ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে ২০টির বেশি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানো এবং সম্ভাব্য সামরিক অভিযানে সহায়তার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
পাঁচ মাসের বেশি সময় ধরে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চললেও সম্প্রতি শান্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল। তবে নতুন করে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের ঘটনায় সেই সম্ভাবনা অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
মার্কিন সেন্টকম জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে অবরোধ জোরদার এবং সামরিক কার্যক্রমে সহায়তার উদ্দেশ্যে হরমুজ প্রণালিতে এসব যুদ্ধজাহাজ পাঠানো হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে মার্কিন নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার ‘ইউএসএস রস’-এর নাবিকরাও মোতায়েন রয়েছেন।
সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের বন্দর থেকে ছেড়ে আসা জাহাজগুলোর ওপর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ বাড়াতেই হরমুজ প্রণালিতে এই সামরিক উপস্থিতি জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের নীতিতে পরিবর্তন না আনা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে না।
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের কমান্ডার বাঘের জোলঘাদর যুক্তরাষ্ট্রের সামনে কয়েকটি শর্ত তুলে ধরেছেন।
ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—
-
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে দ্রুত হামলা বন্ধ করতে হবে;
-
ইরানকে কোনো ধরনের হুমকি দেওয়া যাবে না;
-
ইরানের মিত্রদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হবে;
-
ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে;
-
মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করতে হবে;
-
ইরানকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
এ ছাড়া তেহরানের ওপর আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জব্দ করা সম্পদ মুক্ত করার দাবিও জানিয়েছে ইরান।
তবে ইরানের এসব দাবির বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি ওয়াশিংটন।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সান নিউজ/ হুমায়রা