আগামীকাল থেকে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করতে ‘১০০-তে ১০০’ কর্মসূচি চালু করতে চাইছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। একই সাথে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী, মৃত্যুও থেমে নেই। নেই ওষুধেরও কোন আগাম ব্যবস্থা। ধার করা ওষুধে চলছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মশক নিধন কার্যক্রম ।
সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসজুড়ে ডেঙ্গু রোগের বাহক এডিস মশার বিস্তার বাড়ে। সারাদেশে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪২ হাজার ৫৯০ জন। আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১১৭ জন। ১ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৬ হাজার ৭৪৪ জন। গত মাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন ২০ হাজার ৫৩৬ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, কিছু দিন ধরে প্রতিদিন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।
এতদিন ডিএসসিসি উড়ন্ত মশা মারার জন্য ডেলটামেথ্রিন নামের ওষুধ ব্যবহার করে আসছিল। এই ওষুধ মশা নিয়ন্ত্রণে এখন ঠিকমতো কার্যকর না থাকায় ডিএনসিসি কয়েক বছর ধরে ভারত থেকে আমদানি করা ম্যালাথিয়ন ওষুধ ব্যবহার করে আসছে। তবে গত বছর জাপানের গবেষকরা দেখতে পান ডেলটামেথ্রিনের কার্যকারিতা ঢাকার মশার ক্ষেত্রে অনেকটা কমেছে। তখন ডিএসসিসি ডেলটামেথ্রিনের বদলে ম্যালাথিয়ন ব্যবহারের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু যে প্রতিষ্ঠানকে ম্যালাথিয়ন সরবরাহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তাদের সরবরাহ করা ওষুধের নমুনা পরীক্ষাগারে উত্তীর্ণ হয়নি। পরে তারা ডিএনসিসির দ্বারস্থ হয়। ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ ২৭০ লিটার ম্যালিথিয়ন ওষুধ ধার হিসেবে চায় ডিএনসিসির কাছে। গত মাসে ডিএনসিসি ৮০ লিটার ম্যালাথিয়ন দেয়। সেটি দিয়ে চলছে ডিএসসিসির মশক নিধন কার্যক্রম। ডিএসসিসির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এ ছাড়া আমাদের কোনো বিকল্প নেই।’
সম্প্রতি ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ মশক নিয়ন্ত্রণের জন্য এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে এরইমধ্যে নিজস্ব জনবলের বাইরে অতিরিক্ত ৫০০ কর্মীকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ডিএনসিসি এলাকার ১০০টি হটস্পট চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিদিন একেকটি স্পটে ১০ জন করে কর্মী কাজ করবেন। এ কর্মসূচির জন্য একটি নিজস্ব অ্যাপ চালু করেছে ডিএনসিসি। সেই অ্যাপের মাধ্যমে হটস্পটের সব তথ্য সঙ্গে সঙ্গে জানাবেন কর্মীরা। ১০০ দিন ধরে চলবে এই ক্রাশ কার্যক্রম। এ কর্মসূচি ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জানানো হয়েছে। তিনি এ কর্মসূচি সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার নির্দশেনা দিয়েছেন।
সান নিউজ/আরএ