শেরপুর জেলা কারাগারে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পালিয়ে যাওয়া ৫১৮ জন বন্দির মধ্যে এখনো ৩৪৫ জনকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একই ঘটনায় লুট হওয়া বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদের মধ্যে এখনো উদ্ধার হয়নি ১ হাজার ১৪৩ রাউন্ড গুলি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিকেলে শেরপুর জেলা কারাগারে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই দিন লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল দুর্বৃত্ত কারাগারের প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে বিভিন্ন স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালানো হয়।
নিরাপত্তার কারণে কারারক্ষী ও কর্মকর্তারা নিরাপদ স্থানে সরে গেলে হামলাকারীরা কারাগার থেকে অস্ত্র, গোলাবারুদ, সিসিটিভি ক্যামেরাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম লুট করে নেয়। এ সময় ৫১৮ জন বন্দি কারাগার থেকে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ১৭৩ জন বন্দিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলেও এখনো ৩৪৫ জন পলাতক রয়েছে।
এদিকে, কারাগার থেকে লুট হওয়া ৯টি অস্ত্র উদ্ধার করা হলেও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদের কোনো সন্ধান মেলেনি। কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, লুট হওয়া ৮৪৪ রাউন্ড চায়না রাইফেলের গুলির মধ্যে একটিও উদ্ধার হয়নি।
এ ছাড়া শটগানের ৩৩১ রাউন্ড গুলির মধ্যে উদ্ধার হয়েছে মাত্র ৩২টি। ফলে চায়না রাইফেল ও শটগান মিলিয়ে মোট ১ হাজার ১৪৩ রাউন্ড গুলি এখনো নিখোঁজ রয়েছে।
শেরপুর জেলা জজকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আলমগীর কিবরিয়া কামরুল উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, পলাতক বন্দিদের মধ্যে গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিরাও রয়েছেন। দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনা না গেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে।
শেরপুর মডেল ডিগ্রি কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক দেলোয়ারা সোহেলী বলেন, পলাতক অপরাধী ও খোয়া যাওয়া গোলাবারুদ দ্রুত উদ্ধার করা না গেলে জেলার পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক করা কঠিন হয়ে পড়বে।
শেরপুর জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আলহাজ্ব মো. হযরত আলী প্রশাসনের প্রতি পলাতক বন্দিদের গ্রেপ্তার এবং অবশিষ্ট গোলাবারুদ উদ্ধারে তৎপরতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে শেরপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার শাহ্ রফিকুল ইসলাম বলেন, “৮৪৪ রাউন্ড চায়না রাইফেলের গুলি এবং শটগানের ২৯৯ রাউন্ডসহ মোট ১ হাজার ১৪৩ রাউন্ড গুলির কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে ৩৪৫ জন বন্দি এখনো পলাতক রয়েছে।”
শেরপুরের পুলিশ সুপার এ কে এম জহিরুল ইসলাম জানান, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং খোয়া যাওয়া গোলাবারুদ উদ্ধারে গোয়েন্দা নজরদারি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সান নিউজ/ হুমায়রা