কুষ্টিয়ার মিরপুরে তালিমুল কোরআন মাহফিলে দুষ্কৃতকারীদের হামলা, মহিলাদের লাঞ্ছনা ও অশালীন আচরণের অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে মিরপুর উপজেলা জামায়াতের ইসলামির কার্যালয়ে স্থানীয় বহলবাড়িয়া ইউনিয়ন শাখার সভানেত্রী এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেছেন। এসময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বহলবাড়িয়া ইউনিয়ন শাখা মহিলা বিভাগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বহলবাড়িয়া ইউনিয়ন জামায়াতের মহিলা বিভাগের সভানেত্রী লিখিত বক্তব্যে বলেন, জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্র ঘোষিত মাসব্যাপী মহিলাদের গণসংযোগ ও দাওয়াতী কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত ১০ আগস্ট সোমবার বিকেলে বহলবাড়িয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড খাঁড়ারা নতুনপাড়া গ্রামে মোঃ সোহেলের বসত বাড়িতে এক তালিমুল কোরআন মাহফিলের আয়োজন করা হয়। মাহফিল চলাকালীন শেষের দিকে স্থানীয় বিএনপি নেতা রাজ্জাক মাস্টার এর নেতৃত্বে স্থানীয় মোঃ এলেম, মোহাম্মদ ফারুক, রুবেলসহ অজ্ঞাত ৪-৫ জন দুষ্কৃতকারী হঠাৎ বাড়ির প্রাচীর টপকিয়ে তালিমুল কোরআন মাহফিলে অংশগ্রহণকারী পর্দাশীলা মহিলাদের মধ্যে জোরপূর্বক ঢুকে পড়ে।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলেন, অনধিকার প্রবেশ করেই রাজ্জাক মাস্টার অত্যন্ত জঘন্য ও অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করে সেখানে উপস্থিত মহিলাদের শারীরিক নিগ্রহের উসকানি দেয়। তার নির্দেশে এলেম ও ফারুকসহ অন্য হামলাকারীরা আমাদের পর্দাশীল মা-বোনদের চরম অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে, তাদের চুল ধরে টানাটানি করে এবং বোরখা ও পোশাক টেনে তাদের চরমভাবে লাঞ্ছিত ও বেআব্রু করে। এই ন্যাক্কারজনক, বর্বর ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার মতো ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
গত ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে আমরা একটি নিরাপদ বাংলাদেশ চেয়েছিলাম, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের ধর্ম পালন ও মত প্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা থাকবে এবং আমাদের মা-বোনদের জীবন, মর্যাদা ও ইজ্জত নিরাপদ থাকবে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, আজ পবিত্র তালিমুল কোরআনের মাহফিলে ঢুকে মহিলাদের ওপর এই ধরনের হীন আক্রমণ সেই নিরাপত্তার স্বপ্নকে চরমভাবে ক্ষুন্ন করেছে।
জামাতের নেত্রী দাবি করে বলেন, অনতিবিলম্বে ঘটনার সাথে জড়িত প্রধান অভিযুক্ত রাজ্জাক মাস্টারসহ এলেম, ফারুক, রুবেল ও অন্যান্য সকল দুষ্কৃতকারীদের গ্রেপ্তার করতে হবে। প্রকাশ্যে মা-বোনদের লাঞ্ছিত ও অপমান করার অপরাধে আইনানুগ দ্রষ্টান্তমূলক শান্তির ব্যবস্থা করতে হবে। ভবিষ্যতে যেকোনো ধর্মীয় কর্মসূচি ও মা-বোনদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্থানীয় প্রশাসনের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
সান নিউজ/ জামান