বাংলাদেশের প্রবীণ রাজনীতিক ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক তোফায়েল আহমেদের প্রথম জানাজার নামাজ আজ সোমবার (১ জুন) বাদ মাগরিব রাজধানীর ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। পরে তার মরদেহ রাজধানীর একটি হাসপাতালের হিমাগারে সংরক্ষণ করা হবে।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার (২ জুন) মরদেহ ভোলা জেলায় নেওয়া হবে। পরিবহন পরিস্থিতি অনুযায়ী হেলিকপ্টার অথবা বিশেষ ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে মরদেহ ভোলায় পৌঁছানো হতে পারে। সেখানে জোহরের নামাজের পর ভোলা জেলা স্কুল মাঠে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
জানাজা শেষে ভোলা সদর উপজেলার নিজ গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মায়ের কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন দেশের এই বর্ষীয়ান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।
সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তোফায়েল আহমেদ। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
পারিবারিক সূত্র জানায়, বয়সজনিত নানা শারীরিক সমস্যায় দীর্ঘদিন ধরে ভুগছিলেন তিনি। জীবনের শেষ সময়ে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিলেন এই প্রবীণ নেতা। তিনি এক কন্যাসন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা এবং শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।
ছাত্রনেতা থেকে জাতীয় রাজনীতির অন্যতম মুখ
১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তোফায়েল আহমেদ। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন তিনি।
১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর সহ-সভাপতি (ভিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
পরবর্তীতে ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে মাত্র ২৭ বছর বয়সে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি নয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পালন করেন।
দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ছাত্র আন্দোলন, গণ-অভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ এবং জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তোফায়েল আহমেদ স্মরণীয় হয়ে থাকবেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।