ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে শুধু সরকারি পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়, বরং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সচেতনতা বাড়ানোই সবচেয়ে কার্যকর উপায় বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধ বিষয়ক জাতীয় কমিটি’র প্রথম সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বিশেষ টাস্কফোর্স
সভায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম আরও জোরদার করতে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই টাস্কফোর্স বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি, তদারকি এবং জরুরি পদক্ষেপ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করবে।
সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে কঠোর নির্দেশনা
মন্ত্রী বলেন, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদসহ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ার কারণে এখন থেকেই সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।
সভায় গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জাতীয় কমিটির সভায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
- দেশব্যাপী লিফলেট ও সচেতনতামূলক প্রচারপত্র বিতরণ
- স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় ডেঙ্গু প্রতিরোধবিষয়ক প্রচারণা কার্যক্রম চালু
- স্থানীয় প্রশাসন ও নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণে পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার
- ফগার মেশিন ও মশক নিধন কার্যক্রমের মান নিয়মিত পর্যবেক্ষণ
- এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংসে বিশেষ অভিযান
- নির্মাণাধীন ভবন, ছাদবাগান, গ্যারেজ, টায়ারের দোকান ও জলাবদ্ধ এলাকায় নিয়মিত পরিদর্শন
- গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সচেতনতা প্রচার বৃদ্ধি
- ডেঙ্গুর লার্ভা শনাক্ত হওয়া এলাকায় দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ
- মনিটরিং ও তদারকি কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা
- ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা
বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে সতর্কতা
সভায় অংশগ্রহণকারী বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তারা বলেন, বর্ষাকালে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই আগাম প্রস্তুতি এবং মাঠপর্যায়ে দ্রুত কার্যক্রম বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন।
তারা মনে করেন, শুধুমাত্র মশক নিধন কার্যক্রম নয়, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি সফলতা অর্জন সম্ভব।
জাতীয় কমিটির কার্যক্রম আরও শক্তিশালী
সম্প্রতি ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সরকারের উদ্যোগকে আরও কার্যকর করতে জাতীয় কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার প্রতিনিধিরা সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ওয়াসা, এলজিইডি, ডিপিএইচই, রাজউক, সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
জনসচেতনতাই সবচেয়ে বড় অস্ত্র
সভা শেষে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা গেলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জন সম্ভব হবে। পাশাপাশি নাগরিকদের নিজ নিজ বাসা, অফিস ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।