ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড হাতে নিলে বিভিন্ন ধরনের চিহ্ন চোখে পড়ে। এর মধ্যে ওয়াই-ফাইয়ের মতো দেখতে পাশ ফিরে থাকা ছোট একটি চিহ্ন অনেকেরই নজরে আসে। দেখতে ইন্টারনেটের প্রতীকের মতো হলেও এর সঙ্গে ওয়াই-ফাইয়ের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি মূলত কনট্যাক্টলেস পেমেন্টের প্রতীক। অর্থাৎ, ওই কার্ডে ‘ট্যাপ অ্যান্ড পে’ সুবিধা রয়েছে।
কনট্যাক্টলেস পেমেন্টের ক্ষেত্রে পিওএস (পয়েন্ট অব সেল) মেশিনে কার্ড ঢোকানো বা সোয়াইপ করার প্রয়োজন হয় না। নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে মেশিনের কাছে কার্ডটি ধরলেই লেনদেন সম্পন্ন করা যায়। এ ক্ষেত্রে কার্ডের ভেতরে থাকা এনএফসি (নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন) প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
কার্ডটি পিওএস মেশিনের কাছে ধরলে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই কার্ড ও মেশিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য আদান-প্রদান হয়। এরপর নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় লেনদেন সম্পন্ন হয়। ফলে দোকান, রেস্তোরাঁ, শপিং মলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দ্রুত পেমেন্ট করা সম্ভব।
কনট্যাক্টলেস পেমেন্টের সুবিধা
এই পদ্ধতির অন্যতম সুবিধা হলো সময় সাশ্রয়। বিশেষ করে ছোটখাটো কেনাকাটার ক্ষেত্রে দ্রুত লেনদেন করা যায়। পাশাপাশি কার্ডটি অন্যের হাতে দেওয়ার প্রয়োজন না থাকায় ব্যবহারকারীর জন্য এটি আরও সুবিধাজনক।
তবে ট্যাপ করলেই সব ধরনের লেনদেন পিন ছাড়াই করা যায়—এমনটি নয়। নির্দিষ্ট সীমার বেশি অর্থের লেনদেনে পিওএস মেশিনে পিন দিতে হতে পারে। এই সীমা ব্যাংক ও কার্ড নেটওয়ার্ক অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।
কতটা নিরাপদ?
কনট্যাক্টলেস লেনদেনে কার্ডের তথ্য সুরক্ষিতভাবে আদান-প্রদানের জন্য বিভিন্ন নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকে। নির্দিষ্ট কিছু লেনদেনে অতিরিক্ত যাচাইয়ের প্রয়োজনও হতে পারে।
তবে কার্ড হারিয়ে গেলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জানিয়ে কার্ডটি ব্লক করা জরুরি। এতে অননুমোদিত লেনদেনের ঝুঁকি কমানো যায়।
বর্তমানে ভিসা, মাস্টারকার্ডসহ বিভিন্ন কার্ড নেটওয়ার্কের অনেক ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ডেই কনট্যাক্টলেস পেমেন্ট সুবিধা রয়েছে। তাই কার্ডে ওয়াই-ফাইয়ের মতো চিহ্নটি দেখলে বুঝতে হবে, সেটি আসলে কার্ড ট্যাপ করে দ্রুত ও সহজে পেমেন্ট করার সুবিধার সংকেত।
সান নিউজ/ জামান