রাজধানীর কাফরুলে চলন্ত মোটরসাইকেলে ইট নিক্ষেপের ঘটনায় গুরুতর আহত তরুণ সাজিদ চৌধুরী রাফি (২১) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। প্রায় দুই সপ্তাহ মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর সোমবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার জীবনাবসান ঘটে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাফির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং এ পর্যন্ত তিনজনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে পূর্বের বিরোধ বা ব্যক্তিগত শত্রুতার জের ধরে হামলার সূত্র পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
নিহতের পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। টানা ১৩ দিন চিকিৎসা চললেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ৯ জুন গভীর রাতে। কাফরুল এলাকার পূর্ব শেওড়াপাড়ার একটি সড়কে মোটরসাইকেলে চলাচলের সময় রাফিকে লক্ষ্য করে ইট ছুড়ে মারা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। আঘাতে তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর জখম হন।
পরবর্তীতে ঘটনার একটি সিসিটিভি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, মোটরসাইকেলে থাকা অবস্থায় একজন যুবকের দিকে ইট নিক্ষেপ করা হলে তিনি ভারসাম্য হারিয়ে সড়কে পড়ে যান। পরে স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং হামলার সঙ্গে জড়িত অন্য কেউ থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে তরুণ রাফির মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আলোচিত এই ঘটনার দ্রুত বিচার এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।