ইউক্রেনজুড়ে রাতভর ব্যাপক হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত ১২ জন নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কিয়েভ। ইউক্রেনের অভিযোগ, এই হামলায় উত্তর কোরিয়ার তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে মস্কো।
বুধবার (১২ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির দেওয়া সতর্কবার্তার পর এ অভিযোগ সামনে আসে। মঙ্গলবার তিনি দাবি করেন, রাশিয়া উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে আরও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও সেনাসদস্য পাচ্ছে।
জেলেনস্কি বলেন, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন রাশিয়ার চার বছরব্যাপী আগ্রাসনে সমর্থন জানিয়ে ইতোমধ্যে হাজার হাজার সেনা ও বিপুল পরিমাণ অস্ত্র পাঠিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, কিয়েভের প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টরের ঘাটতিকে কাজে লাগাতে চাইছে রাশিয়া। যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর এবং ওয়াশিংটনের ইরান ইস্যুতে মনোযোগ দেওয়ার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি বলেন, ‘রাশিয়ার প্রতিটি পদক্ষেপ প্রমাণ করে, তারা শান্তির জন্য নয়; বরং পরিস্থিতি আরও খারাপ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।’ তিনি অভিযোগ করেন, মস্কো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়াচ্ছে, উত্তর কোরিয়ার সামরিক সরঞ্জাম আমদানি করছে এবং নতুন সেনা সমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
জাপোরিঝিয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি
জেলেনস্কি জানান, রাশিয়ার রাতভর হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর জাপোরিঝিয়া। সেখানে অন্তত ছয়জন নিহত এবং ১৯ জন আহত হয়েছেন।
জাপোরিঝিয়ার সামরিক প্রশাসনের প্রধান ইভান ফেদোরভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগুনে পুড়ে যাওয়া ভবন ও যানবাহনের ছবি প্রকাশ করেছেন।
জেলেনস্কির দাবি, জাপোরিঝিয়ায় উত্তর কোরিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, জিরকন ক্ষেপণাস্ত্র এবং আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য নির্দেশিত বোমা দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। তিনি এটিকে ‘নৃশংস হামলা’ উল্লেখ করে বলেন, বেসামরিক অবকাঠামোতে সর্বোচ্চ ক্ষয়ক্ষতি ঘটানোর উদ্দেশ্যেই হামলা চালানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তিরা সবাই জাপোরিঝস্টাল ইস্পাত কারখানার কর্মী ছিলেন। কারখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, বিমান হামলার সতর্কতা পাওয়ার পর শ্রমিকরা আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার সময় হামলার শিকার হন। এতে আরও ২১ জন কর্মী আহত হয়েছেন।
অন্যান্য অঞ্চলেও হামলা
ইউক্রেনের দনিপ্রোপেত্রোভস্ক ও দোনেৎস্ক অঞ্চলে রাতভর হামলায় আরও ছয়জন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
রাজধানী কিয়েভে একটি সংক্রামক রোগের হাসপাতাল হামলার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলেনস্কি। এছাড়া সম্মুখসারির শহর খেরসন ও খারকিভে হামলার কারণে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে।
দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিকোলাইভে রুশ ড্রোন হামলায় ৭৫ বছর বয়সী এক নারী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান।
এদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাতভর চালানো হামলায় ইউক্রেনের কিয়েভ ও জাপোরিঝিয়ার প্রতিরক্ষা শিল্প স্থাপনা, পরিবহন ও রসদ কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
সূত্র : আল জাজিরা
সান নিউজ/ হুমায়রা