প্রতিদিন সকালে স্কুলের পথে ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের পিঠে ঝুলতে দেখা যায় বড় বড় ব্যাগ। অনেক সময় ব্যাগের আকার যেন শিশুর শরীরের সমান হয়ে যায়। ভারী ব্যাগের চাপ সামলাতে অনেক শিশুকে আবার সামনের দিকে ঝুঁকে হাঁটতে হয়। বাইরে থেকে এটি সাধারণ দৃশ্য মনে হলেও চিকিৎসকদের মতে, এই অভ্যাসই ভবিষ্যতে শিশুর শারীরিক সমস্যার কারণ হতে পারে।
ভারী ব্যাগে বাড়ছে শিশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি
শৈশব হলো শিশুর হাড়, পেশি ও মেরুদণ্ডের দ্রুত বিকাশের সময়। এ সময়ে শরীরের তুলনায় বেশি ভারী ব্যাগ বহন করলে মেরুদণ্ড, কাঁধ ও কোমরের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এতে শিশুর স্বাভাবিক শারীরিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
নবজাতক ও শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আশরাফুল আমিন চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে জানান, জন্মের পর শিশুর শরীর ধীরে ধীরে পূর্ণতা পায়। শৈশব ও কৈশোরে হাড়, পেশি ও মেরুদণ্ডের বৃদ্ধি চলতে থাকে। এই সময়ে নিয়মিত অতিরিক্ত ওজন বহন করলে শরীরের স্বাভাবিক গঠনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
শিশুর ব্যাগের ওজন কত হওয়া উচিত?
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি শিশুর স্কুল ব্যাগের ওজন তার মোট শরীরের ওজনের ১০ শতাংশের বেশি হওয়া উচিত নয়।
তবে বাস্তবে বই, খাতা, পানির বোতল, টিফিন বক্সসহ নানা শিক্ষা উপকরণ বহনের কারণে অনেক শিশুকেই এর চেয়ে বেশি ওজন বহন করতে হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত ওজনের ব্যাগ দীর্ঘদিন বহন করলে শিশুর হাঁটার স্বাভাবিক ভঙ্গিতেও পরিবর্তন আসতে পারে।
সমস্যা কমাতে যা করা দরকার
শিশুর সুস্থতার জন্য অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সব পক্ষকেই সচেতন হতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্কুলে বই রাখার ব্যবস্থা, প্রয়োজন অনুযায়ী বই বহনের নির্দেশনা, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাসামগ্রীর ব্যবহার এবং নিয়মিত ব্যাগের ওজন পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।
অভিভাবকদেরও খেয়াল রাখতে হবে, শিশু যেন অপ্রয়োজনীয় কোনো বই বা অতিরিক্ত জিনিস ব্যাগে বহন না করে।
সান নিউজ/ জামান