সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের শরকির খাল সংলগ্ন গহীন অরণ্যে হরিণ শিকারীদের পেতে রাখা ছিটকা ফাঁদে আটকে গুরুতর আহত রয়েল বেঙ্গল টাইগারটি দীর্ঘ সাড়ে ৫ মাস চিকিৎসা শেষে সম্পূর্ন সুস্থ্য হয়ে আবারও ফিরে যাচ্ছে তার আবাসস্থল সুন্দরবনে।
তবে, বন বিভাগে নজরদারিতে রাখতে প্রাপ্তবয়স্ক এই বাঘটির গলায় স্যাটেলাইট কলার লাগিয়ে বনের যে এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছিলো সেখানের গহীন সুন্দরবনে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা আইইউসিএন এর দেয়া স্যাটেলাইট কলার হাতে পাওয়ার পর বাঘটিকে চলতি মাসের শেষে অথবা আগামী জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে সুন্দরবনে ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, গত সাড়ে পাঁচ মাসের চিকিৎসায় বাঘিনীটি এখন সম্পূর্ন সুস্থ হয়েছে। ওজন বাড়ার পাশাপাশি ক্ষিপ্রতাও বেড়েছে। মনে করা হচ্ছে বাঘিনীটি এখন শিকার ধরে খেতে পারবে।
এই অবস্থায় বাঘিনীটিকে এখন কোথায় রাখা হবে তা ঠিক করতে গত ২১ মে বন কর্মকর্তা, বাঘ গবেষক, বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বন বিভাগ সভা করেছে। সভায় বাঘিনীটিকে তার পূর্বের আবাসস্থল সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের শরকির খাল সংলগ্ন গহীন অরণ্যে তার আপন পরিবেশ ছেড়ে দেয়ার ব্যাপারে একমত হন সবাই।
সুন্দরবনে বাঘটি ছাড়ার পরে নিজে শিকার করে খেতে পারে কিনা তা জানাসহ গতিবিধি পর্যবেক্ষনের জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থা আইইউসিএন এর সহায়তায় তার গলায় একটি স্যাটেলাইট কলার পরানোর নীতিগত সিদ্ধান্তও নেয়া হয়। বাঘটির গলায় পরানো স্যাটেলাইট কলার নির্দ্দিষ্ট সময়ের পরে গলা থেকে খুলে পড়ে যাবে বলে জানান এই বন কর্মকর্তা ।
বন বিভাগের ওই সভায় অংশ নেয়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও বিশিষ্ট বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ এম এ আজিজ জানান, সুন্দরবনের একটি বাঘ ১৪ থেতে ১৫ বছর বেঁচে থাকে। সুন্দরবনে উদ্ধার করা বাঘটির বয়স প্রায় ১০ বছর। তাকে তার আপন পরিবেশ সুন্দরবনে ছেড়ে দেয়া সিদ্ধান্তটি সঠিক হয়েছে। সেক্ষেত্রে ছেড়ে দেওয়ার পরে তার গতিবিধি দেখার জন্য বাঘটির গলায় স্যাটেলাইট কলার লাগিয়ে ছাড়া হবে। ভারতের সুন্দরবন অংশে এভাবে
ছয়টি বাঘের গলায় স্যাটেলাইট কলার লাগিয়ে দেয়া হয়েছে বলেও জানান এই বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ।
বন বিভাগ সূত্রে জানাযায় ,গত ৩ জানুয়ারি সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের শরকির খাল সংলগ্ন গহীন বনে হরিণ শিকারীদের পেতে রাখা ছিটকা ফাঁদে আটকা পড়ে প্রায় ১০ বছর বয়স্ক একটি বাঘ। আটকে পড়ার একদিন পর ট্রাঙ্কুলাইজিং বন্দুক দিয়ে গুলি করে অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের সময় দেখতে পাওয়া যায় বাঘটির সামনের বাঁ পায়ে ৩ ইঞ্চির মতো জায়গায় চামড়া, মাংসপেশি ও শিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ছিটকা ফাঁদের রশিতে টানাটানির কারনে ওই ক্ষত হয়ে পচন ধরে গিয়েছিল।
উদ্ধারের পর গুরুতর আহত বাঘটিকে খুলনার বয়রায় বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানে হয়। সেখানে বাঘটির চিকিৎসায় গঠন করা হয় পাঁচ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড।
চিকিৎসাদের নিবীড় পরিচর্যায় অ্যান্টিবায়োটিক অষুধসহ নিয়মিত ড্রেসিংয়ে বাঘটির পায়ের ঘা শুকিয়ে ধীরে ধীরে শুকাতে থাকে। এখন সম্পূর্ন সুস্থ্য থাকা বাঘটিকে তার চিরচেনা নিজস্ব আবাসস্থলের বনে ছেড়ে দেয়া হবে।
আন্তর্জাতিক সংস্থা আইইউসিএন এর দেয়া স্যাটেলাইট কলার চলতি সপ্তাহের মধ্যে বন বিভাগের হাতে পাওয়ার কথা রয়েছে। স্যাটেলাইট কলার হাতে পাবার পর বাঘটিকে চলতি মাসের শেষে অথবা আগামী জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে সুন্দরবনে ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সান নিউজ/ জামান