ভারত বনাম পাকিস্তান সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচের মূল তথ্যগুলো এক নজরে দেখে নিন:
|
বিষয়
|
বিবরণ
|
|
ম্যাচের ফল
|
ভারত ৩ - ২ পাকিস্তান (রোমাঞ্চকর জয়ে সাফ মিশন শুরু ভারতের)
|
|
ম্যাচের নায়ক
|
সুহাইল আহমদ ভাট (২১ বছর বয়সী তরুণ ফরোয়ার্ডের জোড়া গোল)
|
|
ভারতের গোলসমূহ
|
• ১৩ মিনিট: সুহাইল আহমদ ভাট
• ১৯ মিনিট: সুহাইল আহমদ ভাট
• ৩১ মিনিট: কিপগেন
|
|
পাকিস্তানের কামব্যাক
|
অতিরিক্ত সময়ে নাজিব উল্লাহ (হেড) ও আলমগীর আলির ব্যাক-টু-ব্যাক দুই গোল (তবে জয় আটকাতে পারেনি)
|
|
ম্যাচের বিশেষ মুহূর্ত
|
মাঠে খেলোয়াড়দের সৌহার্দ্যপূর্ণ হ্যান্ডশেক ও পাকিস্তানের একটি পেনাল্টি মিসের হতাশা
|
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সবুজ গালিচায় বৈরিতা ভুলে সম্প্রীতি ও বন্ধুত্বের এক অনন্য নজির স্থাপন করেছিল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। ম্যাচের শুরুতে দুই দলের খেলোয়াড়রা একে অপরের সঙ্গে করমর্দন করে মাঠের লড়াইয়ে নামলেও ৯০ মিনিটের রক্তগরম লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত হাসি ফুটেছে ভারতীয় শিবিরে।
নিজেদের দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে মাঠে নেমেও প্রতিপক্ষকে রীতিমতো ঘাম ছুটিয়ে ৩-২ গোলের রোমাঞ্চকর জয় তুলে নিয়েছে ব্লু টাইগাররা। আর এই জয়ে সামনে থেকেই নেতৃত্ব দিয়ে দলের জয়ের নায়ক বনে গেছেন তরুণ ফরোয়ার্ড সুহাইল আহমদ ভাট।
শুরু থেকেই ভারতীয় ঝড়ে দিশেহারা পাকিস্তান :
ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামের মহারণে শুরু থেকেই খাদের কিনারায় চলে যায় পাকিস্তানি রক্ষণভাগ। নয়বারের সাফ চ্যাম্পিয়নদের আক্রমণ সামলাতে হিমশিম খেতে হয় তাদের। ম্যাচের বয়স যখন মাত্র ১৩ মিনিট, তখনই গোলের বরফ ভাঙে ভারত। সতীর্থের বাড়ানো নিখুঁত আড়াআড়ি ক্রস থেকে চমৎকার শটে বল জালে জড়িয়ে দলকে আনন্দে ভাসান সুহাইল। অবশ্য তার ঠিক এক মিনিট আগেই জালে বল পাঠিয়েছিলেন এই তরুণ, কিন্তু অফসাইডের কারণে সেই যাত্রায় রক্ষা পায় পাকিস্তান। তবে বেশিক্ষণ ঠেকিয়ে রাখা যায়নি তাকে।

১৯তম মিনিটে অভিষেক ধনঞ্জয়ার একটি নিখুঁত থ্রু পাস অফসাইডের ফন্দি ভেদ করে দারুণ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে পাকিস্তান গোলরক্ষক ইউসুফকে বোকা বানিয়ে স্কোরলাইন ২-০ করেন ২১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। একের পর এক আক্রমণে কোণঠাসা হয়ে পড়া পাকিস্তানি রক্ষণভাগ এরপর ৩১ মিনিটে ফের বড় ধাক্কা খায়। কিপগেনের জোরালো শট আটকাতে গোলপোস্ট ছেড়ে অনেকটা সামনে এগিয়ে এসেছিলেন গোলরক্ষক ইউসুফ, কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি—তৃতীয় গোল হজম করে ম্যাচ থেকে একরকম ছিটকে পড়ে পাকিস্তান।
প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে ব্যবধান কমানোর মোক্ষম সুযোগ পেয়েছিল তারা, কিন্তু পেনাল্টি স্পট থেকে শায়েক দোস্তের দুর্বল শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে বাইরে চলে গেলে হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় দলটিকে।
শেষ মুহূর্তের কামব্যাক ও পাকিস্তানের আক্ষেপ :
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া হয়ে ওঠে পাকিস্তানি শিবির। রক্ষণ সামলে আক্রমণে ওঠার বহু চেষ্টা চালালেও ভারতীয়দের আঁটসাঁট ডিফেন্স ভেদ করা তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। পুরো ম্যাচ জুড়ে ভারতের আধিপত্য থাকলেও শেষ বাঁশির ঠিক আগমুহূর্তে দারুণ কিছু রোমাঞ্চ উপহার দেয় পাকিস্তান। ম্যাচের নির্ধারিত সময় শেষে অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচের মোড় ঘুরে যাওয়ার উপক্রম হয়।
ম্যাচের একদম অন্তিম মুহূর্তে আলি রেজার নিখুঁত ক্রস থেকে দারুণ এক হেডে ব্যবধান কমান নাজিব উল্লাহ। এই গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই বক্সের ভেতর থেকে আলমগীর আলি আরও একটি চমৎকার গোল করে বসেন। হারের ব্যবধান ৩-২ এ নামিয়ে আনার এই দুর্দান্ত লড়াই শেষ মুহূর্তে ভারতীয় শিবিরে কিছুটা হলেও কাঁপুনি ধরিয়ে দিয়েছিল।
তবে অতিরিক্ত সময়ের সেই ঝোড়ো আক্রমণ আর ঘুরে দাঁড়ানোর আকুতি শেষ পর্যন্ত শুধু পাকিস্তানের আক্ষেপই বাড়িয়েছে। জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করার স্বস্তি নিয়ে মাঠ ছেড়েছে ভারত।
সান নিউজ / রাজীব