমিশনের কিছু কর্মকর্তা একই পদে আটকে থাকায় নিজেদের পেশাগত অগ্রগতির সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে।
ছামিউল আলমের মতে, দীর্ঘ সময় একই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নতুন অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগও কমে যায়। প্রতিদিন একই ধরনের কাজ করতে করতে একসময় পেশাগত একঘেয়েমি তৈরি হয়, যা কর্মস্পৃহায়ও প্রভাব ফেলতে পারে।
একই পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ এমদাদুল হক। তিনিও ২০০৫ সালে চাকরিতে যোগ দেন। তার সঙ্গে একই সময়ে কর্মজীবন শুরু করা অনেক কর্মকর্তা বর্তমানে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, পরিচালক, উপসচিব, উপপরিচালক কিংবা জেলা পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন।
এমদাদুল হকের দাবি, দেশের বিভিন্ন জেলার নির্বাচন অফিসে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাকে প্রায়ই নিজের ব্যাচের কর্মকর্তাদের অধীনে কাজ করতে হচ্ছে। একসময় যারা একই পর্যায়ের সহকর্মী ছিলেন, পরবর্তীতে তাদের অধস্তন হিসেবে কাজ করার বিষয়টি তার জন্য সামাজিক ও পেশাগতভাবে বিব্রতকর হয়ে উঠেছে।
তার মতে, পদোন্নতি না পাওয়ার কারণে শুধু মর্যাদাগত নয়, আর্থিকভাবেও দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির মুখে পড়েছেন কর্মকর্তারা। এর প্রভাব পরিবার ও সন্তানদের জীবনযাপনেও পড়ে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে গ্রেড ব্যবস্থাতেও রয়েছে অসামঞ্জস্য। ৬৪ জেলার মধ্যে ১৯টি জেলায় পঞ্চম গ্রেডের সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে ৪৫টি জেলায় ষষ্ঠ গ্রেডের জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা দায়িত্বে রয়েছেন।
একই ধরনের দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তাদের মধ্যে এমন গ্রেড পার্থক্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এর সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে আরও একটি সমস্যা। সম্প্রতি ৪৫টি জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে ষষ্ঠ গ্রেডের অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার পদ সৃষ্টি হওয়ায় কিছু ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা এবং তার অধস্তন কর্মকর্তার গ্রেড একই হয়ে গেছে।
নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ গ্রেডেশন তালিকা অনুযায়ী, সচিবালয়, আঞ্চলিক, জেলা ও উপজেলা/থানা পর্যায় মিলিয়ে কমিশনের অধীনে শত শত কর্মকর্তা কর্মরত রয়েছেন। তাদের মধ্যে বড় একটি অংশের পদোন্নতি কাঠামো ২০০৫ সালের ব্যাচকে ঘিরে জটিলতায় আটকে আছে।
তথ্য অনুযায়ী, গ্রেডেশন তালিকার একটি বড় অংশে ২০০০, ২০০৪ ও ২০০৫ সালে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের নাম রয়েছে। ২০০০ ও ২০০৪ সালের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি সম্পন্ন হলেও ২০০৫ ব্যাচের শতাধিক কর্মকর্তা দীর্ঘদিন একই পদে অবস্থান করছেন।
আদালত-সংক্রান্ত জটিলতা কাটিয়ে তাদের একটি অংশ পুনরায় উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বে ফিরলেও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পদোন্নতির বিষয়টি এখনো পুরোপুরি নিষ্পত্তি হয়নি। ফলে তাদের পরবর্তী ব্যাচে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের পদোন্নতির সুযোগও কার্যত নির্ভর করছে এই জটিলতা সমাধানের ওপর।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, ২০০৫ সালের পর থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেওয়া বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তার মধ্যেও এখনো কাঙ্ক্ষিত পদোন্নতির সুযোগ তৈরি হয়নি।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের গ্রেড ও পদোন্নতি সংক্রান্ত প্রস্তাবের ইতিহাস কয়েক বছর পুরোনো। ২০১৮ সালে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের গ্রেড উন্নীত করার উদ্যোগের পর ২০১৯ সালে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের পদমর্যাদা বাড়ানোর বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়।
তৎকালীন নির্বাচন কমিশন সচিবের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রস্তাবে নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদের গ্রেড পুনর্বিন্যাসের যৌক্তিকতা তুলে ধরা হয়েছিল। তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বিদ্যমান নিয়োগবিধি ও পদোন্নতির কাঠামোর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ওই প্রস্তাবে সম্মতি দেয়নি।
এরপর ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আবারও মন্ত্রণালয়ে আবেদন পাঠানো হয়। কিন্তু সেবারও প্রস্তাব অনুমোদন পায়নি। পরে ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট পূর্ণ কমিশনের অনুমোদন নিয়ে নতুন করে প্রস্তাব পাঠায় নির্বাচন কমিশন। দীর্ঘ পর্যালোচনার পর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরেও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গ্রেড উন্নীতকরণে অসম্মতি জানায়।
সবশেষে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ ৪৫টি জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার পদ পঞ্চম গ্রেডে উন্নীত করা এবং ২০টি অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার পদও পঞ্চম গ্রেডে উন্নীত করার প্রস্তাব পাঠান।
তবে গত ১২ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখার চিঠিতে জানানো হয়, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার ৪৫টি এবং অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার ২০টি পদ ষষ্ঠ থেকে পঞ্চম গ্রেডে উন্নীত করার বিষয়ে মন্ত্রণালয় সম্মতি দেয়নি।
নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য, প্রস্তাবিত গ্রেড উন্নীতকরণ বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত আর্থিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার কথা নয়। কারণ, অনেক কর্মকর্তা ইতোমধ্যে টাইমস্কেল, সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর বেতন কাঠামোর সুবিধা পাচ্ছেন।
ইসির আগের প্রস্তাবগুলোতে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পদমর্যাদা পুনর্বিন্যাসের কথা বলা হয়েছিল। এর মধ্যে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালকের পদ, কমিশনারদের একান্ত সচিবের পদ, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার পদ এবং উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের একটি অংশকে উচ্চতর গ্রেডে উন্নীত করার সুপারিশ ছিল।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পদ সৃজন বা গ্রেড উন্নীতকরণের ক্ষেত্রে শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন বিবেচনা করা হয় না। সরকারের অন্যান্য দপ্তরের পদকাঠামো, নিয়োগবিধি, প্রশাসনিক ভারসাম্য এবং সামগ্রিক নীতিগত বিষয়ও বিবেচনায় নিতে হয়।
মন্ত্রণালয়ের সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য, এ বিষয়ে এর আগেও বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা ও মতামত নেওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
বিধি-৭ শাখার একজন কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি মূলত সরকারের উচ্চপর্যায়ের নীতিগত সিদ্ধান্তের সঙ্গে সম্পর্কিত। বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর এ বিষয়ে নতুন কোনো প্রস্তাব বা কার্যক্রম তার দপ্তরে আসেনি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়কে স্বতন্ত্র সার্ভিস কাঠামোর আওতায় আনার বিষয়ে আইনগত পরিবর্তন হয়েছে। ফলে একটি পূর্ণাঙ্গ স্বতন্ত্র সার্ভিস কাঠামো কার্যকর করতে পদ সৃষ্টি, পদোন্নতি এবং দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পদমর্যাদা নির্ধারণ জরুরি।
বাংলাদেশ ইলেকশন কমিশন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, নির্বাচন কমিশনের কাজের পরিধি বেড়েছে। তাই প্রশাসনিক কাঠামোও সেই বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন।
নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেনের বক্তব্য অনুযায়ী, পদ সৃষ্টি ও আপগ্রেডেশনের বিষয়টি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত। তবে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জন্য স্বতন্ত্র সার্ভিস কাঠামো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পদমর্যাদা ও সাংগঠনিক কাঠামোর বিষয়গুলোও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ অসম্মতির পরও অবস্থান পরিবর্তন করেনি নির্বাচন কমিশন। ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, পদগুলো উন্নীত করার দাবিকে কমিশন এখনো যৌক্তিক মনে করছে।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রয়োজন হলে কমিশনের অনুমোদন নিয়ে আগের প্রস্তাবের ধারাবাহিকতায় আবারও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হবে। অর্থাৎ মন্ত্রণালয়ের অসম্মতির পরও বিষয়টি এখানেই শেষ হয়ে যাচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচন কমিশনের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি ও পদমর্যাদার বৈষম্যের মধ্যে থাকলে এর প্রভাব তাদের কর্মপরিবেশে পড়তে পারে। জাতীয় কিংবা স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনার সময় মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সক্রিয়তা ও মনোবল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বীর আহমেদের মতে, দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক বৈষম্যকে কেবল চাকরির কাঠামোগত সমস্যা হিসেবে দেখলে হবে না। এটি একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা ও স্বাধীনতার সঙ্গেও সম্পর্কিত।
তার ভাষ্য, নির্বাচন কমিশনকে কার্যকর ও শক্তিশালী করতে হলে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব, কাজের চাপ এবং দীর্ঘদিনের বঞ্চনার বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন। কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব বারবার প্রত্যাখ্যান করা হলে তার সুস্পষ্ট প্রশাসনিক যুক্তিও থাকা দরকার।
তিনি আরও মনে করেন, নির্বাচনের আগে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ থাকলে তা নির্বাচন পরিচালনার পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বিষয়টির দ্রুত ও স্বচ্ছ সমাধানে প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও নজর দেওয়া প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতি ও গ্রেড পুনর্বিন্যাসের বিষয়টি এখনো অনিষ্পন্ন। একদিকে ২০০৫ ব্যাচের কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষা, অন্যদিকে পরবর্তী ব্যাচগুলোর পদোন্নতির অনিশ্চয়তা—দুইয়ে মিলে ইসি সচিবালয়ের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় একটি দীর্ঘস্থায়ী সংকট তৈরি হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন বলছে, তারা বিষয়টি নিয়ে হাল ছাড়েনি এবং প্রয়োজন হলে পুনরায় প্রস্তাব পাঠাবে। অন্যদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অবস্থান হলো—পদ সৃজন ও গ্রেড উন্নীতকরণ একটি নীতিগত ও প্রক্রিয়াগত সিদ্ধান্ত, যা সামগ্রিক প্রশাসনিক কাঠামো বিবেচনা করেই নিতে হয়।
এখন দেখার বিষয়, দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা এই পদোন্নতি ও গ্রেড জটিলতার সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়। কারণ, বিষয়টির সঙ্গে শুধু কয়েকশ কর্মকর্তার চাকরিগত অগ্রগতি নয়, দেশের নির্বাচন পরিচালনার মাঠপর্যায়ের প্রশাসনিক সক্ষমতাও জড়িত।