হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ঢাকা সিলেট মহাসড়কের জগদীশপুর মুক্তিযোদ্ধা চত্বর থেকে জাতীয় চার নেতার মুরাল অপসারণ করায় মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় এক মাস আগে সংস্কারকাজের সময় মুরালটি অপসারণ করা হলেও কার নির্দেশে বা কার দায়িত্বে এটি সরানো হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের জগদীশপুর মুক্তিযোদ্ধা গোলচত্বরে প্রায় ১০ বছর আগে সরকারি উদ্যোগে জাতীয় চার নেতা, তাজউদ্দীন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামারুজ্জামানের ছবি সংবলিত একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়। জাতীয় দিবসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিনে উপজেলা প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধারা সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করতেন।
স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা বলছেন, মুক্তিযুদ্ধকালীন অস্থায়ী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকারী জাতীয় চার নেতার স্মৃতি সংরক্ষণ করা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। তাদের স্মৃতিবিজড়িত মুরাল অপসারণের বিষয়টি কোনোভাবেই কাম্য নয়।
মাধবপুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বলেন, জাতীয় চার নেতা মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন। আগের সরকার তাদের মুরাল সরকারি উদ্যোগে মুক্তিযোদ্ধা চত্বর এলাকায় স্থাপন করেছিল। এখন সরকারের নির্দেশে সেটি সরানো হয়েছে বলে আমরা শুনেছি। বর্তমানে সেখানে জাতীয় চার নেতার পরিবর্তে ১১ জন সেক্টর কমান্ডারের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এমএজি ওসমানীর নাম ও ছবি সংযুক্ত করে নতুন মুরাল নির্মাণের কথা শোনা যাচ্ছে। আমরা এ ধরনের কাজকে সমর্থন করি না।
তবে বর্তমান মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, মাধবপুর উপজেলা প্রশাসনের কোনো সিদ্ধান্তে ওই মুরাল অপসারণ করা হয়নি। নতুন মুরাল তৈরির ক্ষেত্রেও উপজেলা প্রশাসনের কোনো সিদ্ধান্ত নেই।
এদিকে জাতীয় চার নেতার অন্যতম এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের ছেলে ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ মুরাল অপসারণের ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি এ ঘটনার বিচার দাবি করেছেন।
সান নিউজ/আরএ