নিষিদ্ধ ঘোষিত কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) হাজার হাজার যোদ্ধাকে শর্তসাপেক্ষে ক্ষমার সুযোগ দিতে যাচ্ছে তুরস্ক। এ-সংক্রান্ত একটি বিল দেশটির পার্লামেন্টে অনুমোদন পেয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) বার্তা সংস্থা এপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, তুরস্কের আইনপ্রণেতারা পিকেকের সদস্যদের জন্য এমন একটি আইনে অনুমোদন দিয়েছেন, যার মাধ্যমে অস্ত্র সমর্পণকারী যোদ্ধাদের একটি অংশকে বেসামরিক জীবনে ফেরার সুযোগ দেওয়া হবে। তবে এটি সাধারণ ক্ষমা নয়; নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এই সুবিধা কার্যকর হবে।
সোমবার পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে বিলটির পক্ষে ৪৬৮ ভোট পড়ে। বিপক্ষে ভোট দেন ৮৮ জন আইনপ্রণেতা এবং ভোটদানে বিরত থাকেন ছয়জন।
এটি পিকেকের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সংঘাত নিরসনে তুরস্কের প্রথম বড় ধরনের আইনগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পিকেকের কারাবন্দি প্রতিষ্ঠাতা আবদুল্লাহ ওকালান তার অনুসারীদের অস্ত্র ত্যাগের আহ্বান জানানোর প্রায় ১৮ মাস পর এই উদ্যোগ নেওয়া হলো।
পিকেকে ১৯৮৪ সালে তুরস্কের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু করে। তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন সংগঠনটিকে ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। দীর্ঘ এই সংঘাতে ৪০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে কুর্দি-অধ্যুষিত দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকট তৈরি হয়েছে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (একে পার্টি) এবং কুর্দিপন্থী ডিইএম পার্টির সমর্থনে বিলটি পাস হয়েছে।
বিলে নির্দিষ্ট কিছু অপরাধের ক্ষেত্রে পাঁচ থেকে ১০ বছরের জন্য বিচার কার্যক্রম ও কারাদণ্ড স্থগিত রাখার বিধান রাখা হয়েছে। আইনপ্রণেতাদের ধারণা, প্রাথমিক পর্যায়ে পিকেকে-সংশ্লিষ্ট প্রায় ৩ হাজার ৫০০ বন্দি মুক্তি পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন, যা তুরস্কের কারাগারে থাকা মোট বন্দির সংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।
সূত্র: এপি
সান নিউজ/ হুমায়রা