'আগের সরকারের অপরিকল্পিতভাবে বিতরণ লাইন সম্প্রসারণের খেসারত এখন জনগণকে দিতে হচ্ছে।'
দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালন সক্ষমতা থাকলেও অনেক এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকার জন্য বিতরণ ব্যবস্থার দুর্বলতাকে দায়ী করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
আজ শুক্রবার রাজধানীর আফতাবনগরে ন্যাশনাল লোড ডিসপ্যাচ সেন্টার (এনএলডিসি) পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমানে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় বড় কোনো ঘাটতি নেই।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘বিগত সরকার প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিলেও সে সময় প্রয়োজনীয় কারিগরি পরিকল্পনাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। একটি আদর্শ বিতরণ লাইনের দৈর্ঘ্য ৩০ থেকে ৩৫ কিলোমিটারের মধ্যে থাকা উচিত হলেও পল্লী বিদ্যুতের অনেক লাইন ৯০ থেকে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বিতরণ ব্যবস্থার এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানের উপায় খুঁজতে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ (পিজিসিবি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ বিদ্যুৎ চাহিদা এবং নতুন বিদ্যুৎ উৎস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার প্রস্তুতিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতি চলছে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে আগস্টে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করার কথা বলা হলেও পুরো ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল করতে আরও কিছু সময় লাগবে। সে কারণে নভেম্বরের মধ্যে ইউনিটটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।’
বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি ও ক্যাপাসিটি চার্জের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ক্যাপাসিটি চার্জের মাধ্যমে দেশের ওপর বড় ধরনের আর্থিক বোঝা সৃষ্টি হয়েছে। তবে এসব চুক্তি রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টির আওতায় হওয়ায় নতুন সরকার চাইলেই তা বাতিল করতে পারে না। বর্তমানে আইন মন্ত্রণালয় চুক্তিগুলো পর্যালোচনা করছে এবং আইনগত সুযোগ থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘বিদ্যমান চুক্তিগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হলে আইনগত ও কারিগরি সব দিক বিবেচনায় নিতে হবে। কারণ তড়িঘড়ি কোনো সিদ্ধান্ত নিলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।’
সান নিউজ/ জামান