এক নজরে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬: আয়োজন ও বাস্তবতার চিত্র
📊 সাফ টুর্নামেন্ট: প্রত্যাশা বনাম বাস্তবতা
| ক্ষেত্র | বর্তমান চিত্র | মূল সমস্যা বা চ্যালেঞ্জ |
|
প্রচার ও উন্মাদনা
|
শহরজুড়ে নেই কোনো ব্যানার-বিলবোর্ড
|
বিগত আসরগুলোর মতো নেই কোনো উৎসবের আমেজ
|
|
ব্যবস্থাপনা
|
সাফ সচিবালয় ও বাফুফের যৌথ দায়িত্ব
|
দুই সংস্থার চরম সমন্বয়হীনতা ও তথ্যের ঘাটতি
|
|
মিডিয়া ভোগান্তি
|
দলগুলোর সূচি ও ছবি পেতে হিমশিম
|
পারিশ্রমিক নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে ছবি পাঠাতে অপারগতা
|
|
দলের লক্ষ্য
|
২৩ বছরের শিরোপা খরা কাটানোর মিশন
|
টানা ছয় দিন দল গোপনীয়তায় থাকায় ধোঁয়াশা
|
দক্ষিণ এশীয় ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাকর ও উৎসবমুখর আসর ‘সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ’ মাঠে গরাতে আর মোটে একদিনও বাকি নেই। আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকেই রাজধানী ঢাকায় শুরু হতে যাওয়া এই ছয় জাতির মহাযুদ্ধকে ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের মনে বাঁধভাঙা উল্লাস থাকার কথা থাকলেও, বাস্তবে পুরো চিত্রটি এক্কেবারে উল্টো।
টুর্নামেন্ট শুরুর এই অন্তিম মুহূর্তেও ঢাকা শহরের অলিগলি কিংবা স্টেডিয়ামের চারপাশ দেখে বিন্দুমাত্র বোঝার উপায় নেই যে বংলাদেশের মাটিতে এত বড় একটি আঞ্চলিক ফুটবলের মহাযুদ্ধ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। অতীতে ২০০৩, ২০০৯ কিংবা ২০১৮ সালের সাফ টুর্নামেন্টগুলোতে বাফুফের বর্ণিল সাজসজ্জা, শহরজুড়ে বিশালাকার বিলবোর্ড ও রঙিন ব্যানারের যে জোয়ার দেখা যেত, তার লেশমাত্রও এবার খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
উদ্বোধনী দিনের প্রথম ম্যাচেই মাঠে নামছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান, আর স্বাগতিক বাংলাদেশ লড়বে ভুটানের বিপক্ষে। অথচ এমন একটি হাই-ভোল্টেজ ও আকর্ষণের টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে পুরো স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণ কিংবা শহরের রাজপথে সাফের কোনো প্রচারণার ছিটেফোঁটাও চোখে পড়ছে না।
সাফ ও বাফুফের সমন্বয়হীনতার চোরাবালিতে মিডিয়া ও লজিস্টিকস
এবারের মেগা টুর্নামেন্ট আয়োজনের মূল দায়িত্বে রয়েছে সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (সাফ) সচিবালয়, আর বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) কেবল লজিস্টিক সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু দুই সংস্থার মধ্যকার চরম সমন্বয়হীনতার কারণে শুরু থেকেই হোঁচট খাচ্ছে পুরো ব্যবস্থাপনা।
মালদ্বীপ বাদে ভুটান, শ্রীলঙ্কা, ভারত ও পাকিস্তানের দলগুলো ইতোমধ্যে ঢাকায় পা রাখলেও, তাদের আগমনী মুহূর্তের কোনো ছবি বা প্রয়োজনীয় তথ্য সময়মতো সংবাদকর্মীদের হাতে পৌঁছাতে পারেনি আয়োজকরা। দলগুলোর অনুশীলনের ভেন্যু ও নির্দিষ্ট সময়সূচির মতো জরুরি তথ্যও জানানো হচ্ছে অনুশীলনের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে।
এমনকি বাফুফের এক ক্ষুব্ধ কর্মকর্তা সাফের ওপর দায় চাপিয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, সাফের পক্ষ থেকে পারিশ্রমিক দেওয়া হবে না বলেই তাদের নিজস্ব ফটোগ্রাফারদের পাঠিয়ে এই সংবাদ সংগ্রহের কাজ করানো সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল দুই সংস্থার মধ্যে কোনো ধরনের যোগাযোগ বা বিভ্রান্তি না থাকার দাবি করলেও প্রচারণার এই চরম খরা নিয়ে নিজের হতাশা ঢাকতে পারেননি। গণমাধ্যমকে তিনি জানান যে, সাফের এই আয়োজন নিয়ে তিনিও হতাশ এবং যেমন উন্মাদনা তাঁরা আশা করেছিলেন, তা এখনো দৃশ্যমান নয়। তবে টুর্নামেন্ট গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে উত্তেজনার পারদ চড়বে বলেই তার বিশ্বাস।
২৩ বছরের শিরোপা খরা কাটাতে মরিয়া বাংলাদেশ ও চড়া দামের টিকিট বিতর্ক
আয়োজন নিয়ে যতই অব্যবস্থাপনা আর প্রচারণার ঘাটতি থাকুক না কেন, দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে চলে আসা সাফের ট্রফি খরা এবার ঘুচিয়ে দেওয়ার তীব্র বাসনা নিয়ে মাঠে নামছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
যদিও টুর্নামেন্টের ঠিক আগে টানা ছয় দিন জাতীয় দলকে কঠোর গোপনীয়তায় গণমাধ্যম থেকে দূরে রাখা হয়েছিল, তবুও দলের সামগ্রিক প্রস্তুতি নিয়ে বেশ আশাবাদী বাফুফে সভাপতি। তার মতে, ২০০৩ সালের সোনালী স্মৃতির পর থেকে ট্রফি জয়ের জন্য বারবার চেষ্টা চালিয়েও ভাগ্য সহায় হয়নি, তবে এবার দলের ফুটবলারদের মধ্যে বিজয়ের যে মানসিকতা রয়েছে, তাতে প্রথম ম্যাচ থেকেই তার প্রতিফলন ঘটবে মাঠে।
এদিকে টিকিটের উচ্চমূল্য নিয়ে সাধারণ দর্শকদের মনে ক্ষোভ থাকলেও খেলা শুরু হলে স্টেডিয়ামের গ্যালারি কানায় কানায় পূর্ণ থাকবে বলেই আশা প্রকাশ করছে বাফুফে। তবে মাঠের বাইরে প্রচারণার খরা এবং আয়োজকদের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতা যেভাবে এই টুর্নামেন্টের গায়ে প্রশ্নবোধক চিহ্ন এঁকে দিয়েছে, তা কাটিয়ে খেলোয়াড়েরা মাঠের ফুটবলে কতটা আলো ছড়াতে পারেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়!
সান নিউজ / রাজীব