চীনের ইউনান প্রদেশে এক ব্যক্তির পাকস্থলী থেকে ১৮০টি লোহার পেরেকসহ বিপুল পরিমাণ ধাতব বস্তু বের করেছেন চিকিৎসকরা। এসব বস্তুর মধ্যে ছিল কয়েন, স্ক্রু, নাট, বল্টু ও চুম্বক। অস্ত্রোপচারে অপসারণ করা ধাতব বস্তুগুলোর মোট ওজন এক কেজির বেশি।
ইউনান ডেইলির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বারবার বমি ও তীব্র পেটব্যথা নিয়ে ইউনান প্রদেশের থার্ড পিপলস হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যান ওই ব্যক্তি। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার পাকস্থলীতে বিপুল পরিমাণ ধাতব বস্তুর একটি বড় পিণ্ড দেখতে পান চিকিৎসকরা। বস্তুগুলো পরস্পরের সঙ্গে আটকে গিয়ে পাকস্থলী ফুলিয়ে দিয়েছিল এবং সেটিকে নিচের দিকে ঠেলে দিয়েছিল।
শুক্রবার প্রায় তিন ঘণ্টার অস্ত্রোপচার চালিয়ে পাকস্থলী থেকে এসব ধাতব বস্তু বের করা হয়। উদ্ধার করা পেরেকগুলোর মধ্যে প্রায় ১০ সেন্টিমিটার লম্বা একটি পেরেকও ছিল।
হাসপাতালের হেপাটোবিলিয়ারি অ্যান্ড প্যানক্রিয়াটিক সার্জারি বিভাগের প্রধান চিকিৎসক লি ওয়েই জানান, এসব ধাতব বস্তু পাকস্থলীতে আলসার ও ক্ষত তৈরি করেছিল। তবে সৌভাগ্যক্রমে পেরেকগুলো পাকস্থলীর দেয়াল ভেদ করে অন্ত্রে প্রবেশ করেনি।
চিকিৎসকদের ধারণা, পাকস্থলীতে থাকা চুম্বকের আকর্ষণে পেরেক ও অন্যান্য ধাতব বস্তু পরস্পরের সঙ্গে আটকে গিয়ে বড় একটি পিণ্ডে পরিণত হয়েছিল।
অস্ত্রোপচারের পর ওই ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে এবং তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতালের চিকিৎসকরা এর আগে পেরেক, তার ও লাইটার গিলে ফেলা রোগীর চিকিৎসা করলেও একসঙ্গে ১৮০টি পেরেক গিলে ফেলার ঘটনা এবারই প্রথম দেখেছেন।
ওই ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তার দীর্ঘদিনের মানসিক অসুস্থতার ইতিহাস রয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে তিনি এতগুলো পেরেকসহ ধাতব বস্তু গিলে ফেলেছিলেন, তা জানা যায়নি।
চিকিৎসক লি ওয়েই সতর্ক করে বলেন, ছোট কোনো বস্তু গিলে ফেললে সেটি নিজে থেকেই শরীর থেকে বের হয়ে যাবে—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। বিশেষ করে ধাতব বা ধারালো বস্তু পরিপাকতন্ত্রের সরু অংশে আটকে গিয়ে গুরুতর আঘাত বা ছিদ্র তৈরি করতে পারে। এর ফলে পেরিটোনাইটিসসহ প্রাণঘাতী জটিলতাও দেখা দিতে পারে।
সান নিউজ/ জামান